শিরোনাম

যমুনা সার কারখানায় ৮ মাস পর  ইউরিয়া উৎপাদন

যমুনা সার কারখানায় ৮ মাস পর  ইউরিয়া উৎপাদন

দীর্ঘ প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদনে ফিরেছে জামালপুরের যমুনা সার কারখানা। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিটে কারখানাটিতে পুরোদমে দানাদার ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছে।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন উৎপাদন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দেশের সার কারখানাগুলোর মধ্যে যমুনা সার কারখানায় তুলনামূলক কম খরচে ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব। প্রতি টন ইউরিয়া উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। বিপরীতে বিদেশ থেকে একই পরিমাণ সার আমদানি করতে খরচ পড়ে প্রায় ১ লাখ টাকা।
কারখানাটিতে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব। এ পরিমাণ সারের বাজারমূল্য প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। নিয়মিত উৎপাদন চালু থাকলে গ্যাস বিল ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়েও সরকার প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকা লাভ করতে পারে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, দৈনিক উৎপাদন চালু রাখতে কারখানাটিতে গড়ে আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকার গ্যাসের প্রয়োজন হয়। মাসে গ্যাস বিলসহ আনুষঙ্গিক খরচ প্রায় ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা হলেও নিয়মিত উৎপাদন চললে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লাভ থাকে। তবে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানার প্রিজারভেশন ঠিক রাখতে বয়লার, পাওয়ার প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সচল রাখতে প্রতি মাসে ৬ কোটি টাকার বেশি গ্যাস বিল দিতে হয়। ফলে উৎপাদন বন্ধ থাকা অবস্থায় এই ব্যয় পুরোটাই লোকসানে পরিণত হয়।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরবচ্ছিন্ন ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানায় বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং উৎপাদন সক্ষমতা কমে যায়।
ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি যমুনা সার কারখানায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। পরে ২০২৫ সালে কিছুদিন গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি আবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এরপর গত ১৯ সেপ্টেম্বর কারখানায় পুনরায় গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। এতে প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহার হলেও কোনো ইউরিয়া উৎপাদন করা যায়নি।
কারখানার বিভাগীয় প্রধান (অ্যামোনিয়া ও ইউটিলিটি) মো. ফজলুল হক বলেন, “গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারের নির্দেশে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সোমবার তিতাস পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করায় সোমবার রাত ৩টা ১০ মিনিট থেকে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে।”
যমুনা সার কারখানা জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় ইউরিয়া সার সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সার কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। তবে যান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কারখানায় ১৯৯১ সাল থেকে ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন পর উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলে ইউরিয়া সারের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষকদের চাহিদা পূরণে কারখানাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যমুনা সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন বলেন, কারখানাটি পুনরায় সচল করতে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিসিআইসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার জন্য তারা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
 

আপনার মতামত লিখুন
সর্বশেষ সব খবর
জনপ্রিয় সব খবর