শিরোনাম

বদরগঞ্জে হাতকড়াসহ পালালেন মাদকসহ আটক বিএনপি নেতা

বদরগঞ্জে হাতকড়াসহ পালালেন মাদকসহ আটক বিএনপি নেতা

রংপুরের বদরগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে মাদকসহ আটকের পর হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মমতাজুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পর হাতকড়া উদ্ধার হলেও তাঁকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মমতাজুর রহমান ওই ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশের একটি দল শিবপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মাদকসহ মমতাজুর রহমানকে আটক করে তাঁর হাতে হাতকড়া পরানো হয়। পরে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় তিনি কৌশলে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর তাঁকে আটকের চেষ্টা শুরু করে পুলিশ। গভীর রাতে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়। তবে মমতাজুর রহমানকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ ও গোলাম মোস্তফা জানান, মমতাজুর রহমান এলাকায় পরিচিত এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের দাবি, তিনি গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।

তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুর রহমান বকুল বলেন, মমতাজুর রহমান একসময় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তবে মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিএনপিতে কোনো স্থান নেই। কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আজিজুল হক বলেন, কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক, জুয়া, হাউজি কিংবা অন্য কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর বিচার হওয়া উচিত। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে রংপুর জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবীউল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বদরগঞ্জ থানার ওসি জাহিদ হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবি পুলিশকে সহায়তা করতে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। গভীর রাতে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর