ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি এবারো ক্যামেরার বাইরে যুদ্ধ করছেন জীবনের সঙ্গে। গত ফেব্রুয়ারি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া এই অভিনেত্রীর মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। প্রথম অস্ত্রোপচারের পর দেশে কিছুদিন চিকিৎসা নিয়ে গত ৯ মার্চ চেন্নাইয়ে দ্বিতীয় সার্জারি সম্পন্ন করেছেন তিনি। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামের মধ্যেই রয়েছে তৃতীয় অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি। ঈদে ১০টি নাটকে দেখা গেলেও শারীরিক অসুবিধার কারণে তিনি পুরোপুরি সাফল্যের আনন্দ উপভোগ করতে পারেননি। সংবাদমাধ্যমকে তানিয়া বৃষ্টি জানান, অস্ত্রোপচারের পর মানসিকভাবে খুবই দুর্বল ছিলেন এবং সহজেই আবেগাপ্লুত হতেন। এখন কিছুটা সুস্থ হলেও চোখ ও নাকের সমস্যা রয়ে গেছে। নাটক ‘সুপ্তাদের বাড়ি’-র ট্রেলার দেখলেও আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তাকে জীবনের গভীর বেদনা উপলব্ধি করিয়েছে, বিশেষ করে কাছের মানুষ হারানোর কষ্ট। অভিনেত্রী মনে করেন, এই কাজ তার অভিনয় জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তৃতীয় অস্ত্রোপচারের আগে আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন। সব ঠিক থাকলে কয়েক মাসের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে। তানিয়া বৃষ্টি দৃঢ় প্রত্যয়ে আশা রাখছেন, সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে আবারও পর্দার সামনে দাঁড়াবেন।
ঈদ উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘দম’-এর সংবাদ সম্মেলনে আবেগের ঢেউয়ে ভেসে গেলেন আফরান নিশো। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে অভিনয় নিয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি অঝোরে কাঁদতে বাধ্য হন। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর অভিজাত একটি স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিশোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নায়িকা পূজা চেরি, প্রযোজক রেদোয়ান রনি ও শাহরিয়ার শাকিল। তবে বিশেষ আকর্ষণ ছিল সিনেমার মূল চরিত্র নূরের উপস্থিতি, যিনি বাস্তব জীবনের সংগ্রামকে পর্দায় প্রতিফলিত করেছেন। নিজের অভিনীত চরিত্রের গভীরতা ও বাস্তব জীবনের নূরের যাপন শোনার পর নিশো প্রকাশ্যেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “দেখুন, দিনশেষে আমিও তো রক্ত-মাংসের গড়া মানুষ।” নিশো জানিয়েছেন, চরিত্রের যথার্থ প্রয়োজনে তিনি নূরের গ্রামে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন, জীবনের কঠিন সংগ্রামের গল্প শোনেন এবং সেই বাস্তব অনুভূতি পর্দায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘দম’-এর শক্তিশালী ও বাস্তবমুখী চিত্রনাট্যই তাকে এই কাজের প্রতি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। সংবাদ সম্মেলনের শেষে নিশো দর্শকদের প্রতি আহ্বান জানান সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখার জন্য, যাতে সাধারণ মানুষের অদম্য লড়াই ও সহ্যক্ষমতা অনুভব করা যায়। মুক্তির পর ‘দম’ সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি দেশের সীমানা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। দর্শকরা বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন নিশো ও পূজা চেরির অনবদ্য রসায়ন এবং নূরের জীবনের বাস্তবধর্মী চিত্রায়নকে। প্রযোজকরা দাবি করেছেন, বাংলাদেশে এই ধরনের গল্পে নির্মিত সিনেমা আগে কখনও দেখা যায়নি। সর্বশেষ, ‘দম’ ঢাকাই চলচ্চিত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে দেশের সিনেমাপ্রেমীদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
দু’মাস আগে বিয়ে সম্পন্ন করা রাশমিকা মান্দানা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এবার দুই থেকে তিন হতে চলেছি’ এমন ঘোষণা দিয়ে ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছেন। তবে প্রকৃত অর্থটি ছিল পারিবারিক নয়, বরং সৃজনশীল উদ্যোগের সম্প্রসারণ। অভিনেত্রী রাশমিকা তার নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘রাশমিকা অ্যান্ড রু’ চালু করেছেন, যেখানে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি অ্যানিমেশন চরিত্র ‘রু’। জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড সংস্থা ‘টেরিবলি টাইনি টেলস’-এর সহযোগিতায় রাশমিকার ব্যক্তিত্ব ও অ্যানিমে অনুরাগকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে নতুন কনটেন্ট। এই প্রকল্পে এবার অংশ নিয়েছেন তার স্বামী বিজয় দেবরাকোন্ডা, ফলে ‘দুই থেকে তিন’-এর ঘোষণা মূলত তাদের সৃজনশীল কাজের সম্প্রসারণের প্রতীক। প্রথমে অনেক ভক্ত বিষয়টি ভুল বুঝে রাশমিকাকে মা হওয়ার সম্ভাবনায় শুভেচ্ছা জানালেও পরবর্তীতে প্রকল্পের প্রকৃতি স্পষ্ট হওয়ার পর আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনের একসময়ের পরিচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবার ব্যক্তিজীবনকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অভিযোগে বিষয়টি এখন সামাজিক ও আইনগত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই বিয়ের ইঙ্গিত দেন লুবাবা। তবে তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বিষয়টি বাল্যবিবাহের আওতায় পড়ে কিনা—তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালে তিনি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পরবর্তী সময়েও শিক্ষাজীবনে যুক্ত ছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বৈবাহিক বয়স পূর্ণ হয়েছে কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, নারীর ন্যূনতম বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ বছর এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ২১ বছর। এ বিষয়ে আইনজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, বয়স গোপন করে বিবাহ সম্পাদন করা হলে তা বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ (সংশোধিত) এবং প্রযোজ্য দণ্ডবিধির আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মতে, কাজীর মাধ্যমে বৈধ নিবন্ধন ছাড়া কোনো বিবাহ আইনত স্বীকৃত নয়। যদি কোনো কাজী অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিবাহ নিবন্ধন করেন, তবে তা তার লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। একইসঙ্গে দেশের বাইরে কোর্ট স্ট্যাম্পে সম্পাদিত বিবাহও বাংলাদেশের আইনে বৈধতা পায় না। আইন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যক্তি বাল্যবিবাহে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান তুলনামূলক ভিন্ন হলেও তা আইনগত দায়মুক্তি নিশ্চিত করে না। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিমরিন লুবাবা বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া এবং আইনগত অবস্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান ও যাচাই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রণবীর সিংয়ের নতুন ব্লকবাস্টার ‘ধুরন্ধর টু’ বক্স অফিসে ইতিহাস গড়ে চলেছে। মুক্তির মাত্র ১২ দিনে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সিনেমাটি আয়ের পরিমাণ ৮৬৫ কোটি রুপির মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেছে। সংবাদ অনুসারে, এই রেকর্ড ভাঙা সাফল্যের ফলে দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার যশের ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার টু’-এর আয়ের রেকর্ডও পেছনে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ছবিটি খুব দ্রুত ১ হাজার কোটি রুপির ক্লাবে প্রবেশ করবে। বক্স অফিস বিশ্লেষক সংস্থা স্যাকনিল্ক জানিয়েছে, প্রথম সপ্তাহে সিনেমাটি ৬৭৪ কোটি রুপির আয় করে, আর দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেই ১৯.২৬ কোটি রুপি যুক্ত হয়। ১২ দিনের মধ্যে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৮৬৬.১৩ কোটি রুপি। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর উত্তেজনাপূর্ণ গল্প, রোমাঞ্চকর চরিত্র ও দারুণ নির্মাণশৈলী দর্শক আকর্ষণের মূল কারণ। রণবীর সিংয়ের অভিনয়, আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল ও ইয়ামি গৌতমের উপস্থিতি ছবিকে সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক প্যাকেজে পরিণত করেছে। বর্তমানে বাণিজ্যিক বিশেষজ্ঞদের নজর ‘ধুরন্ধর টু’র পরবর্তী লক্ষ্য ১,০০০ কোটি ও ১,২০০ কোটি রূপির রেকর্ড স্পর্শে। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটি শীর্ষ আয়ের সিনেমা হিসেবে নাম লেখাতে যাচ্ছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে শিল্প মহলে। দিঘার তালসারি সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, তাঁর ফুসফুসে বিপুল পরিমাণ বালি ও নোনাজল জমে গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় এক ঘণ্টা পানির নিচে থাকা এবং গভীর পানির চাপের কারণে শরীরে বালি ও নোনাজল প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। অভিনেতা সাঁতার জানতেন বলে জানা গেলেও, হঠাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। শুটিং ইউনিটের কয়েকজন সদস্য তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন। অভিনেতার ব্যক্তিগত গাড়িচালক অভিযোগ করেছেন, শুটিং স্পটে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা ছিল না। দ্রুত চিকিৎসা পৌঁছালে জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতে পারত বলে তিনি মনে করেন। রবিবার (২৯ মার্চ) এবং সোমবার (৩০মার্চ) প্রিয় অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তমলুক হাসপাতালে ভক্ত ও সহকর্মীদের ঢল নেমে আসে। কলকাতার বিজয়গড়ে তাঁর বাসভবন সংলগ্ন ভোলা বসু ভবনে মরদেহ রাখা হবে, যাতে চলচ্চিত্র ও নাট্য অঙ্গনের সহকর্মী ও ভক্তরা শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। এরপর সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমন আর নেই। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা সুজাত শিমুল। তিনি জানান, বিকেল ৫টার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শামস সুমন। পরে তাকে দ্রুত রাজধানীর গ্রিন রোড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। মঞ্চনাটকের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করা শামস সুমন পরবর্তীতে টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে সমানভাবে কাজ করে দর্শকমহলে পরিচিতি অর্জন করেন। একসময় ছোট পর্দার নিয়মিত মুখ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে— ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ (২০১৬), ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’, ‘চোখের দেখা’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘জয়যাত্রা’, ‘নমুনা’ ও ‘হ্যালো অমিত’। ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি রেডিও ভূমির স্টেশন প্রধান এবং চ্যানেল আই-এর অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিনোদন অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ ও টালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকৃতির সান্নিধ্যে তোলা কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন, যা প্রকাশের পরপরই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, ফুলে ঘেরা একটি সবুজ বাগানের মাঝে সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। হালকা সবুজ রঙের স্লিভলেস টপ ও সাদা প্যান্টে সরল অথচ রুচিশীল পোশাকে ধরা দিয়েছেন তিনি। স্বাভাবিক মেকআপ, খোলা চুল ও ছোট গোলাকার কানের দুলে তার উপস্থিতি ছিল পরিমিত ও নান্দনিক। কিছু ছবিতে হাতে ফুল নিয়ে চিন্তামগ্ন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। আবার একটি ছবিতে মোবাইল ফোন হাতে সেলফি তুলতেও দেখা যায়। চারপাশের গোলাপি ফুল ও সবুজ প্রকৃতি ছবিগুলোর সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ছবিগুলো প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত ও অনুসারীদের কাছ থেকে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেকেই তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও স্টাইলের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, সরল সাজেই নতুনভাবে আকর্ষণ ছড়িয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
লস অ্যাঞ্জেলসের বেভারলি হিলসে রিহানার বাসভবনে রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। হামলার সময় রিহানা তার তিন সন্তানসহ বাড়িতে ছিলেন। দুঃখজনকভাবে কেউ আহত হয়নি। স্থানীয় পুলিশ জানায়, একটি সাদা গাড়ি থেকে প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়, যার মধ্যে একটি গুলি বাড়ির দেয়াল ভেদ করে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এক তরুণীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। হামলার ব্যবহৃত গাড়ি ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং আটক করা তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। হামলার উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত নয়। রিহানা বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতের একটি স্ট্যাটাসে অভিনেতা আলভী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রকাশ করেছেন, যা ইকরার মৃত্যুর তদন্তকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তিনি জানিয়েছেন, নেপাল শুটিংয়ের দিন থেকে বাড়িতে ইকরার বন্ধু ও সন্তানদের নিয়মিত যাওয়া-আসা চলত এবং মধ্যরাত পর্যন্ত মদ ও গাঁজার পার্টি হত; বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া যাবে। এছাড়া আলভী বলেছেন, ইকরার ফোনে কে ‘ডিসেবল’ করেছে তা ফরেনসিক রিপোর্টে নির্ধারণ করা প্রয়োজন এবং তিনি নিজেও তার ফোনের আলাপচারিতা তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করেছেন। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইকরার মৃত্যুর পর তা করাতে বাধা দেওয়া হলো এবং রিপোর্টে কারও চাপের কারণে তথ্য পরিবর্তন হওয়া যাবে না। নিজের স্ত্রীর সম্ভাব্য পরকীয়া বিষয়েও আলভী জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নাবিদ’ নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, যা তিনি ‘ভালোবাসার কারণে’ মেনে নিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, উপরের মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা এবং কর্মক্ষেত্রের অমনোবল তার তদন্তে বাধা দেবে। তাই অনুরোধ করেছেন, ছেলে রিজিকের স্বার্থে এবং সত্য উদঘাটনের জন্য ভক্তরা ইকরা মৃত্যুর আসল রহস্য প্রকাশে সহায়তা করবেন। ইকরার মৃতদেহ ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাকালে আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। দম্পতির ১৪ বছরের সম্পর্কের ফলস্বরূপ রিজিক নামে এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
বিনোদন অঙ্গনে আলোচিত ইকরা ইভনাথ হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেকে সাফ জানালেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪৪টি ব্যক্তিগত চ্যাট স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্পূর্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল এবং তিনি কখনোই ইকরাকে আত্মহত্যার জন্য প্ররোচিত করেননি। তিথি জানান, ইকরার মানসিক অবসাদ, পারিবারিক অশান্তি এবং ব্যক্তিগত হতাশাই মূল কারণ, যা তার মৃত্যুর পেছনে প্রভাব ফেলেছিল। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচার। তিথি আরও বলেন, ইকরাকে তিনি পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে সমর্থন করেছেন এবং কখনোই কোনোভাবে সংসার ভাঙার বা সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করেননি। পোস্টে তিথি, ইকরার পরিবারের সঙ্গে তার দূরত্ব এবং মানসিক কষ্টের বিষয়ও তুলে ধরেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থাগুলোকে এই ঘটনায় ন্যায্য তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। পোস্টের শেষাংশে ইফফাত আরা তিথি ইকরার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শান্তিতে থাকার প্রার্থনা জানিয়েছেন।
একসময়ের জনপ্রিয় জুটি ডলি সায়ন্তনী ও রবি চৌধুরীর সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে রবি চৌধুরী দাবি করেছেন, ডলির সঙ্গে তার ড্রাইভার বিপ্লবের সম্পর্কের কারণে তাদের সংসার ভেঙে যায়। এ বিষয়ে ডলি সায়ন্তনী জানিয়েছে, এসব অভিযোগ “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “আমাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমরা নীরব থাকলেও তা দুর্বলতা নয়।” তিনি আরও অনুরোধ করেছেন, ব্যক্তিগত বিষয় অযথা আলোচনার বিষয় না করা হোক। ডলি স্পষ্ট করেছেন, ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত তার পক্ষ থেকেই নেওয়া হয়েছিল এবং সেই সময়ই বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়েছিল। রবি জানিয়েছেন, তিনি ডলির ফোনে ‘দুলাভাই’ নামে সেভ থাকা নম্বর থেকে সন্দেহ পান, পরে তা যাচাই করে জানতে পারেন, নামটির আসল ব্যক্তি বিপ্লব, যিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় গাড়ি চালাতেন। এর ভিত্তিতেই তিনি ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন। উভয়েই এই বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত বিতর্কে যেতে না চাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভী সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করলেও তা নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রয়াত স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে স্মরণ করে লেখা আবেগঘন পোস্টটি প্রকাশের পরই দর্শক ও নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কিছু অংশ পোস্টকে সহানুভূতির প্রকাশ হিসেবে দেখলেও অন্যরা এটিকে “দায় এড়ানোর চেষ্টা” বা ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিকে জনমত প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রকাশিত পোস্টে আলভী ইকরাকে ‘ইকলি’ নামে সম্বোধন করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন, যেখানে তিনি ইকরার মৃত্যুর পর সমাজের আচরণ ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, শিগগিরই ইকরার সঙ্গে পাহাড়ের চূড়ায় বসে বিষয়গুলো আলোচনা করার ইচ্ছা তার রয়েছে। তবে পোস্ট প্রকাশের পরই মন্তব্য বন্ধ করে দেন, যা বিতর্কের মাত্রা কমাতে ব্যর্থ হয়। এদিকে, ইকরার পরিবার অভিযোগ করেছে যে আলভীর সহকর্মী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ইকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। মৃত্যুর পর পল্লবী থানায় এ নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়। নেপালে নাটকের শুটিং এবং তিথির জন্মদিন উদযাপনের বিষয়টি বিনোদন অঙ্গনে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলভীর পোস্টের ওপর সমালোচনা ও সমর্থনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারেননি। ফলে অভিনেতা জনমতের চাপের মধ্যেই রয়েছেন, যেখানে ব্যক্তিগত শোক প্রকাশ ও সামাজিক নৈতিকতার সীমারেখা নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মানিকগঞ্জে একটি নাটকের শুটিং সেটে সহশিল্পীর প্রতি অসদাচরণ ও শারীরিক আঘাতের অভিযোগ উঠেছে ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা–এর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী অভিনেত্রী সামিয়া অথৈ দাবি করেছেন, দৃশ্য ধারণ চলাকালে স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়, যার ফলে তিনি রক্তাক্ত হন। জানা যায়, পরিচালক রাফাত মজুমদার রিংকু–র নির্মাণাধীন একটি নাটকের শুটিং চলাকালে গত ২ মার্চ এ ঘটনা ঘটে। নাটকে আরও অভিনয় করছেন শহিদুজ্জামান সেলিমসহ একাধিক শিল্পী। অভিযোগ অনুযায়ী, দৃশ্য ধারণের সময় তিশা ইচ্ছাকৃতভাবে খামচি দিয়ে অথৈয়ের হাতে আঘাত করেন। উপস্থিত সহকর্মীরা বিষয়টি লক্ষ্য করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগের সূত্রপাত একটি ব্যক্তিগত উপহার প্রদানকে কেন্দ্র করে হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া অতীতে পেশাগত বিষয়ে ফোনে হুমকির অভিযোগও উত্থাপন করেছেন সামিয়া অথৈ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তানজিন তিশার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মহলে পেশাগত আচরণবিধি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং শিল্পীদের পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার প্রশ্নটি সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী পক্ষ প্রয়োজনীয় আইনি প্রতিকার চাইবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। বিস্তারিত আসছে...
দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন দক্ষিণি চলচ্চিত্র অঙ্গনের দুই জনপ্রিয় মুখ— রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজস্থানের উদয়পুরে ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে সম্পন্ন হচ্ছে তাঁদের বিবাহ অনুষ্ঠান। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে প্রাক্-বিবাহ অনুষ্ঠান চলার পর আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হয় আজ। তারকাখচিত অতিথি ও প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হচ্ছে। এদিকে বিয়ের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে অভিনেত্রীর কনিষ্ঠ বোন শিমান। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই বোনের বয়সের পার্থক্য প্রায় ১৬ বছর। পরিবার সচেতনভাবেই শিমানকে জনপরিসর ও গণমাধ্যমের আলোচনার বাইরে রেখেছে, যাতে তিনি স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারেন। বিবাহ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে দম্পতির নতুন জীবনপর্বের সূচনা হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের অভিনন্দন বার্তায় সরব রয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো।
মানিকগঞ্জে একটি রেস্তোরাঁয় সংঘটিত সহিংস হামলায় একজন গ্রাহক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মানিকগঞ্জ শহরে চিত্রনায়ক ওমর সানী-র মালিকানাধীন চাপওয়ালার শ্বশুর বাড়ি বাংলা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট-এ এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম মো. আতিকুর রহমান খান। তার চাচা মো. খলিলুল রহমান খান বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, আতিকুর ও তার কয়েকজন বন্ধু রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গেলে নারী ক্রেতাদের সঙ্গে এক কর্মীর অশোভন আচরণের প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লোহার রড, হাতুড়ি, চাপাতি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় আতিকুরকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—ইমরান, লিখন, হাসান, জীবন, মুন্না ও মঞ্জুরসহ মোট ১৩ জন; বাকিরা অজ্ঞাত। ঘটনার বিষয়ে ওমর সানী জানান, অভিযুক্ত কর্মী লিখনকে স্বল্প সময় আগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং তার আচরণ নিয়ে আগেই সন্দেহ ছিল। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি বিচার দাবি করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার কথাও জানান। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকরাম হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি গুরুতর অসুস্থতায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। পরবর্তীতে দুইটি হাসপাতালে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শ্যামলীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার শুরু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা সকাল আহমেদ। তিনি জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অস্ত্রোপচার শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলার কথা ছিল। চিকিৎসক দল ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত সার্জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফ্যান পেজে দেওয়া এক বার্তায় তানিয়া বৃষ্টি জানান, তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার করতে হবে এবং সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপুও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাঁর ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচার চলছে এবং চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক তদারকিতে রয়েছেন। অভিনেত্রীর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, অসুস্থতার এই সময়ে যেন শুটিং ডেট বা কাজ সংক্রান্ত কোনো ফোন বা বার্তার মাধ্যমে তাঁকে বিরক্ত না করা হয়। পূর্ণ বিশ্রাম ও চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলে তিনি নিজেই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। নাট্যাঙ্গনে নিয়মিত কাজের পাশাপাশি গত বছর পরিচালক রায়হান খান পরিচালিত ট্রাইব্যুনাল নামের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তানিয়া বৃষ্টি। চট্টগ্রামের এক মর্মান্তিক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাকে উপজীব্য করে নির্মিত এ সিনেমার কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে একটি চলচ্চিত্রের কাজ ঝুলে থাকায় আইনি জটিলতায় পড়েছেন দক্ষিণী তারকা ধানুশ। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেনান্ডাল ফিল্মস অভিনেতার কাছে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া–র প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে ‘নান রুদ্রন’ শিরোনামের একটি সিনেমায় অভিনয় ও পরিচালনার জন্য ধানুশ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও এখনো ছবিটির শুটিং শুরু হয়নি। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পে একাধিক সময়সূচি পরিবর্তনে প্রযোজনা সংস্থা সম্মত হলেও দীর্ঘ বিলম্বে তাদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। প্রযোজনা সংস্থার দাবি, চুক্তিভুক্ত ছবির কাজ শেষ না করেই ধানুশ অন্য চলচ্চিত্রে সময় দেওয়ায় প্রকল্পটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে প্রাথমিক বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও নোটিশে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ধানুশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হওয়া রুমিন ফারহানাকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেছেন ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক স্টোরিতে ওই ছবি শেয়ার করেন তিনি, যা পরবর্তীতে অনলাইন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ছবির সঙ্গে অপু বিশ্বাস বিজয়ী প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানান এবং নারী নেতৃত্বের অগ্রযাত্রায় সমর্থন প্রকাশ করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একাংশের মন্তব্য, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন প্রকাশনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে; অন্যদিকে অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক সামাজিক সৌজন্য হিসেবে দেখছেন। অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, নির্বাচনে জয়লাভের পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রুমিন ফারহানাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন—এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রতিনিধি হিসেবে শিল্পের উন্নয়ন ও সংস্কৃতিচর্চায় ইতিবাচক ভূমিকার প্রত্যাশাই তিনি ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রুমিন ফারহানা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ফল ঘোষণার পর থেকেই তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শুভেচ্ছা বার্তায় সিক্ত হচ্ছেন।
দেশে ইতিহাসে প্রথমবার একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি। ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে উদ্বেগ ও আগ্রহ। এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর কাড়লেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল শবনম ফারিয়া। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি ভোট দেওয়ার পাশাপাশি পহেলা ফাল্গুনে শাড়ি না আবায়া পরার প্রশ্ন তুলেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে লাইক, শেয়ার ও মন্তব্যের ঝড়ে পরিণত হয়। এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের ভোট প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে এবং দেশের ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে ভোটাররা ইতোমধ্যে নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন উত্তাপ বাড়ছে, তেমনি আলোচনায় উঠে আসছেন বিনোদন জগতের পরিচিত মুখরাও। সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীর পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে নব্বই দশকের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা ওমর সানী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রকাশ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ থাকলে তার প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। ওমর সানীর এই অবস্থান ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। বিশেষ করে তার স্ত্রী অভিনেত্রী মৌসুমীর অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় আসে। একসময় মৌসুমী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে শোবিজ অঙ্গনের একাধিক তারকার প্রচারণা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। তবে অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এসব শিল্পীকে ঘিরে সমালোচনাও বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকদের মতে, ওমর সানীর বক্তব্যকে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি নিজেকে বিতর্ক থেকে আলাদা রাখার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে মৌসুমী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয় নন এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।