‘ফ্যাসিবাদ, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস যারা করে, বাংলাদেশের মাটিতে তাদের ঠাঁই নেই’—মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, অতীতে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে, তারা এখনো তা করার চেষ্টা করছে। তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করা হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুর পৌর শহরের শফির মিয়ার বাজার এলাকায় জেলা বিএনপি আয়োজিত মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমসাময়িক প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের একই মূল বক্তব্য উঠে এসেছে।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফ্যাসিবাদ, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। তাঁর দাবি, জনগণের অর্থ লুটপাটের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডও ঘটানো হয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে বক্তব্য না দিয়ে যাঁরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘সাহস থাকলে, বুকের পাটা থাকলে, এখনই আসেন। আপনাদের জন্য বিচার প্রস্তুত আছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করতে চাই না।’
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। অভিযুক্তরা বিচারের আওতায় না আসা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এসব কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
সমাবেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি স্লোগান দেন, ‘আপা, আপা করিস না, আপা আর আসবে না।’
জেলা বিএনপির সভাপতি ও জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজিবের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হকসহ দলের নেতারা।
সমাবেশ শেষে সেখান থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালপুর পৌরসভার সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।