জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নদীর তীর সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সাতক্ষীরার বেতনা নদীর তীরে দুই হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন স্থানীয় শিশু ও যুব প্রতিনিধিরা। সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের তেঁতুলডাঙ্গা গ্রামে নদীতীরবর্তী প্রায় সাত বিঘা জমিতে ছয় দিনব্যাপী এ সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
গত ১৪ অক্টোবর শুরু হওয়া কর্মসূচিটি সোমবার (১৯ অক্টোবর) শেষ হয়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তের সার্বিক নির্দেশনায় এবং ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের পৃষ্ঠপোষকতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থা টেরে ডেস হোমসের (Tdh) সহযোগিতায় এবং ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের বাস্তবায়নাধীন ‘স্পিরিট-কল’ (SPiRiT-CALL) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় ৫৪ জন শিশু ও যুব প্রতিনিধি সরাসরি অংশ নেন।
আয়োজকেরা জানান, নদীতীরের মাটি ও পরিবেশের উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কদবেল, তেঁতুল, গোলপাতা, খইবাবলা, বাবলা, কাঁকড়া, বাইন, পবন ঝাউ ও কেওড়া। রোপণ করা চারাগুলো সুরক্ষিত রাখতে বাঁশের বেড়া, খুঁটি ও জালের ঘেরাও দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিবর্তনের নানা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। নদীতীরে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা নদীর পাড় রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, জীবনদক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের সুযোগ করে দিতে শিশু ও যুবকদের এ সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, দলগত কাজের মানসিকতা ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোপণ করা চারাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, ইউনিয়ন পরিষদ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সংস্থা ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ বেতনা নদীর তীরের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজায়ন সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।