কুমার নদ এর ওপর সেতু না থাকায় সালথা উপজেলা ও নগরকান্দা উপজেলা সীমান্তবর্তী অন্তত ছয় গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রশি টেনে নদী পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দার কল্যাণপট্টি, আইনপুর, সাভার, কুমারকান্দা, বাঘুটিয়া এবং সালথার মাঝারদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনে নদী পারাপার অপরিহার্য। কিন্তু সেতু না থাকায় তারা ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকি বেশি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানির স্রোত বাড়লে রশি ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ায়।

মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফছারউদ্দীন মাতুব্বর বলেন, বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অপরদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কুমার নদ এর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হোক।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা-এর বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট টিউব ফেটে ফের বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কেন্দ্রটির সব ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়। বয়লার ঠান্ডা হয়ে মেরামত করতে আনুমানিক ৫–৬ দিন সময় লাগবে। এর আগে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে বয়লার পাইপ ফেটে গেলে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৮টায় এটি পুনরায় চালু করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, টিউব ফাটার কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়েছে এবং মেরামত শেষে পুনরায় চালু করা হবে। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় উত্তরের পার্বতীপুরসহ অন্তত ৮ জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন করে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মাছুম মোস্তফা অভিযোগ করেছেন, পূর্বধলায় একটি ফিলিং স্টেশনে অবস্থানকালে পরিকল্পিত হামলার শিকার হয়েছেন তিনি এবং এতে তার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা এলাকায় গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি। তার দাবি, মোটরসাইকেলে আসা ১৫–২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় তিনি পাশের মসজিদে আশ্রয় নিলে মুসল্লিরা দরজা বন্ধ করে তাকে রক্ষা করেন এবং পরে পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি বিষয়টিকে “রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ওপর আঘাত” হিসেবে উল্লেখ করে সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের ঘোষণা দেন। অন্যদিকে পূর্বধলা থানা পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়া সংক্রান্ত বিরোধ থেকে শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এমপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ না দিলেও তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্ব হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের কোনো নেতাকর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এবং ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর জামতলা এলাকায় ট্রাকচাপায় শাম্মী আক্তার (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাম্মী আক্তার কুষ্টিয়া জেলার মিনাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও মিজানুর রহমানের স্ত্রী। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, তিনি স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে কুষ্টিয়া থেকে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকায় মেয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে আরাপপুর এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান। এসময় পেছন থেকে আসা বালুবাহী একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সামসুল আরেফিন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।