ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের গোয়েন্দা প্রধানকে লক্ষ্য করা হয়েছে, তবে তার প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত হয়নি। কাতারের আল জাজিরা জানিয়েছে, এই অভিযান ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পরিচালিত হলেও আঘাতের পরিমাণ ও ফলাফল এখনো যাচাই চলছে। ইরান থেকে পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে তেল আবিব ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, এতে অন্তত দুজন নিহত এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষত রামাত গানে একটি রকেট সরাসরি বসবাসস্থানে আঘাত হানে, যেখানে ৭০ বছরের একটি দম্পতির মৃত্যু হয়। হামলায় তেল আবিবের একটি রেলস্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও হিজবুল্লাহর অন্তত শতাধিক রকেট ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সংঘাতের এই জটিল পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরান–সংকট ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান শক্তি বড় ধরনের কার্যক্ষমতা সংকটে পড়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ও উচ্চব্যয়সম্পন্ন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড অভ্যন্তরীণ অগ্নিকাণ্ড ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লোহিত সাগর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, রণতরিটিকে জরুরি মেরামতের জন্য গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে অবস্থিত সুদা বে নৌঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন সমুদ্রে মোতায়েন থাকার পাশাপাশি সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে জাহাজটির কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, জাহাজটির অভ্যন্তরে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছে এবং এতে নাবিকদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রণতরির সাময়িক অপসারণ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিকল্প হিসেবে অন্য রণতরি মোতায়েনের প্রস্তুতির কথাও জানা গেছে।
রমজান মাসের সমাপ্তি নির্দেশক শাওয়াল মাসের চাঁদের উপস্থিতি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিস্থ খতম অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরি থেকে এ সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় উন্নত ক্যামেরার মাধ্যমে চাঁদের ছবি ধারণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ওই সময় সূর্য থেকে চাঁদের কৌণিক দূরত্ব ছিল ৯.২ ডিগ্রি এবং চাঁদের বয়স ছিল মাইনাস ১৫ ঘণ্টা ২৩ মিনিট, যা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচিত হয়। এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন এবং চিত্র ধারণের দায়িত্ব পালন করেন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আওদা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক তথ্য ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তবে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিদ্যমান নীতিগত অবস্থানে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেননি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পরমাণু অস্ত্র উন্নয়ন থেকে বিরত থাকার যে দীর্ঘদিনের নীতি তেহরান অনুসরণ করে আসছে, তা আপাতত বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান এখনো দেশটির নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে উদ্বেগ ও জল্পনা তৈরি হয়েছে, তারই প্রেক্ষিতে এ মন্তব্য এসেছে। উল্লেখ্য, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পূর্বে একটি ধর্মীয় ফতোয়ার মাধ্যমে পারমাণবিক ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রের উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় তাঁর মৃত্যুর পর সেই নীতি বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন দেখা দিলেও আরাঘচির বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তেহরান আপাতত পূর্ববর্তী নীতিতেই অবিচল থাকতে চায়। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত ইরানের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক নীতির বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব বিশ্ববাজারে স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর দামের হ্রাস ঘটিয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) স্পট গোল্ডের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৯৮৪.২৯ ডলারে নেমেছে, খবর দিয়েছে রয়টার্স। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণের মূল্য মূলত ফেডের নীতিমালা নির্ভর করছে। বিশেষ করে, বাজারের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রয়েছে ফেড এই বছরে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে কি না তা দেখার ওপর। ওএএনডিএ-এর সিনিয়র মার্কেট বিশ্লেষক কেলভিন ওং জানিয়েছেন, “মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ফেডের নীতি মিলিয়ে স্বর্ণের চাহিদা ও দামের গতিপথ নির্ধারিত হচ্ছে।” উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি বা অস্থির পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ধাতুতে বিনিয়োগ বাড়ান। স্বর্ণ ছাড়াও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও হ্রাস পেয়েছে। স্পট সিলভার ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৮.৪২ ডলারে নেমেছে। এছাড়া, স্পট প্ল্যাটিনামের দাম ১.২ শতাংশ কমে ২,৯৮৮.২০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৩ শতাংশ কমে ১,৫৮০.