স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদে উত্থাপিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ বিল-২০২৬ সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, সরকার এখন কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে সন্ত্রাসে জড়িত থাকলে নিষিদ্ধ করতে পারবে। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কার্যক্রম প্রচারও প্রতিরোধ করা যাবে। এছাড়া, নিষিদ্ধ সংগঠন বা দলকে অর্থ, আশ্রয় বা সহায়তা প্রদানে কঠোর শাস্তির বিধান জারি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই আইনের প্রাথমিক সংস্করণ গত বছরের ১১ মে অন্তর্বর্তী সরকার দ্বারা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছিল। তখন সংসদ কার্যকর না থাকায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশে তা কার্যকর করা হয়েছিল। নতুন পাসকৃত বিল এখন সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে সাহায্য করবে।
স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় বিতর্কে হামের মৃত্যুর তথ্য ও টিকা সংকট নিয়ে উত্তাপ দেখা দিয়েছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে হামের বিস্তার, টিকার ঘাটতি ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর বক্তব্য কোনো আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জরুরি বিষয় তুলে ধরা লক্ষ্য। রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, গত ২০ দিনে সন্দেহজনকভাবে ৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, নিশ্চিত মৃত্যু ১৬। তিনি বলেন, প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে একটি শিশুর জীবন, একটি মায়ের কান্না ও পরিবারের ধ্বংসের গল্প রয়েছে। এছাড়া, দেশে ১০ ধরনের টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। ইপিআই কেন্দ্রীয় গুদামে বিসিজি, পেন্টা, ওপিভি, পিসিভি, এমআর ও টিডি টিকার মজুদ শূন্যে নেমে এসেছে। এ বিষয়ে জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সংসদে বলেন, “ডোন্ট গেট নার্ভাস, আই এম ফিট।” তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তথ্য যাচাই ছাড়া আতঙ্ক ছড়ানো ঠিক নয়। মন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও ঝুঁকি নিয়ে মহাখালী সংক্রামক রোগ হাসপাতালে হামের ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন এবং একজন শিশুর মৃত্যুর পর কেঁদেছেন। মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, সরকারের উদ্যোগে টিকার মজুদ পুনর্গঠন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও বিশ্বব্যাংক সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। মন্ত্রী পুনরায় বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং আতঙ্ক ছড়ানো এড়ানোই সরকারের লক্ষ্য।
৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), যেখানে সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ৬৩১ জন প্রার্থী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) কমিশনের জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ নভেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগীয় কেন্দ্রে একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনের অনুমোদনক্রমে প্রকাশিত এ ফলাফল পিএসসির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। পিএসসি জানিয়েছে, প্রকাশিত ফলাফলে প্রয়োজনবোধে সংশোধন আনার ক্ষমতা কমিশন সংরক্ষণ করে। লিখিত পরীক্ষায় সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তী ধাপ হিসেবে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশগ্রহণ করতে হবে, যার সময়সূচি পরবর্তীতে যথাযথ মাধ্যমে জানানো হবে। উল্লেখ্য, প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০ হাজার ৬৪৪ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। এ বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে মোট ৩ হাজার ৬৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যে দেশে ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছাবে। পাশাপাশি অকটেনের সরবরাহ ধরা হয়েছে ৭১ হাজার মেট্রিক টন এবং পেট্রোল আসছে ৩৬ হাজার মেট্রিক টন। তথ্যটি মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তান দাম ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে, শ্রীলঙ্কা রেশনিং ও কাজের সময় কমিয়েছে, এবং ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপালে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাংলাদেশে শিল্প ও জনজীবনের স্বার্থে এপ্রিল মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, “জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি আইন অনুযায়ী মাসিক সমন্বয় করা হয়। গত মাসে দাম বাড়ানো হয়নি। আগামী মাসের সমন্বয় পর্যবেক্ষণ করে মন্ত্রিসভায় আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাতকে সুরক্ষা দিচ্ছে।