নীলফামারীতে কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মোস্তাকিম বিল্লাহকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে লালমনিরহাট সদর থানার তিস্তা ব্রিজ টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মোস্তাকিম বিল্লাহ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার উত্তর পারুলিয়া গ্রামের মো. নুরুজ্জামানের ছেলে। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে এসআরবি-১৩-এর সিপিসি-২-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অধিনায়কের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে মোস্তাকিমের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের সূত্র ধরে তাঁরা নীলফামারীর বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানে একসঙ্গে ঘোরাফেরা করতেন।
এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ জুন তাঁরা নীলফামারীর উদয়ন পার্কে যান। সেখানে একটি কক্ষে বিশ্রাম নেওয়ার সময় মোস্তাকিম ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য এবং সম্পর্ক বজায় রাখার আশ্বাস দিয়ে তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে বিয়ের আশ্বাসের বিষয়টি ব্যবহার করে একাধিকবার ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী বিয়ের জন্য চাপ দিলে মোস্তাকিম তা প্রত্যাখ্যান করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও মোস্তাকিম আত্মগোপনে চলে যান। এরপর গত ১৬ আগস্ট ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে নীলফামারী সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ২৭।
মামলা দায়েরের পর প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় এসআরবি-১৩। একপর্যায়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সিপিএসসি রংপুর ও সিপিসি-২ নীলফামারী ক্যাম্পের সদস্যরা তিস্তা ব্রিজ টোল প্লাজা এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মোস্তাকিম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে এসআরবি।
গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নীলফামারী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবি-১৩ জানিয়েছে, ধর্ষণ, অপহরণ, হত্যা এবং নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।