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফেডের সিদ্ধান্তের পর আগামী সপ্তাহে ধাতুর বাজারে আরও দামের ওঠাপড়া হতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল পুনরুদ্ধার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বুধবার (১৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযানে ৫ হাজার পাউন্ড ওজনের ‘ডিপ পেনিট্রেটর’ বা বাঙ্কার বাস্টার বোমা ব্যবহার করে সুরক্ষিত সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্থাপনায় মোতায়েন জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছিল। সেন্টকম জানায়, ইরানের পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এ সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক অচলাবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা দেখা দেয়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতি এ অভিযানে সহায়তার আহ্বান জানালেও অধিকাংশ মিত্র রাষ্ট্র এতে সাড়া দেয়নি। এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রশ্নে মিত্রদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশিত ছিল। অন্যদিকে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন থেকে বিরত রাখা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি। যদিও ইরান বরাবরই তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যসংশ্লিষ্ট বলে দাবি করে আসছে। উল্লেখ্য, ব্যবহৃত বাঙ্কার বাস্টার বোমাগুলো মূলত ভূগর্ভস্থ ও সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা ধ্বংসে সক্ষম উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো এক পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, ইরানে চলমান যুদ্ধকে তার ব্যক্তিগত বিবেক সমর্থন করে না। চিঠিটি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা হয়। সেখানে কেন্ট লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান কোনো তাৎক্ষণিক বা আসন্ন নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেনি। তার ভাষায়, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাবশালী লবির চাপের কারণেই এই সংঘাতে জড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, জো কেন্টের পদত্যাগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ইস্যুতে কেন্টের অবস্থান দুর্বল ছিল। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্ট যখন ইরানকে হুমকি নয় বলে মন্তব্য করেন, তখনই তিনি মনে করেন তার পদত্যাগই শ্রেয়। ট্রাম্প আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইরান সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ছিল; এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই হুমকি মোকাবিলায় দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত কি না।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে কোনো সামরিক অভিযানে ফ্রান্স অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ফ্রান্সের মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমান যুদ্ধে ফ্রান্স কোনো পক্ষের সঙ্গে যুক্ত নয়। সে কারণে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হলে ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে প্যারিস। ম্যাক্রোঁ বলেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এবং সামরিক হামলা বন্ধ হলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্স প্রস্তুত থাকবে। এর আগে সোমবার হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থানকে ‘১০-এর মধ্যে ৮’ নম্বর দিয়ে মূল্যায়ন করেন এবং শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে যোগ দেবে বলেও প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তবে মঙ্গলবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করে বলেন, চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার সামরিক অভিযানে ফ্রান্স অংশ নেবে না। একই সঙ্গে ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে একটি বহুজাতিক জোটের মাধ্যমে ওই সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ফ্রান্স।
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদক পুনর্বাসনকেন্দ্রে বিমান হামলার ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে। তালেবান সরকারের দাবি অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাবুলের দুই হাজার শয্যাবিশিষ্ট ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে সোমবার (১৬ মার্চ) রাতের দিকে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে আফগান প্রশাসন। তালেবান সরকারের ডেপুটি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, হামলার ফলে হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে পাকিস্তান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তাদের সামরিক বাহিনী কেবল কাবুল ও নানগাহার প্রদেশে অবস্থিত নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সীমিত অভিযান পরিচালনা করেছে এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন। স্থানীয় সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার আগে আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যায় এবং পরে বিস্ফোরণের পর হাসপাতাল ভবনে আগুন ধরে যায়। টেলিভিশন ফুটেজে দমকল বাহিনীকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং হামলার দায়-দায়িত্ব নিয়ে দুই পক্ষের বিপরীতমুখী বক্তব্যের কারণে পরিস্থিতি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার প্রথম ধাপেই তেহরানে অবস্থিত খামেনির বাসভবন ও কার্যালয়কে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ওই কম্পাউন্ড ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য প্রাণ হারান বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ওই সময় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তার দ্বিতীয় ছেলে ও বর্তমান নেতৃত্বে থাকা মোজতবা খামেনি। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলার কয়েক মিনিট আগে ব্যক্তিগত কাজে কক্ষ থেকে বের হয়ে বাগানে হাঁটতে যাওয়ায় তিনি সরাসরি বিস্ফোরণের মুখে পড়েননি। গণমাধ্যমটি একটি কথিত অডিও রেকর্ডিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, যেখানে খামেনির দপ্তরের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি হামলার সময়কার পরিস্থিতি বর্ণনা করেন। অডিওটিতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) কয়েকজন কমান্ডার। বিবরণ অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে ইসরায়েলের ‘ব্লু স্প্যারো’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। এতে মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। হামলায় খামেনির সামরিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ সিরাজিও নিহত হন। তবে মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, সামরিক নেতৃত্বের কাছেও তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এমন তথ্য পেয়েছেন যে মোজতবা খামেনি হয়তো আর জীবিত নেই; জীবিত থাকলেও গুরুতর আহত অবস্থায় থাকতে পারেন। তবে এসব দাবির বিষয়ে তেহরান থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দেড় ঘণ্টার মধ্যে মোট ৩৭টি ড্রোন ওই অঞ্চলের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে ড্রোনগুলো প্রতিহত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এসব ড্রোনের উৎস বা কোন পক্ষ থেকে এগুলো পাঠানো হয়েছে—সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনার আগে সৌদি আরবে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়েতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনায় তেহরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তার দাবি, ইরান যদি এমন কোনো অভিযান পরিচালনা করত, তবে তা প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিত। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান টানা ১৭ দিনে গড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরদিকে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না এবং সংঘাত বন্ধের সিদ্ধান্ত তাদের সার্বভৌম অধিকারের বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান এই উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
রানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান টানা ১৭ দিনে পৌঁছেছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই আক্রমণের পেছনে কৌশলগতভাবে ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে কূটনীতির সমর্থন জানালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানাতেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে ট্রাম্প সৌদি নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় রয়েছেন এবং বিশেষভাবে যুবরাজের পরামর্শে ইরানিদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখার কৌশল নির্ধারিত হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, সৌদি প্রয়াত রাজা আব্দুল্লাহর প্রাক্তন নির্দেশনা অনুসারে শত্রুর মূল নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবও এখন পুনরায় কাজে লাগানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মোট ৫৪টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় খোররামশাহর সুপার-হেভি ক্ষেপণাস্ত্র, খায়বার-শাখান, কদর ও এমাদ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো কৌশলগত জ্বালানি চালিত সেজিল ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়, সেজিল একটি মাঝারি পাল্লার সারফেস-টু-সারফেস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা থেকে ইসরায়েলের তেল আবিব পর্যন্ত দূরত্ব অল্প সময়ের মধ্যেই অতিক্রম করতে সক্ষম। এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা তারা শনাক্ত করেছে। আগের হামলার খবর প্রকাশের দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই নতুন আক্রমণ সংঘটিত হয়েছে বলে তাদের দাবি। উল্লেখ্য, গত ১৭ দিন ধরে ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে ইরানে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে দুই হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন সহস্রাধিক মানুষ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাহরাইনে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বাহরাইনের জাতীয় বিমান সংস্থা গাল্ফ এয়ারের মাধ্যমে এই বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) দূতাবাসের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্ধারিত ফ্লাইটটি বাহরাইন থেকে প্রথমে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। দেশে ফিরতে আগ্রহী প্রবাসী বাংলাদেশিদের দূতাবাসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত নির্ধারিত গুগল ফরম পূরণ করে নিবন্ধন করতে হবে। দূতাবাস আরও জানিয়েছে, ফ্লাইটের আসন বরাদ্দ সম্পূর্ণভাবে গাল্ফ এয়ার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে এবং ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে বুকিং সম্পন্ন করা হবে। প্রতিটি আসনের সম্ভাব্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩০০ বাহরাইনি দিনার, যার মধ্যে বাহরাইন থেকে দাম্মাম পর্যন্ত বাস ভ্রমণ এবং সৌদি আরবের প্রয়োজনীয় ট্রানজিট অনুমতির ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০ মার্চ অথবা এর কাছাকাছি কোনো তারিখে ফ্লাইটটি পরিচালিত হতে পারে। আগ্রহী প্রবাসীদের আগামী ১৬ মার্চ সকাল ১০টার মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য দূতাবাস অনুরোধ জানিয়েছে।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস শনিবার জরুরি নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের তাত্ক্ষণিকভাবে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের শীর্ষ অগ্রাধিকার। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, জরুরি প্রয়োজনে মার্কিন নাগরিকরা স্থানীয় কনস্যুলেট বা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।
নির্বাসনে থাকা ইরানের প্রাক্তন ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি জানিয়েছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তেহরানের জন্য একটি রূপান্তর নীতি প্রস্তুত করছেন, যাতে দেশটিতে শাসন ব্যবস্থায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। পাহলভি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যোগ্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে, যারা তার নেতৃত্বে সরকারের কার্যক্রম চালাবে। তিনি অঙ্গীকার করেছেন, ইসলামি শাসন ব্যবস্থা থেকে গণতন্ত্রে রূপান্তর নিশ্চিত করতে তিনি সরাসরি সহায়তা করবেন এবং শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাবেন। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে ইরানে রাজতন্ত্র পতনের পর থেকে পাহলভি নির্বাসনে আছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি নিজেকে বিরোধী নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘোষণার মধ্যে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ইরানের রাজনৈতিক সংকট ও চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিশানা করার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ রোববার ( ১৫ মার্চ) ইআরজিসির নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু সম্পর্কে বলা হয়, ‘আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাঁকে ধাওয়া ও হত্যা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’ দুই সপ্তাহ আগে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের ডাক দিয়ে দেশটির সঙ্গে এ যুদ্ধ শুরু করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় পুত্র আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নেতানিয়াহুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কী ব্যবস্থা নিতে পারে? জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি এই ‘‘সন্ত্রাসী’’ নেতাদের কারোরই জীবনবিমার নিশ্চয়তা দেব না।’
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ১৬ দিনে পৌঁছালে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ বিপর্যয়ের মুখে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছেন, তবে চীন, জাপান, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো সক্রিয় প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ইরানের ঘোষণা অনুযায়ী, তারা এই প্রণালিতে ইসরায়েল ও মার্কিন নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে, যা বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন প্রভাবিত করছে। ট্রাম্পের আহ্বানে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়টি নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বৈশ্বিক তেল বাজারে অনিশ্চয়তার সংকেত হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাজ্য, চীন ও জাপান সামরিক পদক্ষেপে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেনি; জাপানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরে বিষয়টি এজেন্ডায় থাকতে পারে। ফ্রান্স স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে না। এই অবস্থায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ অস্থিরতা ও মূল্য ওঠানামার মুখে রয়েছে।
পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তান। দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত ওই অভিযানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অন্তত ১৪ সদস্য নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ এলাকায় অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ‘রাদ-উল-জুলম’ নামে পরিচালিত ওই অভিযানে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দাবি করেছে কাবুল। সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে আফগান প্রতিরক্ষা বাহিনী দেখিয়েছে যে প্রয়োজন হলে তারা সীমান্তের বাইরে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা রাখে। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে আফগান কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে হামলা অব্যাহত রেখেছে। কুনার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান জিয়াউররহমান স্পিংঘার জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় পাকিস্তানি সেনারা কুনারের বিভিন্ন এলাকায় ২৭১টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পারস্য উপসাগর অঞ্চলের কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা জোরদারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; বরং যেসব দেশ এ পথ দিয়ে পরিবাহিত তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদেরও যৌথভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। শনিবার (১৪ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া একাধিক পোস্টে ট্রাম্প ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও চীনের মতো দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত এই প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ হওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান কার্যত প্রণালির কার্যক্রম সীমিত করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ রাখা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং অতিরিক্ত মেরিন সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সামুদ্রিক বাণিজ্যিক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং তার জীবিত থাকার বিষয়েও নিশ্চিত কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি। ট্রাম্পের দাবি, বিভিন্ন সূত্রে তিনি এমন খবর শুনেছেন যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হয়তো আর জীবিত নেই। তবে একই সাক্ষাৎকারে তিনি এ ধরনের তথ্যকে ‘গুজব’ বলেও উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, যদি মোজতবা খামেনি জীবিত থাকেন, তাহলে পরিস্থিতি বিবেচনায় তার উচিত হবে আত্মসমর্পণের মতো একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া। ইরানের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যারা ভবিষ্যতে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সক্ষমতা রাখেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও জানান, ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও তিনি আপাতত কোনো চুক্তিতে যেতে রাজি নন। তার মতে, আলোচনার জন্য যে শর্তগুলো সামনে এসেছে, তা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সন্তোষজনক নয়। এই মন্তব্যের পর ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।