অবৈধ অভিবাসন দমনে কঠোর অবস্থান জোরদার করে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ ‘অপস মাহির’ নামে বিশেষ অভিযানে ৫৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৬২ জন বিদেশিকে আটক করেছে।
সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলাম ও পুচং এলাকায় ২১ এপ্রিল পরিচালিত এ অভিযানে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ দুইটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে ১১২ জনের কাগজপত্র যাচাই করে। যাচাই শেষে বাংলাদেশি ৫৬ জন, নেপালি ৪ জন, ভারতীয় ১ জন ও ইন্দোনেশীয় ১ জনকে অবৈধ অবস্থানের অভিযোগে আটক করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে, আটক ব্যক্তিরা অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যুকৃত অস্থায়ী কর্ম ভিসা (পিএলকেএস) ব্যবহার করে প্রকৃত কর্মস্থল গোপন রেখে কাজ করছিলেন, যা সংশ্লিষ্ট ভিসার শর্তাবলির লঙ্ঘন এবং প্রচলিত অভিবাসন আইনের পরিপন্থী।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ৬(১)(সি), ১৫(১)(সি) এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩-এর বিধি ৩৯(বি) অনুযায়ী মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে কয়েকজনকে সাক্ষ্য প্রদানের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে আটক বিদেশিদের সেমেনিয়াহ ইমিগ্রেশন ডিপো ও কেএলআইএ হেফাজতে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শিথিলতা দেখানো হবে না এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন এনে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস, ঢাকা তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে জানায়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকবে, তবে পর্যটক ও শিক্ষার্থীসহ অনভিবাসী ভিসা এর আওতামুক্ত থাকবে। প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে এবং অভিবাসন ব্যবস্থার যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ভিসা স্ক্রিনিং ও নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে যাতে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা রাষ্ট্রীয় সুবিধার অপব্যবহার করতে না পারে। নতুন নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা কার্যত স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তবে অনভিবাসী ভিসা যেমন পর্যটন, শিক্ষা ও স্বল্পমেয়াদি সফরের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী ব্যবসায়ী আবু নাসের শামীম (৫০) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় ১০টায় জোহানেসবার্গের বারাখওয়ানে এলাকায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম দোকানে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার মাথায় গুলি করে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলার পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। নিহত শামীম কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার হত্যার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তায় সরকার কাজ করবে।