'ইচ্ছে শ্রমে গড়ি দেশ, সুস্থ সুন্দর বাংলাদেশ' - এই প্রতিপাদ্যে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলায় ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম মুক্ত করলো 'ইচ্ছেশ্রম' সংগঠন। এ সংগঠনটি ২০২২ সাল থেকে এই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে এই ক্ষতিকর উদ্ভিদ নির্মূল অভিযান পরিচালিত করে আসছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি ( শুক্রবার), উপজেলার আওনা ইউনিয়নের জগন্নাথগঞ্জ পুরাতন ঘাট এলাকায় অভিযান শেষে উপজেলাকে ক্ষতিকর উদ্ভিদ পার্থেনিয়াম মুক্ত ঘোষণা করা হয়। জানা যায়, পার্থেনিয়াম একটি ক্ষতিকর আগ্রাসী উদ্ভিদ। এটি নরম কাণ্ড বিশিষ্ট গুল্ম জাতীয় আগাছা, যা সাধারণত গাজর ঘাস নামে পরিচিত। দেখতে অনেকটা গাজর পাতা বা চন্দ্রমল্লিকা ফুল গাছের পাতার মতো। এতে ছোট ছোট সাদা ফুল ফোটে। এর বীজ অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও হালকা হওয়ায় বাতাসের মাধ্যমে অনেক দূরে গিয়েও ছড়িয়ে পড়ে ও দ্রুত বংশবিস্তার করে। এই উদ্ভিদের আদি নিবাস উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পূর্ব মেক্সিকো। এর বৈজ্ঞানিক নাম Parthenium hysterophours. পার্থেনিয়াম সাধারণত ২ থেকে ৫ ফুট উঁচু হয়। একটি গাছ মাত্র চারমাসে তিনবার ফুল দিয়ে প্রায় ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত বীজ উৎপন্ন করতে পারে, যা এর ভয়াবহ বিস্তারের অন্যতম কারণ। পার্থেনিয়ামের ফুলের রেণু বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, জ্বর, অ্যালার্জি, চর্মরোগ ও ব্রংকাইটিসসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। গবাদিপশু এই ঘাস খেলে গুরুতর অসুস্থ, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কৃষি ক্ষেত্রেও এর প্রভাব মারাত্মক; ফসলের জমিতে পার্থেনিয়াম জন্মালে ফসলের উৎপাদন ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। প্রকৃতি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকর এই প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরিষাবাড়ি উপজেলা জুড়ে এটি নির্মূলের উদ্যোগ গ্রহণ করেন উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করা দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদ উদ্যান এবং প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৃতি প্রেমী সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাসমত আলী। এ কাজ বাস্তবায়ন করতে তিনি গড়ে তোলেন 'ইচ্ছেশ্রম' সংগঠন নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনটি এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীকে নিয়ে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩০টিরও অধিক স্থানে নির্মূল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের আওতায় রাস্তার পাশ, খোলা জায়গা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা, ফসলি জমির আশপাশ ও জনবসতিপূর্ণ স্থান থেকে পার্থেনিয়াম অপসারণ করে সমূলে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়, যা পরবর্তীতে সেখানে জৈবসারে পরিণত হয়। এই ইচ্ছেশ্রম সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাসমত আলী বলেন, সে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ছুটির দিনে দীর্ঘ দিন যাবৎ এ ক্ষতিকর পার্থেনিয়াম উদ্ভিদ নির্মূল করে আসছেন। আজকের এই অভিযানের মাধ্যমে সরিষাবাড়ি উপজেলাকে পার্থেনিয়াম থেকে মুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও পার্থেনিয়াম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন। কেননা, বাতাসের মাধ্যমে বীজ ছড়িয়ে যে কোনো স্থানেই দেখা দিতে পারে। তবে তার এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। এবং কীভাবে সারা বাংলাদেশ থেকে এটাকে নির্মূল করা যায় সে বিষয়েও একটা যথাযথ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণের চেষ্টা করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সহিংসতা, মব ভায়োলেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দেখা দিচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। নির্বাচনের আগে নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নিজস্ব ওয়েসবাইটে এসব কথা লিখেছেন সংগঠনের নারী অধিকার বিভাগের সিনিয়র সমন্বয়ক শুভজিৎ সাহা। তিনি আরও লিখেছেন, পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. ফওজিয়া মোসলেম মনে করেন, নারীদের অবাধ চলাফেরা ও সমাজে অংশগ্রহণ সীমিত করতে তৎপর ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ও উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেই এ সহিংসতা বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে তথ্য চুরি ও জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। নারী পাচার, নকল আইফোন কারখানা পরিচালনা এবং নিষিদ্ধ ভিওআইপি ব্যবসা করার অভিযোগে অন্তত ৮ জন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ তথ্য চুরির সিন্ডিকেট উদ্ঘাটন করেছে। এই ঘটনাগুলো সামগ্রিকভাবে দেশে চলমান অপরাধ পরিস্থিতি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা তুলে ধরছে। হিউম্যান রাইট সাপোর্ট সোসাইটি বা এইচআরএএস এর প্রতিবেদন বলছে, গত বছরে অর্থাৎ ২০২৫ সালেই সারাদেশে ৯১৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছে। আর আহত হয়েছে সাড়ে সাত হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতি আগামী জাতীয় নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে করা যাবে সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। জবাবে নির্বাচন কমিশন বলছে, যে সব ঘটনা ঘটছে তার সবগুলো রাজনৈতিক বা নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা না। হুমকি থেকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও বাদ যাচ্ছেন না অভিযোগ করে বিবৃতিতে বলা হয়,আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করলাম, একজন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জেলা প্রশাসককে তাঁর দায়িত্ব পালনে অসন্তুষ্ট হয়ে নানাভাবে অপমান ও হেনস্তা করা হচ্ছে, যা সব দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা।’ বিবৃতিতে বলা হয়, খোকন দাস, অমৃত মন্ডলের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, দলীয় প্রতীকে ভোট না দিলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগণকে দেশ থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বিধবা হিন্দু নারীকে ধর্ষণ করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। নরসিংদীর পলাশে গতকাল সোমবার রাতে মনি চক্রবর্তী নামক এক মুদিদোকানদারকে খুন করা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়শাল ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে ডাকাতি হয় এবং এ সময় বাড়ির নারী সদস্যের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়েছে।’ ২৯ ডিসেম্বর হবিগঞ্জে পুকুর থেকে কামদেব দাস নামক এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে ডাকাতির পাশাপাশি নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, যা তাঁরা ভয়ে প্রকাশ করছেন না। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্তবাসে এক কলেজছাত্রীকে (২৬) রাতভর গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাসের চালক ও হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলেছে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এসব ধারাবাহিক ঘটনায় নারী ও দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে একধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেও মনে করছে পরিষদ। ডা.তাসনিম জারা বলেন, সব প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী আচরণবিধির সমান প্রয়োগ হতে হবে। অর্থ ও পেশিশক্তির রাজনীতি বন্ধ না হলে যোগ্য নারী-পুরুষ কেউই এগোতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হলে জনগণই চাপ তৈরি করবে।’ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে নারীপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাইবার হয়রানিও তত বাড়বে বলে আশঙ্কা করেন জারা। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন,নারীরা যখন সাহসের সঙ্গে রাজনীতিতে দাঁড়াচ্ছে, তখন তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নোংরামি বন্ধ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’ নারী নিপীড়ন বন্ধে জরুরি সেবা-৯৯৯-এর মতো নির্বাচনের সময়ে ‘র্যাপিড মেকানিজম’ তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।
দীর্ঘ ১২ বছরেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কোন কার্যক্রম। ৫০ শয্যাতো দুরের কথা ৩১ শয্যার লোকবলের সংকটই কাটেনি। পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা। চিকিৎসক না থাকায় দরিদ্র পীড়িত এই অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবা দারুণ ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের যেতে হচ্ছে সদর হাসপাতাল কিংবা মানহীন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে। এতে করে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন নানা ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জানা যায়, ভারতীয় সীমান্তবর্তী বকশীগঞ্জ উপজেলার তিনলাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স। এছাড়াও ভৌগলিক কারনে দুরত্ব কম হওয়ায় প্রতিবেশী শ্রীবরদী উপজেলা, রাজিবপুর-রৌমারী ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের ৬-৭ টি ইউনিয়নের মানুষ বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪-৫ শত রোগী এই হাসাপতালে চিকিৎসা সেবার জন্য আসেন। জনবল সঙ্কটের কারনে প্রায় ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতালটি এখন নিজেই অসুস্থ্য। দরিদ্র পীড়িত এ অঞ্চলের মানুষের কথা ভেবে ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর ৩১ শয্যার এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই ৫০ শয্যা এ হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের ১২বছরেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কোন কার্যক্রম। দেওয়া হয়নি ৫০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি। বাড়ানো হয়নি সুযোগ-সুবিধা। ৩১ শয্যার হাসপাতালে যে জনবল ও যন্ত্রপাতি থাকার কথা, সেটিও নেই। ফলে এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জনবল সঙ্কট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম না থাকায় এ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইনডোর চালু করতে যে জনবল ও সাজ-সরঞ্জাম প্রয়োজন তার কোনটাই এখানে নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালে আসা অধিকাংশ রোগীকে রেফার করা হয় ময়মনসিংহ কিংবা ঢাকায়। ফলে চিকিৎসার ব্যয় বহনে অপারগ রোগীদের বিনা চিকিৎসায় মরতে হচ্ছে। বহির্বিভাগে রোগীদের আসা-যাওয়া আর পরামর্শ নেয়াই হলো নামে মাত্র ৫০ শয্যা এ হাসপাতালের নিত্যদিনের চিত্র। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার জন্য শুধু প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ চিকিৎসা কর্মকর্তা থাকার কথা ২৪ জন। ২৪টি পদের মধ্যে প্রায় সব কটি পদই শূন্য। জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (নাক,কান,গলা), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু),জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু),এ্যান্সেথেটিক্স বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ফলে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারন রোগীরা। এছাড়াও ইনডোর মেডিকেল অফিসার,প্যাথলজিষ্ট, নার্সিং সুপারভাইজার, মিডওয়াইফ, মেডিকেল টেকনিক্যাল ল্যাব, ফার্মাসিষ্ট, প্রধান সহকারী, হিসাব রক্ষক, কার্ডিওগ্রাফার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ইমার্জেন্সী এটেনডেন্ট, ল্যাবরেটরী এটেনডেন্ট, ওটি বয়সহ একাধিক পদ শূন্য রয়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে দুইটি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা থাকলেও রয়েছে একটি। সেটিও মাঝে মধ্যেই বিকল হয়ে থাকে। ফলে জুরুরী প্রয়োজনে রোগীদের প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে অতিরিক্ত কয়েকগুন বাড়তি ভাড়া দিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে। অপারেশন থিয়েটার রুম থাকলেও নেই মেশিনপত্র। ছোট খাটো কোন অপারেশনের জন্য যেতে হয় জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা প্রাইভেট ক্লিনিকে। আল্ট্রাসনোগ্রাম থাকলেও তার ব্যবহার হয়নি কোনদিন। ইসিজি মেশিন রয়েছে তবে জরুরী প্রয়োজনে বেশিরভাগ সময়ই থাকে বিকল। জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বরাদ্ধ না পাওয়ায় উদ্বোধনের ১ যুগপরও ৫০ শয্যার কোন কার্যক্রমই চালু হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মর্কতা ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ছাড়া কোন চিকিৎসক নেই এখানে। উপজেলার ৭ ইউনিয়নের সাব সেন্টারে সাতজন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। চিকিৎসক না থাকায় যে কোনো রোগী এলেই জরুরী বিভাগ থেকে তাদের স্থানান্তর করা হয় জামালপুর, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা ঢাকায়। গুরুতর রোগী নিয়ে বিপাকে পড়ে যায় দরিদ্র পরিবারগুলো। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা ফারাজীপাড়া গ্রামের রোকসানা বেগম,আলাল উদ্দিন, চন্দ্রাবাজ এলাকার রিমা বেগম সহ বেশ কয়েকজন রোগী জানান, এই হাসপাতালে ডাক্তার পাওয়া যায়না। জুরুরী বিভাগে যে ওষুধ দেন তার বেশিরভাগই বাইরে থেকে কিনতে হয়। এতবড় হাসপাতাল অথচ ডাক্তার নেই। বগারচর ইউনিয়নের সারমারা থেকে আসা মধ্যবয়সী নারী রোকেয়া বেগম বলেন,তার মেয়ের পেটের ব্যাথার জন্য হাসপাতালে এসেছেন। দীর্ঘক্ষন বসে থেকে ডাক্তার না পেয়ে নিরুপায় হয়ে বাইরের ক্লিনিকে ডাক্তার দেখান তিনি। ডাক্তার না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ উল হাসান বলেন, নামেই ৫০ শয্যা হাসপাতাল। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গেলে ডাক্তার পাওয়া যায় না। জরুরী বিভাগে থাকা ওয়ার্ড বয় ও ঝাড়ুদাররা ফোন করলে কখনো ডাক্তার আসে, আবার কখনো আসেন না। ততক্ষনে রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এতে রোগীসহ স্বজনরা পড়েন বেকায়দায়। হাসপাতাল আছে, ডাক্তার নেই বিষয়টি অত্যান্ত দু:খজনক। তাই দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, তিনি এবং একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ছাড়া হাসপাতালে কোন ডাক্তার নেই। এছাড়াও ৭ ইউনিয়নের সাব সেন্টারে সাতজন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে একজনও নেই। ফলে চিকিৎসক না থাকায় বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা দারুন ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিয়ালের মাংস বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়লো আশরাফুল ইসলাম নামে এক কসাই। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর বাজারে। আশরাফুল হরিপুর আফজালপাড়া গ্রামের আশু কসাইয়ের ছেলে।ঘটনাটি জানাজানি হলে চতুর কসাই বাজার থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে শিয়ালের মাংস উদ্ধারের পর মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়ির পাশে শিয়াল ধরার জন্য ফাঁদ পেতে রাখে আশরাফুল। সেই ফাঁদে শিয়াল ধরা পড়ার পর নিজেই জবাই করে হরিপুর বাজারে খাসির মাংস বলে বিক্রি করতে যান আশরাফুল; কিন্তু মাংসের রঙ অতিরিক্ত লাল হওয়ার কারণে বাজারের লোকজনের সন্দেহ হয়। এরপর তাকে জেরা করার একপর্যায়ে আশারফুল স্বীকার করে খাসি নয় শিয়ালের মাংস বিক্রি করতে এসেছিলেন তিনি। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে মাংস উদ্ধার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের মাধ্যমে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। এরই ফাঁকে এলাকা থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত কসাই আশরাফুল। এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সরওয়ার হোসেন বলেন,আশরাফুল নামের ওই কসাই মাংস বিক্রি করতে গেলে এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মাংস উদ্ধার করা হয়েছে; কিন্তু পুলিশ যাওয়ার আগেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত কসাই। এ ব্যাপারে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান বলে জানান তিনি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার সরকার জানান, আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ফাঁদ পেতে শিয়াল ধরার পর স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে গিয়েছিলেন আশরাফুল নামের ওই কসাই। মাংসটি শিয়ালের এমন সত্যতা পেয়েছি। এ ব্যাপারে থানায় নিয়মিত মামলা হবে বলে জানান তিনি।
বরিশালে একটি বিড়ালের পা ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সালেহ আল রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি গৃহবধূ তানিয়া বেগমের পোষা বিড়ালকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে তার প্রতিবেশী নাসিমা বেগম দা দিয়ে আঘাত করে। এতে বিড়ালটির একটি পা ভেঙে যায়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় ওই প্রতিবেশীর স্বামী আইউব মৃধা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন তানিয়াকে। এ নিয়ে সোমবার বাকেরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন তানিয়া। গৃহবধূ তানিয়া জানান, আহত বিড়ালটিকে উদ্ধার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিড়ালটি কিছুটা সুস্থ রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সালেহ আল রেজা জানান, ভারি কোনো বস্তু দিয়ে বিড়ালটিকে আঘাত করা হয়েছে। বিড়ালটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে। এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগের তদন্ত চলছে। সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাসিনা খান চৌধুরীর প্রার্থিতা বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেছে। আগারগাঁওয়ের ইসি কার্যালয়ে আপিল শুনানি শেষে তার মনোনয়নপত্র পুনরায় স্বীকৃতি পায়। এর আগে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় মাত্র এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের জটিলতা দেখিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। আপিলের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত খারিজ হয়ে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত হয়। হাসিনা খান চৌধুরী নান্দাইলের সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম খুররম খানের স্ত্রী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসের খান চৌধুরীর মা। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবর নান্দাইলের ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে, যা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে “দেশের চাবি আপনার হাতে” স্লোগানকে সামনে রেখে গাজীপুরের কালীগঞ্জে গণভোট বিষয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে বালীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম কামরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কালীগঞ্জ সার্কেল মো. আসাদুজ্জামান, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন, গাজীপুর-৫ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, এনজিও কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সভায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার গণভোট সম্পর্কিত উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ভোটার সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভোট প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
খুলনা প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বুধবার (১৫ জানুয়ারি) খুলনায় শহীদ সাংবাদিক মানিক চন্দ্র সাহার ২২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে তারা হত্যার পুনঃতদন্ত, মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িতদের সনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ সাংবাদিক স্মৃতিস্তম্ভে মানিক সাহার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তার পরিবার, প্রেসক্লাব, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন, রতন সেন পাবলিক লাইব্রেরি, উদিচী শিল্পী গোষ্ঠী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, মানিক সাহা আমৃত্যু জনমুখী সাংবাদিকতা করেছেন, এবং এ কারণেই তাকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। ২২ বছর পার হলেও হত্যাকান্ডের প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও জড়িতরা এখনও বিচার থেকে বঞ্চিত। পূর্বের রায় ছিল গোজামিলের রায়, যা পরিবারের ও সাংবাদিক সমাজের জন্য সন্তোষজনক নয়। কেইউজের সহ-সভাপতি কাজী শামিম আহমেদ সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মহেন্দ্রনাথ সেন সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন বিএফইউজে যুগ্ম-মহাসচিব হেদায়েত হোসেন মোল্লা, খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক মোঃ এনামুল হক, নিহত সাংবাদিকের ছোট ভাই প্রদীপ সাহা, প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মানিক সাহা, হুমায়ুন কবীর বালু, রশিদ খোকনসহ দেশের সাংবাদিকদের উপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যথাযথ বিচার না হওয়ায় সাংবাদিক নিরাপত্তা উদ্বেগজনক। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না হলে আন্দোলন ও সংগ্রামের কর্মসূচী নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাবের কাছে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নৃশংসভাবে নিহত হন সাংবাদিক মানিক চন্দ্র সাহা। মৃত্যুর পর ২০০৯ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অবিভাবক সমাবেশ, বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন আকন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রিপন বিশ্বাস, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকু। অবিভাবক সমাবেশে অভিভাবকরা সন্তানদের শিক্ষাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এরপর দিনব্যাপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিকেলে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক হেদায়েতুল্লাহ পলাশ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চললেও টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের কার্যক্রম চোখে পড়েনি। জেলা জুড়ে ভোটার সচেতনতার জন্য কোনো মাইকিং, ডিজিটাল ডিসপ্লে বা ব্যানার দেখা যায়নি। এতে সাধারণ মানুষ বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলের ভোটাররা গণভোট ও ভোটদানের নিয়মাবলী সম্পর্কে অবহিত নয়। স্থানীয়রা জানান, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখা গেছে, তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে গণভোটের সমর্থনে বা তথ্যবহুল প্রচারণা তেমন দেখা যায়নি। কিছু নির্বাচনী ব্যানার ও প্রচারণা হয়েছে কেবল সদর উপজেলার দুই-তিনটি স্থানে। গ্রামীণ ভোটাররা জানেন না হ্যাঁ বা না ভোটের প্রভাব কী হতে পারে। জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তাহলিমা জান্নাত বলেন, তারা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে জেলা ও উপজেলার বাইরে কার্যকর কোনো প্রচারণা করা হয়নি। সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, ৩৬০টি ব্যানার ও এক লাখ ৮০ হাজার লিফলেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ব্যানারগুলো জেলা ও উপজেলা সদরে টানানো হয়েছে, এবং লিফলেট দ্রুত বিতরণ করা হবে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এবং ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা না হলে ভোটে অংশগ্রহণের হার নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
সানন্দবাড়িতে টুপকার চর থেকে খোলাবাড়ি পর্যন্ত ১.৮৩০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ঠিকাদার দায়সারা কাজ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারিতে সড়কটি সময়মতো ও মানসম্মতভাবে নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা এলজিইডি অফিস জানিয়েছে, সড়কটি নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ. স্মার্ট কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা এই কাজটি নির্বাচনী সময় ভোটারদের যাতায়াত সুবিধার জন্য পুনরায় শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, বক্স কাটিংয়ের পর পানি দিয়ে রোলিং করে কিউরিং করতে হয়। ঠিকাদার তা করেনি এবং সেন্ট ফিলিংও ন্যায় অনুযায়ী করেনি। এছাড়া সড়কে রোলার মেশিন ব্যবহার করা হয়নি এবং নিম্নমানের রাবিশ খোয়া স্থাপন করা হয়েছে। এতে সড়ক দ্রুত ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সড়কটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ঠিকাদারকে মানসম্মতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদার মঞ্জুরুল ইসলাম নয়া ফোনে যোগাযোগে আসে নি। তাদের দাবি, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করলে সড়ক দ্রুত ও ভালো মানের হবে।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা মানসিকভাবে অসুস্থ—এমন দাবি করেছেন জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন। তিনি অভিযোগ করেন, নারী ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ে আতাউর রহমান আতা মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন এবং তাঁর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন লিটন। তিনি বলেন, আতাউর রহমান আতা রাজনীতিতে বিভ্রান্ত পথে রয়েছেন এবং তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যমূলক ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের পরিপন্থী। লিটন আরও বলেন, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আতাউর রহমান আতা যে অভিযোগ করেছেন—তিনি ও বাস মালিক সমিতির সভাপতি সিহাব সুমন অজ্ঞাত লোকজন নিয়ে তাঁর বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন—তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। পরিকল্পিতভাবে তাঁদের সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে যে কোনো সময় ফাঁসানোর চেষ্টা হতে পারে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জেলা রেন্ট-এ-কার মালিক সমিতির সভাপতি সিহাব সুমন বলেন, আতাউর রহমান আতার স্বজন জাহাঙ্গীর আলম জিকু বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খানম রিতাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে যুবদল, শ্রমিকদল ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আতাউর রহমান আতা এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, লিটন ও সিহাব সুমন অজ্ঞাত লোকজন নিয়ে তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ঝিনাইদহে জেলা পুলিশের বিশেষ টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে । বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১১ টাই জেলা পুলিশের আয়োজনে শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয়। বিশেষ করে শহরের পায়রাচত্বর,চুয়াডাঙ্গা স্টান্ড, বাসটার্মিনাল, হামদহ, আরাপপুর সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্নস্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নির্বাচনী সময় কোন ধরনের সহিংসতা, নাশকতা, ও অবৈধ কর্মকান্ড যেন সংগঠিত না হয় সেজন্য বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এসময় কাগজপত্রবিহীন যানবাহন, অবৈধ মোটরসাইকেল ও সন্দেহজনক যানচলাচলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। আগামী পনেরো দিন চলবে এ অভিযান।
পঞ্চগড়-২ আসনের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের পুরোহিত, সভাপতি ও সম্পাদকদের যৌথ উদ্যোগে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বোদা উপজেলার পাঁচপীর এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডা. দিজেন্দ্র নাথ রায়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রার্থনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড়-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ। সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক প্রেমাশিষ রায় প্রধান, বোদা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অখিল চন্দ্র ঘোষ সীসা, দেবীডুবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায়, পাঁচপীর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অজয় কুমার রায়, পামুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিভূষণ রায়সহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতারা। বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্র ও আপসহীন রাজনীতির প্রতীক। তার শাসনামলে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ন্যায়ভিত্তিক শাসন ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত ছিল। গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। অনুষ্ঠানে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার পূজামণ্ডপের পুরোহিত, সভাপতি-সম্পাদকসহ প্রায় দুই হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
নওগাঁয় সরকারি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘিরে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিআরটিএর পরীক্ষায় পাস নিশ্চিত করার অজুহাতে নওগাঁ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) ড্রাইভিং কোর্স শেষে প্রতিজন প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে, যদিও কোর্সটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যের। ডিসেম্বরে চার মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর এই অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের ভাষ্য, পরীক্ষায় ফেল করার ভয় দেখিয়ে টাকা তুলতে বাধ্য করা হয়েছে। কয়েকজন প্রশিক্ষকও নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, বিআরটিএর হয়রানি এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ‘ম্যানেজমেন্ট’ চললেও তা সম্পূর্ণ অবৈধ। অন্যদিকে, নওগাঁ বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেনের কোনো বিধান নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।
অর্থ পাচারের অভিযোগে চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা শিল্পের ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে গুলশান থানায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। সিআইডি সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালার আওতায় জারি করা নোটিশে শওকত আলী চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, গত এক দশকের বিদেশ ভ্রমণের বিবরণ, আয়কর নথি, দেশে-বিদেশে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য, বিভিন্ন কোম্পানিতে মালিকানা ও শেয়ারহোল্ডিংয়ের হিসাব এবং বিদেশে বিনিয়োগ বা সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের জারি করা নোটিশ অনুযায়ী, পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এসব নথি সংগ্রহ করে মালিবাগ কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, একই অভিযোগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শওকত আলী চৌধুরী ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজভাঙা ব্যবসার আড়ালে ব্যাংক হিসাব ও ঋণপত্র ব্যবহার করে বিদেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে।
খাগড়াছড়িতে দুই দিনব্যাপী নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের আয়োজন ও প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর সহযোগিতায় প্রশিক্ষণে জেলার ৫০ জন গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। তিনি বলেন, “প্রশিক্ষণটি সাংবাদিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। সাংবাদিকরা নির্বাচনী নিয়ম মেনে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে সচেতন হবেন।” অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন, পিআইবি প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন, আজকের পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার হুমায়ুন কবীর এবং প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচ. এম. প্রফুল্ল উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
যেখানে হাড়িয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহি নানান খেলাধুলা। সেখানে পৌষের শীতে প্রতি বছরের ন্যায় নারী-পুরুষের সমন্বয়ে হাজারো মানুষের বিনোদন যোগাতে আয়োজন থাকে ঐতিহাসিক মারবেল খেলার। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দের আকঁ গ্রামে প্রতি বছরের ন্যায় পৌষ সংক্রান্তিতে আয়োজন করা হয় শতাব্দী পুরনো ঐতিহ্যবাহী ‘মারবেল খেলা’। ইতিহাস অনুযায়ী, প্রায় ২৪৬ বছর ধরে এ খেলার আয়োজন চলে আসছে। স্থানীয়রা জানান, খেলাটি শুরু হয় গ্রামের সোনাই চাঁদের সময় আনুমানিক ১৭৮০ সালে। পৌষের দিনে পুকুরপাড়, অনাবাদি জমি ও বাড়ির আঙ্গিনাসহ গ্রামটির প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলে খেলার আসর। এতে নারী-পুরুষ এবং বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নিয়ে উৎসবের রঙ ছড়িয়ে দেন। খেলাকে কেন্দ্র করে দিনে ব্যাপী মেলা, নবান্ন উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নিরামিষ খাবারের আয়োজনও হয়। স্থানীয়রা বলেন, “পূর্বপুরুষদের তৈরি ঐতিহ্যটি আমরা ধরে রেখেছি। এটি গ্রাম বাংলার সংস্কৃতিকে রক্ষা করবে এবং যুগের পর যুগে চলবে।”
ঝিনাইদহ শহরের ব্যস্ত পাগলাকানাই মোড়টি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দোকানদারদের দখলে। সড়কের জায়গা দখল করে স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোর কারণে যানজট এবং পথচারীর ভোগান্তি বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘রাফসান স্টোর’-এর মালিক শাহ আলম তার মূল দোকানের সামনে টিনের চাল দিয়ে অবৈধভাবে দোকান সম্প্রসারণ করেছেন। এছাড়া নাসির হোটেল, রশিদ হোটেল, মামুন হোটেলসহ কয়েকটি দোকানও সড়কের জায়গা দখল করে সম্প্রসারণ করেছে। সড়কের ওপর ভ্রাম্যমাণ ফল, সবজি ও বিভিন্ন দোকানের সারি পরিবহন ও হাঁটাচলার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। পথচারী শহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন অফিসে যাতায়াতের সময় যানজট লেগে থাকে। হাঁটাচলার জায়গা নেই।” অটোরিকশা চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “যাত্রী নামাতে-উঠাতে সমস্যা হয়। দুর্ঘটনার ঝুঁকি সর্বদা থাকে।” ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: হাফিজুর রহমান বলেন, “সড়কে কোনো অননুমোদিত স্থাপনা ও দোকান বসানো যাবে না। বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে পাগলাকানাই মোড় দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান না হলে যানজট আরও বেড়ে জনভোগান্তি ভয়াবহ আকার নেবে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির ১২তম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় সিএন্ডবি রোডস্থ মৎস্য ভবনের হল রুমে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেন্দ্রীয় কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসরাইল পন্ডিত। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেক হোসেন, বিজিবি ট্রাইবুনালের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ্যাড. এম হেলাল উদ্দিন, বরিশাল জজ কোর্টে অতিরিক্ত পিপি এ্যাড. মোঃ হুমায়ুন কবির, বরিশাল জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোঃ রুস্তুম মল্লিক, জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আলহাজ্ব ইকবাল হোসেন ও চাঁদপুর ফিসিং বোর্ড মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ শাহ আলম মল্লিক। সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যক্রম, সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থ সংরক্ষণ বিষয়ক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ঢাকার সাত সরকারি কলেজকে নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ)–এর অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীতে আবারও সড়ক অবরোধে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা কলেজ থেকে মিছিল শুরু করে শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড় ও মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড়ে অবস্থান নেন, ফলে মিরপুর সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। অবরোধ চলাকালে তাঁরা দ্রুত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফারুক হাসান বলেন, “ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি করাই আমাদের একমাত্র দাবি। আর কোনো সময়সীমা আমরা মানতে রাজি নই।” অবরোধের কারণে আজিমপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত মিরপুর সড়কসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। যানবাহন না পেয়ে বহু মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। ভোগান্তিতে পড়া যাত্রী মো. হানিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়ক অবরোধে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর আগের দিনও একই দাবিতে সায়েন্স ল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা আলাদা ইস্যুতে ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন, যা রাজধানীর যান চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পরিমার্জিত অধ্যাদেশের খসড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নীতিগত অনুমোদন ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এটি উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রস্তুতি ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই সাত কলেজে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সংকট চলমান। সেই সংকট নিরসনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।