সোনালি আঁশখ্যাত পাটশিল্পকে পুনরায় ঘুরে দাঁড় করাতে সরকার বহুমাত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এক সময়ের সমৃদ্ধ পাটশিল্প বর্তমানে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা হারালেও তা পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া টেক্সটাইল ও জুট মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং টেন্ডার মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মিলটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শিল্প খাত পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরানোই সরকারের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘ সময় ধরে শিল্প খাতে স্থবিরতা ছিল বলে মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার তা কাটিয়ে উঠতে কাজ করছে।
পাট ও বস্ত্র খাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ মিলগুলোতে বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এ সময় নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম, নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল লতিফসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম জানান, গত দেড় বছরে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৬১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমন এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত অভিযান চলছে। করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। অভিযানে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৯৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি ফাঁদ জব্দ এবং ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল ও রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু চক্র আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” পরিচালনা করা হচ্ছে। সংস্থাটি আরও জানায়, সুন্দরবন সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের মিশ্র ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা ডিজিটাল শিক্ষার পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়। শিক্ষকরা নির্ধারিত শ্রেণিকক্ষ থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পাঠদান করেন, আর শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসা থেকে অনলাইনে অংশগ্রহণ করে। শিক্ষা কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে অনলাইন এবং বাকি দিনগুলোতে সশরীরে ক্লাস পরিচালিত হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে কলেজ শাখায় এই ব্যবস্থা চালু হলেও পর্যায়ক্রমে স্কুল পর্যায়েও তা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ডিজিটাল শিক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পাইলট উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সফলতা মূল্যায়নের পর এটি জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে গুলিশাখালী সিনিয়র ফাজিল স্নাতক মাদ্রাসায় দুইজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে অধ্যক্ষ আব্দুল বারির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় গুলিশাখালী বাজারে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষার্থী-অভিভাবক, জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা অংশ নেন। এ ঘটনায় অভিভাবক আবু বকর খলিফা ও দেলোয়ার হোসেন গাজী বাদী হয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অধ্যক্ষ গোপনে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কমিটি গঠন করেছেন। এছাড়া সম্প্রতি চতুর্থ শ্রেণির দুইজন কর্মচারী নিয়োগে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়। অভিভাবকরা নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ আব্দুল বারি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি, শুধুমাত্র পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।