খুলনা

ছবি: প্রতিনিধি
খুলনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ

খুলনায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির কারণে নগরবাসীর নিরাপত্তাহীনতা, খুন, ছিনতাই, চুরি ও মাদক কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এবং পরিস্থিতি উন্নয়নের দাবি জানিয়ে “নিরাপদ খুলনা চাই” উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠান শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় পিকচার প্যালেস মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি সরদার বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী এস এম দেলোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট মোঃ বাবুল হাওলাদার। এতে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাবু, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুর রহমান, সাংবাদিকরা, নাগরিক নেতারা এবং সংগঠনের অন্যান্য কার্যনির্বাহী সদস্যরা। বক্তারা বলেন, ২৪ সালের জুলাই পরবর্তী খুলনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির পথে। খুন, চুরি, রাহাজানি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র প্রদর্শন প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। প্রশাসনের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়। রাজনৈতিক দলগুলোও সন্ত্রাস দমনে যথাযথ ভূমিকা নিচ্ছে না। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি যেমন নাগরিকদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে, তেমনি খুলনার ব্যবসা ও অর্থনীতিকেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।  

খুলনা জানুয়ারী ১৭, ২০২৬ 0
ন্যায়বিচারের দাবিতে কুয়েট প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীর ২৪ ঘণ্টা অবস্থান

ন্যায়বিচারের দাবিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রশাসনিক ভবনের সামনে টানা ২৪ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারী) বিকেল ৩টা থেকে প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে একাকী এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ডক্টর এম এ রশিদ হলের ১১৫ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে মারাত্মকভাবে নির্যাতন করে। নির্যাতনের পর তার বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ওই মামলায় তাকে ৫২ দিন কারাভোগ করতে হয়। পরে তিনি মামলাটি থেকে অব্যাহতি পেলেও মানসিক ট্রমা ও আতঙ্কের কারণে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে ফিরতে পারেননি। জাহিদুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও সেই তদন্ত ছিল অস্পষ্ট ও একপেশে। তদন্ত প্রতিবেদনে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছাত্রদের নাম উঠে এলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তা তাকে রক্ষা করার কথা ছিল, তারাই পরে মিথ্যা মামলার সাক্ষী হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি ভিকটিম হওয়া সত্ত্বেও কুয়েট প্রশাসন আমার পাশে দাঁড়ায়নি। বরং ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আমার নামে মিথ্যা মামলা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তাদের আজও বিচারের আওতায় আনা হয়নি। শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিচার চেয়ে তিনি একাধিকবার লিখিত আবেদন, মৌখিক অনুরোধ এবং হাইকোর্টের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেও কুয়েট প্রশাসন কোনো জবাব দেয়নি। এমনকি ১৪ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া নোটিশেরও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমার ব্যাচের সবাই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছে। আমি একা লড়ছি। প্রশাসন মামলা করে না, আমাকে মামলা করতেও সহযোগিতা করে না, আবার তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করে না। আমি বিচারহীনতার শিকার। তিনি আরও বলেন, কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাকে বা তার পরিবারকে সরবরাহ করা হয়নি। ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতেও তিনি বাধার মুখে পড়ছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে কী আছে, তা আজও প্রকাশ্যে না আসায় পুরো বিষয়টি অস্বচ্ছ রয়ে গেছে বলে অভিযোগ তার। এর আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কুয়েট প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে জাহিদুর রহমান বলেন, আমি যদি জীবিত থাকি, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে এক বিন্দুও নড়ব না। বিচার না পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব না। এদিকে টানা ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো তার সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা আশ্বাস দেওয়া হয়নি বলে জানান ওই শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 

খুলনা জানুয়ারী ৯, ২০২৬ 0
খাল খননে কৃষি বিপ্লবের আশাবাদ বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলালের

খাল খননের মাধ্যমে সারাদেশে কৃষি বিপ্লব ঘটবে এবং অনাবাদি জমি আবার উৎপাদনের আওতায় আসবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে তেরখাদা মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে কৃষক দলের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজিজুল বারী হেলাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপি সরকার গঠন করলে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, মৎস্য খাত সম্প্রসারিত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া অঞ্চলে পানির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে। খাল খননের মাধ্যমে এসব এলাকায় কৃষি ও মৎস্য চাষের সম্ভাবনা তৈরি করা হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, তিনি আজ শুধু একটি দলের নেত্রী নন, সকল রাজনৈতিক দল ও ধর্মের মানুষের কাছে ঐক্যের প্রতীক। নারী ক্ষমতায়ন ও নারীর রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয়। পরে সন্ধ্যায় তেরখাদার সাচিয়াদাহ বাজারে আয়োজিত আরেক দোয়া মাহফিলেও প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন আজিজুল বারী হেলাল।

খুলনা জানুয়ারী ৭, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি
গণতন্ত্র, উদারতা ও সংসদীয় ব্যবস্থার প্রতীক ছিলেন খালেদা জিয়া

খুলনা প্রেসক্লাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালেও মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজনের এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। অধ্যাপক পরওয়ার বলেন, “ক্ষমতার অহংকার ও কর্তৃত্ববাদ শেষ পর্যন্ত শাসকের অপমানজনক পরিণতি ডেকে আনে। গণতান্ত্রিক উদারতা একজন নেতাকে ইতিহাসে সম্মানের আসনে বসায়। বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনীতি তার প্রমাণ।” তিনি আরও বলেন, শাসনামলে খালেদা জিয়া ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল ছিলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও সন্ত্রাস দমনসহ দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন। শোকসভায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। সভা শুরু হয় কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে, পরিচালনা করেন এমইউজে খুলনার সহ-সভাপতি মো. নূরুজ্জামান।

খুলনা জানুয়ারী ৩, ২০২৬ 0
খুলনা-৪ আসনে চার প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, একজনের বাতিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে খুলনা অঞ্চলের কয়েকটি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া) আসনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইউনুস আহম্মেদ শেখ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের এস কে আজিজুল বারী, খেলাফত মজলিসের এস এম সাখাওয়াত হোসাইন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. কবিরুল ইসলাম। এক স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আজমল হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১% ভোটারের সমর্থন সূচক স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর আগে খুলনা-৩ আসনে তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনেও তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের তৃতীয় দিনে খুলনা-৫ ও খুলনা-৬ আসনে মোট ১২ প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ, ৩ জন বাতিল এবং ১ জনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারণের পর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

খুলনা জানুয়ারী ৩, ২০২৬ 0
সর্বাধিক পঠিত

শীর্ষ সপ্তাহ

ছবি: প্রতিনিধি
বাংলাদেশ

বাগেরহাটের আড়পাড়ায় জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষে আহত ১৫, আটক ৬

বাগেরহাট ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0