বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বর্মন পরিবারের উত্তরসূরি সুব্রত প্রসাদ বর্মন (মিঠু) অভিযোগ করেছেন, তাদের পৈতৃক হাবেলী সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) বরিশাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, বর্মন পরিবারের পূর্বপুরুষ জমিদার বিজয় প্রসাদ বর্মন বেনিসিংহের হাবেলী এলাকায় বিস্তীর্ণ জমির মালিক ছিলেন। মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিন পুত্র—দেবপ্রসাদ (শান্তি), অনিল প্রসাদ (বরুন) ও সুনীল প্রসাদ (খোকন)—সম্পত্তি পান।
১৯৫৮ সালের ১১ অক্টোবর এসএ ৬৯৫ খতিয়ানের অধীনে কিছু জমি মৌলভী আব্দুস সোবাহানের কাছে হস্তান্তরিত হলেও, দলিলে মনসা মন্দির ও পারিবারিক সমাধিস্থল উপাসনার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে ক্রমিক হস্তান্তরের মাধ্যমে এই জমি স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে চলে যায়। তিনি সংরক্ষিত মনসা মন্দির ও সমাধিস্থলের অংশ ভেঙে নিয়েছেন। সুব্রত প্রসাদ বর্মন বলেন, “দুইশত বছরের পুরনো জাগ্রত মনসা মন্দির ও পূর্বপুরুষদের সমাধি আমাদের সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও এখন আমরা সেখানে যেতে পারি না, পূজা-অর্চনাও করতে পারছি না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসএ ৬৯৫ খতিয়ানের ১২৫৮ দাগের ৭ শতাংশ জমি বিক্রি হয়নি এবং তা বর্তমানে বিএস ৫৪২৯ নং খতিয়ানে তাদের নামে চূড়ান্ত হলেও বাস্তবে ভোগদখল করতে পারছেন না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বরিশালের প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানান, দখলমুক্ত করে পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে।
সুব্রত প্রসাদ বর্মন অভিযোগ করেন, দখলকারীর সঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা। উল্লেখ্য, হাবেলীর ঐতিহ্যবাহী দোতলা প্রাচীরঘেরা বর্মন বাড়িটি ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে।
জামালপুরের বকশীগঞ্জে নকল সিগারেট মজুত ও বিক্রির অভিযোগে বিপুল পরিমাণ সিগারেট জব্দ করে ধ্বংস করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বিকেলে পৌর এলাকার মোদকপাড়া মহল্লায় অভিযান চালিয়ে এসব নকল সিগারেট উদ্ধার করা হয়। পরে জনসম্মুখে তা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অভিযানে উত্তম মোদক (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীকে নকল সিগারেট মজুত ও বাজারজাতের অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জামালপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ২০০ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। তিনি আরও বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাড়ি নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও আর্থিক হয়রানির অভিযোগ তুলে পিরোজপুরের নেছারাবাদে পৌর প্রকৌশল অফিসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী—এ ঘটনায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বরূপকাঠি পৌরসভা-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী মোছা. মৌসুমী আক্তার দাবি করেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে বাড়ি নির্মাণ অনুমোদনের ফাইল আটকে রেখে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকবার অর্থ আদায় করা হয়েছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ধারাবাহিকভাবে অর্থ দিতে হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম চাপের মুখে পড়েন। ঘটনার দিন নতুন করে অর্থ দাবি করা হলে তিনি অফিসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানা যায়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে মো. মহসিন আংশিক অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করলেও নির্দিষ্ট হিসাব বা প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে যান। অন্যদিকে মো. আবুল হোসেন অভিযোগের কিছু অংশ স্বীকার করলেও অতিরিক্ত অর্থ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক অমিত দত্ত বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের কোনো বিধান নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। শীতলক্ষ্যা নদী-এর কেরোসিন ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে বুধবার (৬ মে) সকালে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিহতের বয়স আনুমানিক ৩০ বছর হলেও এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কয়েকদিন পানিতে থাকার কারণে মরদেহে পচন ধরেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ নৌপুলিশ জানায়, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানানো হলেও মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং পরিচয় শনাক্তে পিবিআই কাজ করছে।