আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও ধর্মীয় বয়ানের মধ্য দিয়ে নীলফামারীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা। সদর উপজেলার ঐতিহাসিক দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল মাঠে আয়োজিত এ ইজতেমায় দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইজতেমার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মুসল্লিদের আগাম উপস্থিতির কারণে বুধবার সন্ধ্যায় বিশেষ আম বয়ানের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়।
বিদেশি মেহমান ও মুরুব্বিদের বয়ান
তাবলিগ জামায়াত আয়োজিত এ ইজতেমায় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, সুদান ও সৌদি আরব থেকে আসা ১২ জন বিদেশি নাগরিক অংশ নিয়েছেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া ঢাকা থেকে আসা বাংলাদেশ তাবলিগ জামায়াতের শূরা সদস্য মাওলানা মুনির বিন ইউসুফসহ প্রবীণ মুরুব্বিরা ইজতেমায় উপস্থিত রয়েছেন। মাঠে মানবকল্যাণ, দ্বীনের দাওয়াত, কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবনযাপন এবং পরকালের মুক্তির বিষয়ে বয়ান ও নসিহত চলছে।
মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি
ইজতেমাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার থেকেই নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের জেলা থেকে মুসল্লিরা আসতে শুরু করেন। বুধবারের মধ্যে ইজতেমা মাঠ ও আশপাশের এলাকা মুসল্লিদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে।
জেলা তাবলিগ জামায়াতের আমির (অব.) অধ্যাপক দিদারুল ইসলাম জানান, মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে বুধবার সন্ধ্যায় বয়ান শুরু করতে হয়েছে। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে ইজতেমা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিরাপত্তায় ১৮৪ পুলিশ সদস্য
ইজতেমা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন।
নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খান জানান, ইজতেমার নিরাপত্তায় ১৮৪ জন পুলিশ সদস্যকে দুটি সেক্টরে ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।
শনিবার আখেরি মোনাজাত
আয়োজকদের সূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ক্ষমা প্রার্থনা করা হবে।