বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সি-এমই-ডব্লিউই-৫ এর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আগামী তিন দিনে দেশের ইন্টারনেট সেবায় সাময়িক ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৯ এপ্রিল রাত ১০টা থেকে ১৩ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত কুয়াকাটা অবস্থানকৃত এই ক্যাবলে রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরমুখী সার্কিটগুলো সাময়িকভাবে প্রভাবিত হওয়ায় গতি কমে যাওয়ার বা আংশিক সেবা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল সি-এমই-ডব্লিউই-৪ (কক্সবাজার) এর মাধ্যমে সংযুক্ত সার্কিট সচল থাকায় পুরোপুরি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি নেই।
রক্ষণাবেক্ষণ শেষ হওয়ার পর ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক গতিতে পুনরায় চালু হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বর্মন পরিবারের উত্তরসূরি সুব্রত প্রসাদ বর্মন (মিঠু) অভিযোগ করেছেন, তাদের পৈতৃক হাবেলী সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) বরিশাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, বর্মন পরিবারের পূর্বপুরুষ জমিদার বিজয় প্রসাদ বর্মন বেনিসিংহের হাবেলী এলাকায় বিস্তীর্ণ জমির মালিক ছিলেন। মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিন পুত্র—দেবপ্রসাদ (শান্তি), অনিল প্রসাদ (বরুন) ও সুনীল প্রসাদ (খোকন)—সম্পত্তি পান। ১৯৫৮ সালের ১১ অক্টোবর এসএ ৬৯৫ খতিয়ানের অধীনে কিছু জমি মৌলভী আব্দুস সোবাহানের কাছে হস্তান্তরিত হলেও, দলিলে মনসা মন্দির ও পারিবারিক সমাধিস্থল উপাসনার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে ক্রমিক হস্তান্তরের মাধ্যমে এই জমি স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে চলে যায়। তিনি সংরক্ষিত মনসা মন্দির ও সমাধিস্থলের অংশ ভেঙে নিয়েছেন। সুব্রত প্রসাদ বর্মন বলেন, “দুইশত বছরের পুরনো জাগ্রত মনসা মন্দির ও পূর্বপুরুষদের সমাধি আমাদের সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও এখন আমরা সেখানে যেতে পারি না, পূজা-অর্চনাও করতে পারছি না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসএ ৬৯৫ খতিয়ানের ১২৫৮ দাগের ৭ শতাংশ জমি বিক্রি হয়নি এবং তা বর্তমানে বিএস ৫৪২৯ নং খতিয়ানে তাদের নামে চূড়ান্ত হলেও বাস্তবে ভোগদখল করতে পারছেন না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বরিশালের প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানান, দখলমুক্ত করে পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে। সুব্রত প্রসাদ বর্মন অভিযোগ করেন, দখলকারীর সঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা। উল্লেখ্য, হাবেলীর ঐতিহ্যবাহী দোতলা প্রাচীরঘেরা বর্মন বাড়িটি ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে।
বরিশালের গৌরনদীতে লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে ডিজেল, মবিল ও গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে হালিম সিকদার নামে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনএসআই’র বরিশাল জেলা শাখার সদস্যরা সরিকল ইউনিয়নের চর সরিকল গ্রামে তার দোকান ও বাড়িতে অভিযান চালান। এসময় সেখান থেকে প্রায় ৩০০ লিটার ডিজেল, ২০০ লিটার মবিল ও গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি লাইসেন্স না নেওয়া পর্যন্ত ব্যবসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়। জব্দকৃত জ্বালানি তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির জন্য স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভোররাতে গোলাগুলির ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিরুদ্ধে। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে ধবলগুড়ি বিওপির আওতাধীন আন্তর্জাতিক সীমান্তের পিলার নং ৮৭৪/২-এস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিহত ব্যক্তি মো. আলী হোসেন (পিতা: মৃত আব্দুল গফুর), যিনি পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি (পূর্ব পানিয়ারটারী) গ্রামের বাসিন্দা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় অবস্থানকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রেক্ষাপট যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার (৬ এপ্রিল) একই সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে মো. মিজানুর রহমান নামে আরেক বাংলাদেশি যুবক আহত হন। সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক ঘটনায় সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে।