পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে দুঃস্থ ও গরীবদের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে নীলফামারী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ। তিনি উপকারভোগীদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু হানিফা শাহ এবং নীলফামারী পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান আজাদও উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে মানবিক সহায়তার জন্য মোট ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। এই অর্থ ৪৫০ জনের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যেখানে প্রতিজনকে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। উপকারভোগীদের তালিকা স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের পরিচিতদের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে।
মোংলা-খুলনা মহাসড়কের গুনাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নৌবাহিনীর বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহত ১৪ জনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে মোংলার ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিহতদের পরিবারকে সাহায্যের অর্থ তুলে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোংলার ৯ জন নিহতের পরিবারকে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং রামপালের মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর খুলনা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল একেএম জাকির হোসাইন, মোংলা দিগরাজ নৌঘাঁটির অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ জুবায়ের শাহীন, বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাস, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি, সহকারী পুলিশ সুপার রাতুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি। অধিকাংশ পরিবার নগদ সহায়তা গ্রহণ করেছেন, বাকী ৪ জন নিহতের পরিবারকে আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ সংঘটিত মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোংলার বিএনপি নেতা আ. রাজ্জাকের পরিবারের ৯ জন, তার নতুন পুত্রবধূসহ একই পরিবারের আরও ৪ জন এবং মাইক্রোবাসের চালক নিহত হন।
বরিশালে র্যাব ৮ এর অধিনায়ক কমান্ডার মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন বলেছেন, ঈদ উপলক্ষে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে তারা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, পেট্রোল জোড়দার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো দুষ্কৃতিকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। র্যাব অধিনায়ক বরিশাল নগরীর বাস টার্মিনাল, বাজার পরিদর্শন ও লঞ্চ যাত্রীদের সঙ্গে আলাপের পর লঞ্চ ঘাটে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির দৌরাত্ম রোধে কাজ চলছে। এছাড়া নগরীর নিরাপত্তা জোরদার করতে সর্বোচ্চ টহল ডেপ্লয় করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, "আমরা বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ ঘাট পরিদর্শন করেছি। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছি, কোনো ধরণের অভিযোগ এখনও পাইনি।" পরিদর্শনে র্যাব ৮ এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে আড়াই শতাধিক গরিব ও দুস্থদের মাঝে আড়াই লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ ২,০০০ টাকা করে প্রতিজনকে বিতরণ করা হয়। এ সময় সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল মাবুদ, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারী মোজাহার আলী, শহর শাখার আমীর শরফুদ্দীন খান ও সাহাবাজ উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পিআইও আব্দুল মাবুদ জানান, অভাবী ও দুস্থদের অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করে এমপি সাহেবের উপস্থিতিতে নগদ অর্থ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর পক্ষ থেকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ঈদ উপহার বিতরণ করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নতুন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় বরিশাল অশ্বিনি কুমার টাউন হলে উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে ১৩৭৮ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর হাতে পাঁচ হাজার টাকা করে তুলে দেওয়া হয়। নতুন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “শহরকে সুন্দর ও পরিস্কার রাখতে হবে। কোনো অন্যায় বা দুর্নীতি সিটি কর্পোরেশনের কাউকে স্পর্শ করতে পারবে না। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করব এবং সকলে মিলে বরিশালকে তিলত্তমা করে গড়ে তুলতে হবে।” ঈদের আগে উপহার হিসেবে নগদ টাকা পাওয়ায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আনন্দিত হন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ার সান্তাহার এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে তিলকপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেনটির অন্তত ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং প্রাথমিকভাবে আটজন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। সান্তাহার স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আপাতত উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতোয়ার রহমান বলেন, আহতদের সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে এবং তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় বগিগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিক ধাপে ১৯ মার্চ আজারবাইজানের রাজধানী বাকু হয়ে প্রায় ২০০ বাংলাদেশিকে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আনা হবে। এ উদ্দেশ্যে তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হককে আজারবাইজানে পাঠানো হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, ইরান থেকে দেশে ফেরত যাওয়া বাংলাদেশিদের প্রথমে সড়কপথে ইরাক সীমান্ত অতিক্রম করে আজারবাইজানে আনা হবে এবং এরপর চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে নীতিগতভাবে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এ অনুযায়ী ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক, দূতাবাসের কর্মকর্তা–কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ মোট প্রায় ৩০০ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রথম ধাপে চার্টার্ড ফ্লাইটে ২০০ জনকে দেশে আনা হবে, যেখানে দূতাবাস কর্মী ও তাঁদের পরিবার অন্তর্ভুক্ত নয়। সূত্ররা জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ মাসের শুরুতেই আজারবাইজানে ইরানের দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ হয়। তাই ইরান থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের ফেরত আনার কার্যক্রম তদারকির জন্য তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাস আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন আজারবাইজান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যাতে অন অ্যারাইভাল ভিসা দ্রুত অনুমোদিত হয়। এ পর্যন্ত আজারবাইজান থেকে ২৭৪ জনের অন অ্যারাইভাল ভিসা অনুমোদিত হয়েছে। যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট নেই, তাঁদের জন্য তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাস ট্রাভেল পাস জারি করেছে। প্রাথমিক ফ্লাইটে দেশে ফিরতে যাওয়া ২০০ জনকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আজারবাইজানের সঙ্গে সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় খড় পোড়ানোর ধোঁয়ায় দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান সড়কের জলুরদিঘী পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাঁশি মোহন দাশ (৫০) লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাশে খড় পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়, ফলে যানবাহনের দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এ অবস্থায় ঈগল পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। একই সময়ে মারসা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি যানবাহন উদ্ধার করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো যাত্রীদের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) ভোর থেকে স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়, যা সময়ের সঙ্গে আরও বৃদ্ধি পায়। পরিবার-পরিজন ও প্রয়োজনীয় মালপত্রসহ যাত্রীরা ভোর থেকেই প্ল্যাটফর্মে জড়ো হতে শুরু করেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক যাত্রী ট্রেনের ভেতরে স্থান না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, অতিরিক্ত যাত্রীচাপ নিয়ন্ত্রণে স্টেশনজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশ, আনসার, গোয়েন্দা সংস্থা এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রবেশপথ ও প্ল্যাটফর্মে তল্লাশি ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে আসনসংখ্যার তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা একে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে যাত্রীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সকালে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস, সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্দুর প্রভাতী এবং নারায়ণগঞ্জ কমিউটার ট্রেন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ছেড়ে গেছে। যাত্রীরা জানান, সড়কপথে অতিরিক্ত ভাড়া ও ভিড়ের কারণে অনেকে ট্রেনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং যাত্রীদের টিকিট অনুযায়ী শৃঙ্খলা বজায় রেখে ভ্রমণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঈদযাত্রার পথে বগুড়ার শেরপুরে যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় চালকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও নয়জন। বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের ছোনকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—শিউলী বেগম (৪৮), তায়েবা খাতুন (৩৫) এবং চালক রিন্টু (৪৭)। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী একটি মাইক্রোবাস ঈদের ছুটিতে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রী বহন করছিল। ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে দ্রুত পুরো যানবাহনে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। এতে ঘটনাস্থলেই চালক অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হন। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করে। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রোকন উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
পবিত্র রমজানে যেখানে ইফতার ৫ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, সেখানে মাত্র ২–৩ টাকায় ইফতার বিক্রি করে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের ক্ষুদ্র ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ৩৩ জন বিক্রেতাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে শহরের ইকু হেরিটেজ হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আলহাজ্ব কুতুবুল আলম চ্যারিটি ফাউন্ডেশন। সংবর্ধিতদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননার ক্রেস্ট, জায়নামাজ এবং আপ্যায়ন করা হয় নৈশভোজে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইরফান আলম ইকু–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন এম আর আলম ঝন্টু। সংবর্ধনা পাওয়া বিক্রেতারা জানান, জীবনে এই প্রথম তাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এমন সম্মাননা দেওয়া হলো। তারা বলেন, রমজানে ইবাদতের নিয়তে কম দামে ইফতার বিক্রি করেছেন, যদিও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কিছুটা লোকসান গুনতে হয়েছে। তবুও এই স্বীকৃতি তাদের সেই ক্ষতি ভুলিয়ে দিয়েছে। চেয়ারম্যান ইরফান আলম ইকু বলেন, “আপনাদের সম্মানিত করতে পেরে আমরা গর্বিত। আপনারা যে মানবিকতার নজির স্থাপন করেছেন, তা সৈয়দপুরের সুনাম সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছে।” প্রধান অতিথি সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক বলেন, “ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়েও আপনারা যে মানবিকতা দেখিয়েছেন, তা বড় ব্যবসায়ীদের জন্যও শিক্ষণীয়। এই উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।” উল্লেখ্য, রমজানজুড়ে সৈয়দপুরে প্রায় ৩৫–৪০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কম দামে ইফতার বিক্রি করেছেন, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য স্বস্তি এনে দেয়। এছাড়া বিনামূল্যে ইফতার ও সেহরি বিতরণে অবদান রাখায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, গরিব চিকিৎসা সেবা সংগঠন এবং আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর–কেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে দ্রুতগামী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্লাবন হোসেন (২৪) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিনগত রাত ১১টার দিকে শহরের ওয়াপদা মোড় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, প্লাবন হোসেন মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ছিল। নিহত প্লাবন হোসেন সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ মোড় এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলীর একমাত্র ছেলে। এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম রেজা জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘাতক ট্রাকটি এলাকাবাসী আটক করলেও চালক পলাতক রয়েছে।
জামিনে মুক্তি পেলেও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম (বিপ্লব) জেলগেট থেকেই পুনরায় আটক হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে লালমনিরহাট জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরপরই কারাগারের ফটকে অবস্থানরত ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে জানা যায়, আদিতমারী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় সোমবার (১৬ মার্চ) লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী তাকে জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিনের নথিপত্র যথাসময়ে কারাগারে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় সেদিন তিনি মুক্তি পাননি। জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই ও আইনজীবী হুমায়ুন কবির জানান, মঙ্গলবার সকালে কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তারা জানতে পারেন, নতুন একটি মামলায় তাকে আটক দেখানো হয়েছে, যেখানে তিনি এজাহারভুক্ত আসামি নন। একই দিন বিকেলে লালমনিরহাটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, আদিতমারী থানা পুলিশের রিকুইজিশনের ভিত্তিতে জেলগেট থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভিজিএফ কার্ডের বরাদ্দ নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সংসদ সদস্যের জন্য ‘থার্টি পারসেন্ট’ বরাদ্দের প্রসঙ্গ উঠে এলেও সংশ্লিষ্ট নেতারা ওই অডিও নিজেদের নয় বলে দাবি করেছেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের এক শিশু সন্তান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর সন্তানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুরে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে বুড়িমারী - লালমনিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে পাটগ্রাম পৌরসভার মির্জারকোট মডেল মসজিদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- শরিফুল ইসলাম (৩৮), তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (৩২) এবং তাদের ৪ মাস বয়সী ছেলে সন্তান আব্দুল্লাহ আল হুজাইফা। জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার হিলি এলাকার মনসাপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পাটগ্রামে পদক্ষেপ এনজিওতে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন তারা। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মির্জারকোট এলাকায় পৌঁছালে বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী একটি অজ্ঞাত খালি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সুমাইয়া আক্তার নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় শরিফুল ইসলাম ও তাদের শিশু সন্তানকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তারা মারা যান। একই ঘটনায় তাদের আরেক সন্তান শোয়াইব হোসেন (১০) গুরুতর আহত হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়। বড়খাতা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ট্রাকের ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি নিয়ে চালক পালিয়ে গেছে। নিহতদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, নিহতদের মরদেহ পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। অজ্ঞাত ট্রাকটি শনাক্তে করে আটকের চেষ্টা চলছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সদর ইউনিয়নের পাগলা গ্রামের কৃতী সন্তান শেখ ফেরদাউস আলম। কোনো প্রকার প্রচারের মোহ ছাড়াই তিনি একাই ফকিরহাটের প্রায় ৮৬৫টি অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। রোববার(১৫ মার্চ) সকাল থেকে পাগলা গ্রামে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশে এই বিশাল সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ৩০০ পরিবারের মাঝে ২৫ কেজি ওজনের ৩০০ বস্তা চাল বিতরণ। মাথায় করে চালের বস্তা নিয়ে যাওয়ার সময় উপকারভোগীদের চোখে মুখে ছিল ঈদের আগাম খুশির ঝিলিক। চাল হাতে পেয়ে এক বৃদ্ধা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "এই এক বস্তা চালে আমার পুরো মাস নিশ্চিন্তে চলে যাবে, আল্লাহ উনার মঙ্গল করুক।" চালের পাশাপাশি এদিন অসহায় মানুষের মাঝে ৩০০টি লুঙ্গি, ২০০টি শাড়ি ও গামছা এবং নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। তবে শেখ ফেরদাউস আলমের মানবিকতা কেবল ঈদ উপহারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রমজানের শুরু থেকেই তিনি ৬৫টি পরিবারকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ৬৫টি ছাগল উপহার দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ছাগলগুলো লালন-পালনের জন্য প্রতি মাসে প্রতিটি পরিবারকে ১ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত প্রচারবিমুখ এই মানুষটি সবসময় পর্দার আড়ালে থেকে সমাজসেবা করতে পছন্দ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মিজানুর রহমান, শেখ আবুল কালাম ও ইউনুস শেখসহ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তিনি এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করেন। খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তার পাশাপাশি, পরিবেশ রক্ষায় তিনি এলাকায় ২৫ হাজার তালগাছ ও ফলজ গাছের চারা রোপণের এক মহতী কর্মসূচিও হাতে নিয়েছেন। ঈদকে সামনে রেখে যখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ৩০০ বস্তা চাল ও নগদ অর্থের এই উপহার ফকিরহাটের মানুষের জীবনে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। ফেরদাউস আলমের এই নীরব মানবিকতা এখন পুরো এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে শামিমা আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গোলাহাট রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন নিজ বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে শামিমা আক্তারকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের রেজিস্টারে উল্লেখ রয়েছে, তাকে সেখানে নিয়ে আসেন তার স্বামীর ভাবি মনি আক্তার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামিমা আক্তার উপজেলার গোলাহাট এলাকার বাসিন্দা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহাগের স্ত্রী। পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি ঘরের ভেতরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, শামিমা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে এবং গলা বরাবর ঘাড়েও কালচে দাগ দেখা গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একটি সূত্র জানায়, নিহত শামীমার স্বামী শেখ সোহাগ ৫ আগস্টের পর সৈয়দপুর থানায় করা দুইটি মামলার আসামী। এ কারণে সে দীর্ঘদিন থেকে পলাতক। তবে গত কয়েকদিন আগে সে সৈয়দপুরে এসেছে। গত কয়েকদিন যাবৎ সে স্ত্রীর উপর নির্যাতন করে চলেছে। চব্বিশের আন্দোলনের সময় সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার আসামি এই সোহাগ।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের টাকা রংপুরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের ৮শ' ৫৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে ঈদ উপহার হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা করে ৪২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রংপুর সিটি করপোরেশন চত্বরে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন। এসময় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বলেন, ‘নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই রংপুর নগরী প্রতিদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। ঈদ উপলক্ষ্যে তাদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই উদ্যোগের কারণে পরিচ্ছন্নকর্মীদের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও রংপুর মহানগরের সভাপতি ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায়, রংপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রুবেল রানা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার রহমান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাসসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চগড়ের বোদায় নিজেকে পাপমুক্ত করে পরিশুদ্ধ ও পুণ্যতা এবং পিতা মাতার আত্মার শান্তির আশায় শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৩ দিনব্যাপী ধর্মীয় বারুণী স্নান উৎসব। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সূর্যোদয়ের পর থেকেই বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের বোয়ালমারী করতোয়া নদীতে উত্তর স্রোতা পানিতে ওই স্নানোৎসব শুরু হয়। চৈত্রের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে প্রতিবছর করতোয়া নদীর উত্তরমুখী স্রোতে এই গঙ্গা স্নান অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর স্থানীয় গঙ্গা মন্দির কমিটি বারুণী স্নানোৎসবের আয়োজন করে। এ সময় সনাতন হিন্দুধর্মাবলম্বীরা স্নানের পাশাপাশি পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় পূজা অর্চনা করেন। এখানে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষজন স্নান ও পূজা অর্চনা করেন। স্নান উপলক্ষ্যে এখানে আয়োজন করা হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বারুণী মেলা। এখানে নাগরদোলা, মোটরসাইকেল খেলাসহ বিভিন্ন বিনোদনেরও আয়োজন করা হয়েছে। এ বারুণী স্নান চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। দেবীগঞ্জের দণ্ডপাল থেকে বোয়ালমারী বারুণী স্নানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছেন সৌমিক অধিকারী, তিনি বলেন, ‘দেহ ও মনকে পরিশুদ্ধ করতে এখানে প্রতিবছর আসা হয়। পরিবারের সবাই মিলে স্নান করি এবং পূর্বপুরুষের আত্মার শান্তি কামনায় পূজা অর্চনা করি।’ নীলফামারীর ডোমার থেকে স্নান করতে এসেছেন প্রমিলা রানী। তিনি বলেন, ‘বাপ-দাদাদের কাছ থেকে শুনেছি, নদীর উত্তরমুখী স্রোতে স্নান করলে পাপ মোচন হয়। তাই এখানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে স্নান করতে এসেছি।’ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ও বোদা উপজেলা প্রশাসনের তদারকিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহ অন্যান্য আয়োজনে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন বিশেষ আনন্দিত বলেও স্নান কমিটির লোকজন জানান।
শিল্প পরিবার ইকু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সাবেক সংসদ সদস্য সিদ্দিকুল আলম চার হাজার পরিবারের মাঝে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে (১৭ মার্চ) নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি হাইস্কুল মাঠে ঈদের উপহার হিসেবে এসব শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়। সিদ্দিকুল আলম বলেন, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে আমরা প্রতিবছর পারিবারিকভাবে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করে আসছি। এবারও ঈদে সে ধারাবাহিকতায় চার হাজার গরিব ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও ইকু গ্রুপের পক্ষে খাদ্য সামগ্রীও বিতরণ করা হচ্ছে। বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইকু গ্রুপের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ইরফান আলম ইকু, সমাজসেবী আলতাফ হোসেন, শফিউল ইসলাম সুজন মাস্টার, ওবায়দুর রহমান ভুট্টোসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা- কর্মচারী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। শাড়ি ও লুঙ্গি পেয়ে এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে বাংলাদেশ থেকে ভারত, নেপাল ও ভূটানের সাথে টানা ১১ দিন সকল ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১০ মার্চ বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে আগামী ২৭ মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে সকল আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সাথে ঈদের ছুটি শেষে ২৮ মার্চ শনিবার থেকে যথারীতি কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে বলে জানা বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে বাংলাবান্ধা স্থলবন্ধরে এ সময়ে ইমিগ্রেশন দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে বলে জানান।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙামাটি নদী–এর ওপর নির্মিত ‘গোমা সেতু’। দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের স্বপ্নের এই সেতুটি মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথমে ১৫ মার্চ উদ্বোধনের কথা থাকলেও চূড়ান্ত প্রস্তুতির কারণে তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়। বরিশাল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি আঞ্চলিক সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি প্রায় ৩৬০ মিটার দীর্ঘ এবং দুই লেনবিশিষ্ট। ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত সেতুটির মাঝের দুটি স্প্যান স্টিল ট্রাস প্রযুক্তিতে তৈরি, যা সাধারণ স্প্যানের তুলনায় বেশি উঁচু। ২০১৭ সালে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৭ কোটি টাকা। তবে নকশা পরিবর্তন ও স্টিল ট্রাস স্প্যান যুক্ত করার ফলে ২০২২ সালে সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের মে মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। তবে সেতুর উচ্চতা নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ–এর মধ্যে মতবিরোধের কারণে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই বছর কাজ বন্ধ থাকে। পরে একনেক সভায় সংশোধিত নকশা অনুমোদনের পর স্টিল ট্রাস প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেতুর উচ্চতা বাড়ানো হয় এবং নির্মাণকাজ আবারও শুরু হয়। এতদিন বাকেরগঞ্জ, দুমকি ও পটুয়াখালীর লোহালিয়াসহ আশপাশের এলাকার মানুষকে নদী পারাপারের জন্য ফেরি বা ট্রলারের ওপর নির্ভর করতে হতো। সেতুটি চালু হলে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত হবে সহজ ও দ্রুত। স্থানীয়দের আশা, গোমা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নদীর দুই তীরের চরাদি ও দুধল ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে উদ্বোধন ঘিরে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে।