রাজধানীর বায়ুদূষণ বিশ্বমানের তুলনায় বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, শনিবার (১০ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকার বাতাসের স্কোর ৩৩২, যা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত।
সবচেয়ে দূষিত বাতাস দেখা দিয়েছে ধানমণ্ডি এলাকায়, যেখানে স্কোর ৪৭৯। উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর (৪২২), দক্ষিণ পল্লবী (৪০২), বেচারাম দেউড়ি (৩৭৪) ও মাদানি সরণি–বেজ এজওয়াটার (৩২২) এলাকায় বাতাসের মান ‘দুর্যোগপূর্ণ’ পর্যায়ে রয়েছে। গুলশান, গোড়ান, পীরেরবাগ রেললাইন ও তেজগাঁওয়ের কিছু এলাকায় বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে।
ঢাকার পার্শ্ববর্তী সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও বাতাসের মান ‘দুর্যোগপূর্ণ’। গাজীপুরের শ্রীপুরে দেশের সবচেয়ে দূষিত বায়ু বিরাজ করছে, এখানে একিউআই স্কোর ৬৪৫। কাপাসিয়াতেও বাতাসের মান ভয়াবহভাবে দূষিত (৪৬১)।
আইকিউএয়ারের অনুযায়ী, স্কোর ০–৫০ হলে বায়ু ভালো, ৫১–১০০ সহনীয়, ১০১–২০০ অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ ধরা হয়।
পঞ্চগড়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে পঞ্চগড় জজ কোর্ট এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইন, সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন, জাগপা নেতা কামাল হোসেন পাটোয়ারী, এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির আসাদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। বক্তারা অভিযোগ করেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং গণভোট বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারা বলেন, জনগণের ভোটের মর্যাদা রক্ষা না হলে রাজপথ ও সংসদ উভয় জায়গায় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সমাবেশ শেষে নেতারা দ্রুত গণভোট বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম জানান, গত দেড় বছরে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৬১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমন এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত অভিযান চলছে। করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। অভিযানে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৯৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি ফাঁদ জব্দ এবং ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল ও রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু চক্র আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” পরিচালনা করা হচ্ছে। সংস্থাটি আরও জানায়, সুন্দরবন সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের মিশ্র ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা ডিজিটাল শিক্ষার পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়। শিক্ষকরা নির্ধারিত শ্রেণিকক্ষ থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পাঠদান করেন, আর শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসা থেকে অনলাইনে অংশগ্রহণ করে। শিক্ষা কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে অনলাইন এবং বাকি দিনগুলোতে সশরীরে ক্লাস পরিচালিত হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে কলেজ শাখায় এই ব্যবস্থা চালু হলেও পর্যায়ক্রমে স্কুল পর্যায়েও তা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ডিজিটাল শিক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পাইলট উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সফলতা মূল্যায়নের পর এটি জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।