উপসাগরীয় যুদ্ধ শেষ করতে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের একটি সূত্র। ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বাস করছে যে তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে এক পাতার একটি সমঝোতা স্মারকের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে চলমান মার্কিন নৌ-মিশন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
আরব সাগরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিপদগ্রস্ত ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজকে মানবিক সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। বুধবার (৬ মে) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এমভি গৌতম নামের জাহাজটি ওমান থেকে ভারতের পথে থাকা অবস্থায় সমুদ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়ে। ঘটনার পর পাকিস্তান নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে জাহাজটির নাবিকদের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করে। এ সময় জাহাজটিতে থাকা ছয় ভারতীয় ও এক ইন্দোনেশীয় নাবিককে নিরাপদে সহায়তা প্রদান করা হয়। অভিযানে পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সিও সমন্বিতভাবে কাজ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতীয় মেরিটাইম রেসকিউ কর্তৃপক্ষের অনুরোধের পরই এই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। সমুদ্র নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে; যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি এলাকায় মার্কিন স্বার্থ বা ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজে হামলা হলে ইরানকে “চরম পরিণতি” ভোগ করতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও বৈশ্বিক উপস্থিতির ওপর জোর দিয়ে জানান, প্রয়োজনে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগে ওয়াশিংটন দ্বিধা করবে না। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করা হতে পারে। তার দাবি, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপের মুখে ইরান তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিচ্ছে, তবে কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে কেন্দ্র করে এমন কঠোর বক্তব্য আন্তর্জাতিক বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে রাজনৈতিক পালাবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে; দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন শিবির বড় ধরনের ধাক্কা খেয়ে রাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন ঘটেছে। সর্বশেষ সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, কলকাতার ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী-এর কাছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যে দেখা যায়, শুভেন্দু পেয়েছেন ৭৩,৯১৭ ভোট, বিপরীতে মমতার প্রাপ্তি ৫৮,৮১২। একইসঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনেও জয় ধরে রেখে টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। সামগ্রিক ফলাফলে ভারতীয় জনতা পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দলটি ১৯০-এর বেশি আসনে জয় ও অগ্রগামিতা ধরে রেখে এককভাবে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস উল্লেখযোগ্য আসন হারিয়ে দ্বি-অঙ্কের সীমায় নেমে এসেছে, যা পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনগত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা অব্যাহত রেখেছে এবং সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কেরালার নির্বাচনী রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিবর্তনের সাক্ষী হলো পেরামব্রা বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে দীর্ঘদিনের বাম ঘাঁটিতে ভিন্নধারার ফলাফল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ফলাফলে ফাতেমা তাহলিয়া, প্রার্থী হিসেবে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ-এর হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রামকৃষ্ণান-কে প্রায় ৪,৭০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। মোট ৬৩,৯৯৯ ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হন। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে তাহলিয়া দলটির ইতিহাসে প্রথম নারী বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আইন পেশাজীবী ও সাবেক কাউন্সিলর হিসেবে পরিচিত এই তরুণ নেতা ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে রাজ্য পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকে সাইবার হয়রানি ও সামাজিক বিদ্বেষের মুখোমুখি হলেও তিনি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত রাখেন এবং শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, পেরামব্রার এই ফলাফল কেবল একটি আসনের পরিবর্তন নয়; বরং কেরালার রাজনৈতিক ভারসাম্যে সম্ভাব্য পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বহন করছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গণনার শেষ পর্যায়ে এসে কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে ফলাফল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যেখানে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রুদ্ধশ্বাস পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার (৪ মে) সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৬ রাউন্ড গণনা শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৩৮ ভোটে পিছিয়ে পড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী-এর কাছে। এখনও চার রাউন্ডের গণনা বাকি রয়েছে, যা এই আসনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে निर्णায়ক ভূমিকা রাখবে। এদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখে টানা তৃতীয়বারের মতো জয় নিশ্চিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল প্রার্থীকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি তার রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রেখেছেন। গণনাকেন্দ্র এলাকাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত হলে মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বিরোধী কর্মীদের স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গণনাকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে, যার প্রেক্ষিতে প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী নির্বাচনে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বর্তমান নির্বাচনে একই আসনে তার রাজনৈতিক অবস্থান নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগিয়ে গিয়ে সরকার গঠনের পথ নিশ্চিত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি, যা রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ধারায় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সোমবার (৪ মে) ফলাফলের প্রবণতা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বিজয়কে “জনগণের রায় ও আস্থার প্রতিফলন” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি রাজ্যবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রদত্ত জনম্যান্ডেট সংবিধানসম্মতভাবে রক্ষা করা হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা হবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ২০০-এর বেশি আসনে এগিয়ে থেকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে। এর ফলে টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের সাংবিধানিক ভিত্তি পেয়েছে দলটি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই নির্বাচনী ফলাফলের প্রেক্ষিতে রাজধানী দিল্লিতে দলীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক বিজয় উদ্যাপনের কর্মসূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলি বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে বেসামরিক সম্পত্তিতে অবৈধ হস্তক্ষেপ ও লুটতরাজের গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে, যা সামরিক শৃঙ্খলা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী বলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ ও ‘হারেৎজ’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন কিছু রিজার্ভ ইউনিট বেসামরিক ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাৎ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রিজার্ভ সেনা সদস্যের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য দ্রব্য, অলঙ্কার, এমনকি পারিবারিক স্মৃতিচিহ্ন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। একাধিক ঘটনায় কমান্ড পর্যায় থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর করতে ব্যর্থতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি ঘটনায় দেখা যায়, এক কমান্ডার তার অধীনস্থ সেনাদের লুট করা সামগ্রী নিয়ে ফেরত আসা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে গাজা সংঘাতকালেও অনুরূপ অভিযোগ উঠেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি সেনাপ্রধান Eyal Zamir সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠকে এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করলেও, বাস্তব পরিস্থিতিতে নির্দেশনার প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল সামরিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘনই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনি জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে পারে।
দীর্ঘ আর্থিক চাপ ও জ্বালানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট এয়ারলাইনস ‘স্পিরিট’ তাদের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এতে সংস্থাটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম কার্যত সমাপ্তির পথে। শনিবার (২ মে) প্রতিষ্ঠানটি জানায়, টানা লোকসান, উচ্চ ঋণ এবং পরিচালন ব্যয়ের অস্থিতিশীলতা বিবেচনায় তারা আর ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখতে পারছে না। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, যাত্রীদের টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিকল্প এয়ারলাইনসে পুনরায় বুকিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কোম্পানিটি দেউলিয়াত্ব এড়াতে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছিল, তবে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ সেই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়। ফ্লোরিডাভিত্তিক এই স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থাটি ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে এবং কম ভাড়ার বিমান পরিষেবার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছিল।
মার্কিন নৌ-অবরোধ ও নজরদারির সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে ইরান-এর একটি তেলবাহী জাহাজের সফল যাত্রা; প্রায় ২২ কোটি ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল বহনকারী জাহাজটি বাধা অতিক্রম করে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে পৌঁছেছে। রোববার (৩ মে) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্যাংকার ট্র্যাকার্স ডটকম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির মালিকানাধীন একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (VLCC) প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল বহন করে দীর্ঘ সমুদ্রপথ অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ এটি শ্রীলঙ্কার উপকূলে শনাক্ত হওয়ার পর বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার লম্বক প্রণালি হয়ে রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাহাজটি আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়াতে যাত্রাপথে অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (AIS) বন্ধ রাখে, যা বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নীতিমালার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কৌশল ব্যবহার করে বড় আকারের জ্বালানি পরিবহন মার্কিন নেতৃত্বাধীন অবরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের নৌ-অবরোধ কার্যক্রমের ফলে একাধিক ইরানি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে এবং এর ফলে ইরানের তেল রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তবে সমান্তরালভাবে একাধিক জাহাজ অবরোধ অতিক্রম করতে সক্ষম হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে কৌশলগত ও আইনি মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ মে ঈদ উদযাপিত হতে পারে। শনিবার (২ মে) এআরওয়াই নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬ ও ১৭ মে মধ্যবর্তী রাতে নতুন চাঁদের উদ্ভব ঘটবে এবং ১৭ মে সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স ১৮ ঘণ্টার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় সেদিন সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দৃশ্যমান হতে পারে। এ অবস্থায় ১৮ মে জিলহজ মাসের প্রথম দিন গণ্য হলে ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চাঁদ দৃশ্যমান না হলে শরিয়ত অনুযায়ী জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে ঈদের তারিখ একদিন পিছিয়ে ২৮ মে নির্ধারিত হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট চাঁদ দেখা কমিটির ওপর ন্যস্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত এই সম্ভাব্য সময়সূচিকে সমর্থন করলেও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রত্যক্ষ চাঁদ দর্শনের ওপরই ঈদের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
ইরানকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যেকোনো ‘অসদাচরণ’ ঘটলে পুনরায় হামলার বিকল্প উন্মুক্ত রয়েছে। শনিবার ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো তার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তিনি চূড়ান্ত লিখিত খসড়ার অপেক্ষায় আছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান এখনো তাদের কার্যকলাপের জন্য যথেষ্ট মূল্য পরিশোধ করেনি—ফলে পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে সামরিক প্রতিক্রিয়া অস্বীকার করা যাবে না। অন্যদিকে, ইরান নতুন প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা ও যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের শর্ত তুলে ধরেছে, যদিও পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনাকে পরবর্তী ধাপে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না—সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি ওয়াশিংটন।
ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ অভিযানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর কিছু কার্যক্রম “জলদস্যুদের মতো” আচরণের শামিল। শুক্রবার (১ মে) ফ্লোরিডায় এক জনসভায় ট্রাম্প বলেন, সমুদ্রপথে জাহাজ আটক করে তেল ও কার্গো জব্দ করা হচ্ছে, যা তার ভাষায় একটি “লাভজনক অপারেশন”। তিনি আরও মন্তব্য করেন, এসব পদক্ষেপ কার্যত জলদস্যুতার সঙ্গে তুলনীয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর পারস্য উপসাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, যার ধারাবাহিকতায় হরমুজ প্রণালিতে কৌশলগত চাপ তৈরি হয়। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় তিনি সন্তুষ্ট নন এবং সমঝোতা না হলে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক কর্মকাণ্ডকে “আগ্রাসী ও অযৌক্তিক” বলে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে।
সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে ইরানমুখী ছয়টি স্থল ট্রানজিট করিডর চালু করেছে পাকিস্তান। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তৃতীয় দেশের পণ্য দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে সরাসরি ইরান-এ পাঠানো যাবে। নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘ট্রানজিট অব গুডস থ্রু টেরিটরি অব পাকিস্তান অর্ডার ২০২৬’ জারি করে তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট এই সিদ্ধান্তের সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসলামাবাদ সফর এবং শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠককে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, এ করিডর আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে এবং পাকিস্তানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এতে পরিবহন ব্যয় ৪৫–৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অর্থনীতির জন্য এটি ইতিবাচক হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত চাপকে দুর্বল করতে পারে—ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতীয় পণ্যে নিষেধাজ্ঞা বহাল নতুন ট্রানজিট সুবিধা ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; পূর্বঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। নির্ধারিত রুট ও অবকাঠামো ছয়টি রুট করাচি, পোর্ট কাসিম ও গোয়াদার বন্দরকে গাবদ ও তাফতান সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল হয়ে এসব করিডর পরিচালিত হবে। সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত রুটে সময় লাগতে পারে মাত্র ২–৩ ঘণ্টা। বন্দর চাপ ও সরবরাহ সংকট বর্তমানে করাচি বন্দরে হাজারো কনটেইনার আটকে রয়েছে, আর যুদ্ধঝুঁকি বীমার খরচ বৃদ্ধিতে সমুদ্রপথ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য বিশ্লেষকদের মতে, এই করিডর দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার বাণিজ্য মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং বিকল্প আঞ্চলিক বাণিজ্য পথ হিসেবে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।
কৌশলগত জলসীমা নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে নতুন নীতিগত পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি); এর আওতায় হরমুজ প্রণালি ও আরব উপসাগরজুড়ে বিশেষ নৌনিয়ন্ত্রণ বলয় গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত উপকূলীয় অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি “বিশেষ নিয়ন্ত্রণ এলাকা” প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মাধ্যমে সমুদ্রপথে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো সমুদ্রপথকে জাতীয় শক্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং আঞ্চলিক নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ ঘোষণার আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছিলেন, আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে বহিরাগত প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ থাকবে না—যা সাম্প্রতিক এই কৌশলগত অবস্থানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরীণ সমর্থন ঘাটতির অভিযোগ তুলে ইউরোপীয় দুই মিত্র দেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইতালি ও স্পেন থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা বিবেচনার কথা জানিয়েছেন। শনিবার (২ মে) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিন-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। এতে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান সংশ্লিষ্ট সামরিক উত্তেজনার সময় ন্যাটো মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে সহায়তা করলেও প্রতিদানে সমর্থন পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ম্যানপাওয়ার ডাটা সেন্টার (ডিএমডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইতালিতে ১২ হাজার ৬৬২ এবং স্পেনে ৩ হাজার ৮১৪ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এদিকে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো ট্রাম্পের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইতালি বরং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে একটি আন্তর্জাতিক মিশনের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছিল। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইতালি ও স্পেনের সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের নৌক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংসের দাবি প্রত্যাখ্যান করে নতুন মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন, যেখানে বলা হয়েছে দেশটির নৌবাহিনী এখনো আংশিকভাবে সক্রিয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির এক শুনানিতে জানান, ইরানের নৌবাহিনীর সব সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়নি এবং হরমুজ প্রণালিতে এখনো কিছু দ্রুতগতিসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজ সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের কাছে এখনো “ফাস্ট অ্যাটাক বোট” ধরনের ছোট ও উচ্চগতিসম্পন্ন নৌযান রয়েছে, যা আঞ্চলিক জলসীমায় কার্যকর উপস্থিতি বজায় রেখেছে। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন অভিযানে ইরানের বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এবং দেশটির নৌবাহিনী কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তবে পেন্টাগনের সর্বশেষ মূল্যায়ন সেই দাবির সঙ্গে সরাসরি বিরোধ সৃষ্টি করেছে, যেখানে ইরানের নৌ সক্ষমতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়নি বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
ইরান ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যেই সীমিত পরিসরের শক্তিশালী সামরিক বিকল্প নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, বরং স্বল্পমেয়াদি কিন্তু লক্ষ্যভিত্তিক হামলার’ একটি পরিকল্পনা পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই পরিকল্পনার নকশা তৈরি করেন। এতে ইরানের তেল স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্ককে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে দ্রুত কৌশলগত ক্ষতি সাধন করা যায়। তবে এখনো পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ প্রস্তাবে অনুমোদন দেননি। তিনি বরং ইরানের ওপর নৌ-চাপ ও অর্থনৈতিক অবরোধ অব্যাহত রাখার কৌশলকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। অন্য একটি বিকল্প পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির কিছু অংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ও উঠে এসেছে, যা বাস্তবায়নে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা রয়েছে। এক্সিওস ও বিবিসির তথ্যমতে, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া আংশিক শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পরই এই সামরিক বিকল্পগুলো সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় আনা হয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ডার্ক ঈগল’ মোতায়েনের প্রস্তাবও দিয়েছে সেন্টকম, যা অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। প্রতিবেদনে বলা হয়, কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প এখনো উন্মুক্ত রেখেছে ওয়াশিংটন।
মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষ ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতায় কারাবন্দি রাজনৈতিক নেত্রী অং সান সু চি-এর দণ্ড পুনরায় হ্রাস করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সাজা কমানোর ঘটনা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) তার আইনি দলের এক সদস্য জানান, সর্বশেষ সিদ্ধান্তে তার মোট দণ্ডের আরও এক-ষষ্ঠাংশ কমানো হয়েছে। এর ফলে পূর্বে বিভিন্ন মামলায় দেওয়া ৩৩ বছরের সাজা ধাপে ধাপে কমে এখনো প্রায় ১৮ বছরের বেশি কারাভোগ অবশিষ্ট রয়েছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে আটক থাকা এই নোবেলজয়ী নেত্রীর বিষয়ে সামরিক জান্তা সরকারের এ পদক্ষেপকে সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে তার বর্তমান অবস্থান ও শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে ভ্যাঙ্কুভারে প্রবেশের চেষ্টা করেও কানাডা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে মেহেদি তাজ-কে। তাসনিম ও ইউএসএ টুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে তাকে বিমানবন্দরেই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দেশে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। তার সঙ্গে থাকা আরও দুই কর্মকর্তা হেদায়াত মমবেইনি ও হামিদ মোমেনিকেও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভিসা ও অস্থায়ী রেসিডেন্ট পারমিট থাকা সত্ত্বেও কানাডা কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত প্রবেশাধিকার বাতিল করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, পূর্বে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগকে এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কানাডা আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করায় ওই সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দেশটির অভিবাসন নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে তিনজনকেই ফেরত পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শামসুল আলম (৬৩) রংপুর মহানগরের কোতোয়ালী থানার ভোগিবালাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাংলাদেশ হজ অফিস, মদিনা আল-মুনাওয়ারা সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। এর আগে শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতা অনুভব করলে তিনি মদিনায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত স্থানীয় মালিক ফাহাদ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে পরদিন বুধবার ফজর নামাজের পর মদিনার জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের জন্য তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। হজ অফিসের তথ্যানুযায়ী, চলতি হজ মৌসুমে এ পর্যন্ত মোট সাতজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।