রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক দিন পর সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। সেন্টারের মূল ফটকের বাইরে অস্থায়ীভাবে টেবিল-চেয়ার বসিয়ে চলছে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সেন্টারের সামনে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেন্টারের গেটে ব্যানার টানিয়ে টিকাদানের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বসেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিভিন্ন বয়সী শিশুদের নিয়ে মায়েরা সেখানে আসছেন। সড়কের পাশে অস্থায়ী ব্যবস্থাতেই শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
তবে খোলা জায়গায় এভাবে টিকা দিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, অভিভাবক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
দেড় বছর বয়সী মেয়ে হালিমাকে টিকা দিতে আসা এক মা বলেন, ‘মেয়েকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছি। বাসার কাছে হওয়ায় আগেও এখান থেকে টিকা দিয়েছি।’
ইসরাত নামের আরেক নারী বলেন, ‘আমার মেয়ের আগামী মাসে টিকা দেওয়ার তারিখ আছে। আগের টিকাটিও রাড্ডা থেকে দিয়েছি। তাই জানতে এসেছিলাম, আগামী মাসে এখান থেকে টিকা দেওয়া হবে কি না। তাঁরা জানিয়েছেন, টিকা দেওয়া হবে।’
তিন মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে আসা আয়েশা বেগম বলেন, ‘আগেরবার ঘরের ভেতরেই টিকা দেওয়া হয়েছে। এবার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকায় বাচ্চার কষ্ট হচ্ছে। গরম লাগছে, কান্নাকাটি করছে।’
রাড্ডা সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে কর্মসূচি শুরু হয়, যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলার কথা। বেলা সাড়ে ১টা পর্যন্ত প্রায় ১২০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ‘সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আমরা হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছি। সেন্টারের আশপাশের শিশুদের টিকা নিতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের সেবা চালু রাখার চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক শিশু আসবে। সে জন্য ফাঁকা জায়গাতেই আমরা অস্থায়ীভাবে ব্যবস্থা করেছি। টিকাদান কার্যক্রম চলছে। তবে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা আপাতত আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেলেও শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম চালু রাখার এ উদ্যোগে সেবা কার্যক্রমের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চিত্র উঠে এসেছে।