রামায়ণ, মহাভারতসহ নানা পৌরাণিক কাহিনির চরিত্র ও ধর্মীয় আখ্যান ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাগেরহাটের কয়েকটি দুর্গাপূজামণ্ডপে। মাটির প্রতিমা আর শিল্পীদের নিপুণ কারুকাজে মণ্ডপগুলো যেন পরিণত হয়েছে পৌরাণিক ইতিহাসের জীবন্ত প্রদর্শনীতে। কোথাও তিন শতাধিক, কোথাও দেড় শতাধিক প্রতিমার বর্ণিল আয়োজন ঘিরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
জেলার চিতলমারী উপজেলার চণ্ডীভিটা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে এবার তৈরি করা হয়েছে প্রায় তিন শতাধিক প্রতিমা। বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় উপাখ্যানের চরিত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে মন্দির প্রাঙ্গণ। দেব-দেবীসহ নানা পৌরাণিক চরিত্রের প্রতিমা দেখতে এখানে সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা।
একই উপজেলার পঞ্চপল্লী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরেও এবার প্রতিমার সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, বাগেরহাট সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চুলকাটি বণিকপাড়া সার্বজনীন দুর্গামণ্ডপে ১৫১টি প্রতিমা নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ থিমপূজার। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলিযুগের বিভিন্ন ধর্মীয় আখ্যান এবং দেব-দেবীর প্রতিমা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।
চুলকাটি বণিকপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক কমল সাধু বলেন, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ১৫১টি প্রতিমা নিয়ে ব্যতিক্রমী থিমপূজার আয়োজন করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় পূজামণ্ডপ হিসেবে পরিচিত এ আয়োজনে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
এদিকে, শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, জেলায় মোট ৫১১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য মানদণ্ড বিবেচনায় মণ্ডপগুলোকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা থাকবে। পাশাপাশি টহল দল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।