চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় খড় পোড়ানোর ধোঁয়ায় দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত আটজন।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান সড়কের জলুরদিঘী পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাঁশি মোহন দাশ (৫০) লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাশে খড় পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়, ফলে যানবাহনের দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এ অবস্থায় ঈগল পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। একই সময়ে মারসা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খবর পেয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি যানবাহন উদ্ধার করে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিক ধাপে ১৯ মার্চ আজারবাইজানের রাজধানী বাকু হয়ে প্রায় ২০০ বাংলাদেশিকে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আনা হবে। এ উদ্দেশ্যে তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হককে আজারবাইজানে পাঠানো হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, ইরান থেকে দেশে ফেরত যাওয়া বাংলাদেশিদের প্রথমে সড়কপথে ইরাক সীমান্ত অতিক্রম করে আজারবাইজানে আনা হবে এবং এরপর চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে নীতিগতভাবে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এ অনুযায়ী ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক, দূতাবাসের কর্মকর্তা–কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ মোট প্রায় ৩০০ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রথম ধাপে চার্টার্ড ফ্লাইটে ২০০ জনকে দেশে আনা হবে, যেখানে দূতাবাস কর্মী ও তাঁদের পরিবার অন্তর্ভুক্ত নয়। সূত্ররা জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ মাসের শুরুতেই আজারবাইজানে ইরানের দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ হয়। তাই ইরান থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের ফেরত আনার কার্যক্রম তদারকির জন্য তুরস্কে বাংলাদেশ দূতাবাস আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন আজারবাইজান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যাতে অন অ্যারাইভাল ভিসা দ্রুত অনুমোদিত হয়। এ পর্যন্ত আজারবাইজান থেকে ২৭৪ জনের অন অ্যারাইভাল ভিসা অনুমোদিত হয়েছে। যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট নেই, তাঁদের জন্য তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাস ট্রাভেল পাস জারি করেছে। প্রাথমিক ফ্লাইটে দেশে ফিরতে যাওয়া ২০০ জনকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আজারবাইজানের সঙ্গে সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।
পবিত্র রমজানে যেখানে ইফতার ৫ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, সেখানে মাত্র ২–৩ টাকায় ইফতার বিক্রি করে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের ক্ষুদ্র ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ৩৩ জন বিক্রেতাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে শহরের ইকু হেরিটেজ হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আলহাজ্ব কুতুবুল আলম চ্যারিটি ফাউন্ডেশন। সংবর্ধিতদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননার ক্রেস্ট, জায়নামাজ এবং আপ্যায়ন করা হয় নৈশভোজে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইরফান আলম ইকু–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন এম আর আলম ঝন্টু। সংবর্ধনা পাওয়া বিক্রেতারা জানান, জীবনে এই প্রথম তাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এমন সম্মাননা দেওয়া হলো। তারা বলেন, রমজানে ইবাদতের নিয়তে কম দামে ইফতার বিক্রি করেছেন, যদিও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে কিছুটা লোকসান গুনতে হয়েছে। তবুও এই স্বীকৃতি তাদের সেই ক্ষতি ভুলিয়ে দিয়েছে। চেয়ারম্যান ইরফান আলম ইকু বলেন, “আপনাদের সম্মানিত করতে পেরে আমরা গর্বিত। আপনারা যে মানবিকতার নজির স্থাপন করেছেন, তা সৈয়দপুরের সুনাম সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছে।” প্রধান অতিথি সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক বলেন, “ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়েও আপনারা যে মানবিকতা দেখিয়েছেন, তা বড় ব্যবসায়ীদের জন্যও শিক্ষণীয়। এই উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।” উল্লেখ্য, রমজানজুড়ে সৈয়দপুরে প্রায় ৩৫–৪০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কম দামে ইফতার বিক্রি করেছেন, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য স্বস্তি এনে দেয়। এছাড়া বিনামূল্যে ইফতার ও সেহরি বিতরণে অবদান রাখায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, গরিব চিকিৎসা সেবা সংগঠন এবং আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর–কেও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সদর ইউনিয়নের পাগলা গ্রামের কৃতী সন্তান শেখ ফেরদাউস আলম। কোনো প্রকার প্রচারের মোহ ছাড়াই তিনি একাই ফকিরহাটের প্রায় ৮৬৫টি অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। রোববার(১৫ মার্চ) সকাল থেকে পাগলা গ্রামে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশে এই বিশাল সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ৩০০ পরিবারের মাঝে ২৫ কেজি ওজনের ৩০০ বস্তা চাল বিতরণ। মাথায় করে চালের বস্তা নিয়ে যাওয়ার সময় উপকারভোগীদের চোখে মুখে ছিল ঈদের আগাম খুশির ঝিলিক। চাল হাতে পেয়ে এক বৃদ্ধা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "এই এক বস্তা চালে আমার পুরো মাস নিশ্চিন্তে চলে যাবে, আল্লাহ উনার মঙ্গল করুক।" চালের পাশাপাশি এদিন অসহায় মানুষের মাঝে ৩০০টি লুঙ্গি, ২০০টি শাড়ি ও গামছা এবং নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। তবে শেখ ফেরদাউস আলমের মানবিকতা কেবল ঈদ উপহারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রমজানের শুরু থেকেই তিনি ৬৫টি পরিবারকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ৬৫টি ছাগল উপহার দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ছাগলগুলো লালন-পালনের জন্য প্রতি মাসে প্রতিটি পরিবারকে ১ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত প্রচারবিমুখ এই মানুষটি সবসময় পর্দার আড়ালে থেকে সমাজসেবা করতে পছন্দ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মিজানুর রহমান, শেখ আবুল কালাম ও ইউনুস শেখসহ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তিনি এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করেন। খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তার পাশাপাশি, পরিবেশ রক্ষায় তিনি এলাকায় ২৫ হাজার তালগাছ ও ফলজ গাছের চারা রোপণের এক মহতী কর্মসূচিও হাতে নিয়েছেন। ঈদকে সামনে রেখে যখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ৩০০ বস্তা চাল ও নগদ অর্থের এই উপহার ফকিরহাটের মানুষের জীবনে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। ফেরদাউস আলমের এই নীরব মানবিকতা এখন পুরো এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছে।