দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি গেট থেকে রেলক্রসিং হয়ে বড়পুকুরিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ও তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শত শত যানবাহন ও পথচারী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রেলক্রসিং এলাকায় যানবাহন আটকে গিয়ে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি গেট থেকে রেলক্রসিং হয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ফুট এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বেল্ট পর্যন্ত আরও প্রায় ২০০ ফুট সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচের আস্তরণ উঠে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের নিচের মাটি বেরিয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি জমে সড়কের গর্তগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ সড়ক দিয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকা থেকে পার্বতীপুর, মধ্যপাড়া, ফুলবাড়ী, সৈয়দপুর, দিনাজপুর, রংপুর ও নীলফামারীসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পণ্য পরিবহন ও যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জহির বানিয়া বলেন, সড়কের একটি অংশের প্রায় আট শতক জমির মালিকানা নিয়ে দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে শিবনগর ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামের বাসিন্দা ডা. স্বপনের মামলা চলছে। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন। এ কারণে সওজ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার করতে পারছে না বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জমির মালিক জায়গাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে দিতে রাজি থাকলেও সওজ সেটি সরকারি প্রক্রিয়ায় কিনে নিচ্ছে না। ফলে সড়কটির সংস্কারও আটকে আছে।
পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী সড়কের বাসচালক আশরাফুল হক বলেন, ‘বর্তমানে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। বৃষ্টি হলে গাড়ি বড় বড় গর্তে পড়ে যায়। রাতের বেলায় সড়কটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।’
বড়পুকুরিয়া বাজারের মেসার্স জেমস ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. হারুনুর রশিদ মুকুল বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে যেতে হচ্ছে। সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে মোটরসাইকেল নিয়েও চলাচল করা কঠিন।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি শুধু বড়পুকুরিয়া বাজারের মানুষের জন্য নয়, আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। দ্রুত সংস্কার না হলে বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমির মালিকের সঙ্গে সওজের মামলা চলছে। মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন। জমির মালিক সড়কের ওই অংশে কাজ করতে বাধা দিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, ‘সওজের ছয় ফুট জায়গা রয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবে বসার চেষ্টাও করা হয়েছে। কাজের জন্য বরাদ্দ থাকলেও মামলা ও জায়গা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে টেন্ডার পর্যন্ত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি মন্ত্রী মহোদয়কেও অবহিত করা হয়েছে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের এই কর্মকর্তা আরও জানান, আইনি জটিলতা নিরসন হলে সড়কটির সংস্কারকাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।