শিরোনাম

কলারোয়ায় নবম শ্রেণির ছাত্রীর বাল্যবিবাহের আয়োজন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ

কলারোয়ায় নবম শ্রেণির ছাত্রীর বাল্যবিবাহের আয়োজন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৪ বছর ১১ মাস বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিবাহের আয়োজন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবার কাছ থেকে ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহের উদ্যোগ না নেওয়ার মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর ভাদিয়ালী এলাকার ফুলতলা বাজারসংলগ্ন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই কিশোরী ভাদিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা জানান, কিশোরীর পরিবার বিয়ের আয়োজন করছে জানতে পেরে তিনি বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। কিশোরীর জন্মসনদ অনুযায়ী তার বয়স ১৪ বছর ১১ মাস।

পরিবারের পক্ষ থেকে একই উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়নের বাকসা (তাঁতীপাড়া) গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে আমির হোসেনের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের নির্দেশনায় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের অফিস সহকারী মোখলেছুর রহমান ও আক্তারুল ইসলাম, সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা খাতুন, দফাদার এবাদুল ইসলাম ও কয়েকজন গ্রামপুলিশ ঘটনাস্থলে যান।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের আয়োজনের সত্যতা পান। পরে কিশোরীর বয়স যাচাই করে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী তার বিয়ের বয়স হয়নি বলে নিশ্চিত হন।

এ সময় কিশোরীর বাবা বাল্যবিবাহের আয়োজনের বিষয়টি স্বীকার করেন। ভবিষ্যতে মেয়ের বাল্যবিবাহ দেবেন না এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না—এমন অঙ্গীকার করে তিনি লিখিত মুচলেকা দেন। পরে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নজরদারি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর