স্পোর্টিং লিসবনের সুইডিশ স্ট্রাইকার ভিক্টর গ্যাকারেস চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপিয়ান ফুটবলে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি। ২০২৪–২৫ মৌসুমে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর এবার তিনি নিজেই ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। প্রিমিয়ার লিগের তিনটি বড় ক্লাব—আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং লিভারপুল—তাকে দলে নিতে মরিয়া।
গত মৌসুমে স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে গ্যাকারেস ৫২ ম্যাচে ৪৩টি গোল এবং ১৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন। শুধু লিগে নয়, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাতেও তিনি নজর কেড়েছেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। শক্তিশালী ফিনিশিং, শারীরিক শক্তি এবং গোলে নজরদারি গ্যাকারেসকে ইউরোপের সেরা স্ট্রাইকারদের কাতারে তুলে এনেছে।
সম্প্রতি একাধিক ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গ্যাকারেস ক্লাব সভাপতিকে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর স্পোর্টিংয়ে খেলতে চান না। প্রিমিয়ার লিগে খেলাই তার মূল লক্ষ্য, বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলে। সূত্র বলছে, তিনি ইতোমধ্যে পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও জানিয়ে দিয়েছেন—তিনি ইংল্যান্ডে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গ্যাকারেসের বর্তমান চুক্তিতে একটি রিলিজ ক্লজ রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ইউরো। স্পোর্টিং ক্লাব স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই পুরো পরিমাণ না পেলে তারা তাকে ছাড়বে না। যদিও কিছু আগে গুঞ্জন ছিল যে, ৬০ মিলিয়ন ইউরো অফার করলেই চুক্তি হতে পারে, তবে ক্লাবের সাম্প্রতিক কড়া অবস্থানের কারণে আলোচনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
আর্সেনাল ইতিমধ্যে গ্যাকারেসের জন্য প্রায় ৬০ মিলিয়ন ইউরোর একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যা স্পোর্টিং প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্লাবটি আবারো প্রস্তাব বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশগ্রহণ নিশ্চিত, যা গ্যাকারেসের জন্য বড় প্রলুব্ধকারী হতে পারে।
ম্যান ইউ গ্যাকারেসকে দলে নিতে আগ্রহী। তার এজেন্টের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কোচিং স্টাফের পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা থাকলেও চূড়ান্ত প্রস্তাব এখনো দেওয়া হয়নি।
লিভারপুল গ্যাকারেসকে একটি বিকল্প স্ট্রাইকার হিসেবে দেখছে, কারণ আলেক্সান্ডার ইসাকের ট্রান্সফার সম্ভবত ভেস্তে যাচ্ছে। তবে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়নি।
স্পোর্টিং লিসবন আগামী ১ জুলাই থেকে তাদের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছে। গ্যাকারেস সেই প্রস্তুতিতে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, খেলোয়াড় হয়তো ক্লাবের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে অনুশীলন বর্জনের পথ বেছে নিতে পারেন।
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| খেলোয়াড়ের ইচ্ছা | ক্লাব ছাড়তে চান, প্রিমিয়ার লিগে যেতে আগ্রহী |
| স্পোর্টিংয়ের অবস্থান | ৮৫ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজে অনড় |
| আর্সেনালের অবস্থান | ৬০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে |
| ম্যান ইউনাইটেড | আগ্রহী, তবে প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত নয় |
| লিভারপুল | বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে |
| সম্ভাব্য সমাপ্তি |
জুলাইয়ের আগে সিদ্ধান্ত না হলে দ্বন্দ্ব বাড়তে পারে |
ভিক্টর গ্যাকারেসের ট্রান্সফার সাগা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপিয়ান ফুটবলের বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে। তিনি কোথায় যাবেন—আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড না লিভারপুল? নাকি থেকে যাবেন স্পোর্টিংয়ে? উত্তরটি পেতে নজর রাখতে হবে জুলাইয়ের শুরুতে ক্লাবগুলোর আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডের দিকে.
দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানরত জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান–এর দেশে প্রত্যাবর্তন ও জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আবারও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার দলে ফেরা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও প্রত্যাশা তৈরি হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাকিবের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছিলেন, যা আলোচনাকে আরও জোরদার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে ফিরতে পারেন এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে অংশ নিতে পারেন। তবে সাকিব নিজেই এ তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছেন। এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক পরিচালক জানিয়েছেন, তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাকিব জাতীয় দলে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং বোর্ড পরিচালকদের সম্মতিক্রমে তাকে দলে ফেরানোর বিষয়ে নীতিগত সমর্থন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলা ও অন্যান্য আইনি বিষয় প্রসঙ্গে বিসিবি সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরকারের কাছে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করবে। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, অচিরেই বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে নিষ্পত্তির পথে অগ্রসর হবে।
বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বরং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশকে আরও একটি বৈশ্বিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বিসিবির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পরিস্থিতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে আইসিসি স্পষ্ট করে জানায়, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়াকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে দেখলেও এর জন্য বিসিবির ওপর কোনো আর্থিক, প্রশাসনিক বা খেলাসংক্রান্ত জরিমানা আরোপ করা হবে না। আইসিসি আরও জানায়, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বিসিবির অবস্থান তারা নোট করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে সংস্থা সতর্ক থাকবে। একই সঙ্গে আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে যাওয়ার অধিকার বিসিবির জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ঐতিহ্য, বৃহৎ সমর্থকগোষ্ঠী এবং বৈশ্বিক ক্রিকেটে দেশের অবদান তুলে ধরে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট জাতি হিসেবে বিবেচনা করেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০৩১ সালের আগেই বাংলাদেশে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংস্থার প্রচলিত নীতিমালা ও আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়ার আওতায় বাস্তবায়িত হবে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সনযোগ গুপ্তা বলেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি হতাশাজনক হলেও এটি বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। পোখারার রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের ৩ মিনিটে মামনি চাকমার কর্নার থেকে প্রতিমা মুন্দা প্রথম গোল নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে কোচ পিটার বাটলার দুটি পরিবর্তন আনার পর দলের আক্রমণ আরও শক্তিশালী হয়, এবং আলপি আক্তার ফ্রি কিক থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন। দ্বিতীয়ার্ধে আলপি আক্তার আরও দুটি গোল করেন, ৬৭ মিনিটে এবং ৮২ মিনিটে ক্রানুসিং মারমার ক্রস থেকে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন। রাউন্ড রবিন লিগের সব তিনটি ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সেরা অবস্থানে থাকলো বাংলাদেশ, ভারতের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। শনিবার এই দুই দল শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে।