পাবনার সুজানগরে নিখোঁজের ৪৫ দিন পার হলেও সন্ধান মেলেনি এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রাহাতের (১৫)। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরদিন বাড়ি থেকে বেশ দূরে পদ্মা নদীর পাড়ে তার ব্যবহৃত বাইসাইকেল ও একজোড়া জুতা পাওয়া যায়। অপহরণের অভিযোগে মামলা হলেও এখনো রাহাতের কোনো হদিস না পাওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের।
রাহাত পাবনার সুজানগর উপজেলার ভায়না গ্রামের বাসিন্দা। সে সাতবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা রাহাতের হঠাৎ নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর উৎকণ্ঠা।
পরিবারের ভাষ্য, গত ৯ আগস্ট বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে বাইসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয় রাহাত। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও এরপর আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে পরদিন সকালে মানিকহাট ইউনিয়নের গুপিনপুর গোরস্তানসংলগ্ন মাজপাড়া ঈদগাহ মাঠের পাশে পদ্মা নদীর পাড়ে তার বাইসাইকেল ও জুতা পড়ে থাকতে দেখেন।
রাহাত নিখোঁজের ঘটনায় ১০ আগস্ট সুজানগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে ১৬ আগস্ট রাহাতের বাবা অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন। পরিবার জানিয়েছে, মামলাটি বর্তমানে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত করছে।
বৃহস্পতিবার পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে রাহাতকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান তার বাবা। তিনি বলেন, ৪৫ দিন ধরে ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে তারা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
রাহাতের পরিবার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে তাকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।