শরতের আশ্বিন মাসে প্রকৃতিতে থাকার কথা শীতলতার আমেজ। কিন্তু নীলফামারীর সৈয়দপুরে দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। গত তিন দিন ধরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তীব্র রোদ ও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মানুষ। রোদের তাপে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে। ফলে দিনের বেলায় শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মানুষের চলাচল কমে গেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, আশ্বিন যেন চৈত্রের রূপ ধারণ করেছে।
সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে রোদের তীব্রতা। দুপুরে রাস্তাঘাট ও খোলা জায়গায় অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত গরমের কারণে কর্মজীবী মানুষও পড়েছেন ভোগান্তিতে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়েছে বেশি। জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদ উপেক্ষা করেই রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যান চালাতে হচ্ছে তাঁদের। অন্যদিকে, গরমের কারণে যাত্রী কমে যাওয়ায় আয়ও কমেছে।
সৈয়দপুরের রিকশাচালক আহমেদ আলী বলেন, “রোদের মধ্যে গা পুড়ে যায়। তারপরও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে পরিশ্রম করতে হচ্ছে। রোদকে ভয় করলে তো সংসার চলবে না। তাই কষ্ট হলেও রিকশা চালাচ্ছি।”
অটোরিকশাচালক জোবায়ের বলেন, রোদের কারণে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। এতে যাত্রী কমে গেছে, কমেছে আয়ও। ফলে তাঁদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে।

শহরের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, তীব্র রোদ থেকে বাঁচতে কর্মজীবী মানুষ গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। কেউ কেউ নিজেদের বাহনের ওপর বসেই ক্লান্তি দূর করার চেষ্টা করছেন। বয়োবৃদ্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আশ্বিন মাসে এ ধরনের টানা তীব্র রোদ আগে খুব একটা দেখেননি তাঁরা। শরতের মেঘ-বৃষ্টি ও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক আবহাওয়ার পরিবর্তে দিনের বেশির ভাগ সময় কড়া রোদ থাকায় জনমনে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
তীব্র রোদে বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হুদা বলেন, আবহাওয়ার এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকা উচিত। শীতের আগমনের আগে কড়া রোদের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকতে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।