ইরানের কারাজে গ্রেফতার ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানিকে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করা হবে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ ফাঁসির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, এরফানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তার কারাজ শহরের ফারদিস আবাসিক এলাকায়। রোববার (১১ জানুয়ারি) পরিবারের কাছে জানানো হয়, আদালত মাত্র দুই দিনের মধ্যে তার বিচার শেষ করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, এরফানের পরিবারের সদস্যরা শেষবারের জন্য মাত্র ১০ মিনিটের দেখা করতে পারছেন। ইরানের কর্তৃপক্ষ এ মামলার নথি তার বোন, যিনি একজন নিবন্ধিত আইনজীবী, দেখার সুযোগও দেননি। সংস্থার মুখপাত্র আওয়ার শেখি বলেন, “এ ঘটনা ইরানের সরকারের তৎপরতা প্রদর্শন করে, যা দেশের নাগরিকদের ওপর ভয়ভীতি ও দমন চালাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।” ২০২২ সালের পর ইরানে চলা বৃহত্তম সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনে অন্তত ২,৫৭১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও ১২ শিশু রয়েছেন। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যাচ্ছেনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ফাঁসির সম্ভাবনা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, “যদি ইরান সরকার ফাঁসি কার্যকর করে, আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।” তবে এ পদক্ষেপের বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাননি। এই ঘটনা ইরানের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চ্যালেঞ্জের সঙ্গে দেশটির কঠোর দমননীতি উদ্ভাসিত করছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় বহুগুণ বেশি হতে পারে—এমন গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ দমনে ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ আংশিকভাবে সচল হলে দেশটির অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে এ ধরনের ভয়াবহ তথ্য সামনে আসে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা প্রকাশিত পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক বেশি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার পার্লামেন্টে জানান, তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য মিলেছে, তবে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এদিকে তেহরানের উপকণ্ঠের একটি মর্গের ভিডিও যাচাই করে সিবিএস নিউজ জানায়, সেখানে শত শত মরদেহ স্তূপ করে রাখা হয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশে গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ইরান সরকার এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ও নিয়মিত তথ্য প্রকাশ না করলেও রয়টার্স এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার হতে পারে। তবে ওই কর্মকর্তা সহিংসতার জন্য বিদেশি মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ দাবি করেছে, দমন-পীড়নের মাত্রা নজিরবিহীন। সংস্থাটির প্রধান মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম অভিযোগ করেন, আহতদের তথ্য গোপন করতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি জানান, সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিকল্প নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। নির্বাসিত ইরানি ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিলম্ব হলে প্রাণহানি আরও বাড়বে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিক সুরক্ষার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পোস্টে দাবি করা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি ওই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক ও যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সেনাবাহিনীও তাকে সমর্থন দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ঘিরে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বৈধতা, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রশ্নে লাতিন আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
কলকাতায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত মেলা ও তৃতীয় ‘প্রজ্ঞা আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। রোববার (৪ জানুয়ারি) তাপসকুমার পাল একাডেমি অব মিউজিক অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নগরীর উত্তমমঞ্চে দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়। পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—এই দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানে দেশ ও বিদেশের পাঁচজন বিশিষ্ট শিল্পী ও সংস্কৃতিসাধককে তাঁদের আজীবন সাধনা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘আন্তর্জাতিক প্রজ্ঞা পুরস্কার–২০২৫’ প্রদান করা হয়। এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন—শ্রীলঙ্কার কলম্বো ভিজ্যুয়াল অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস বিভাগের প্রখ্যাত বেহালাবাদক অধ্যাপক (ড.) রুউইন রঙিত ডায়াস, প্রবীণ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী বিদুষী বিভা সেনগুপ্ত, মণিপুরী নৃত্যের কিংবদন্তি গুরু অধ্যাপক কলাবতী দেবী, খ্যাতিমান পাখোয়াজগুরু অধ্যাপক পণ্ডিত চঞ্চল ভট্টাচার্য এবং এসরাজ ও হারমোনিয়াম বাদক অধ্যাপক পণ্ডিত দেবপ্রসাদ দে। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় একাডেমির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ভায়োলিন অর্কেস্ট্রায় রবীন্দ্রসংগীত ‘আলো আমার আলো’ এবং গৌড়ীয় নৃত্যে গুরুবন্দনার মাধ্যমে। পরবর্তীতে অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রদীপ প্রজ্বালন, সংবর্ধনা ও আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। রবীন্দ্রসংগীত, মণিপুরী নৃত্য ও শাস্ত্রীয় বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনায় এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ সৃষ্টি হয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল ৯৩ বছর বয়সী বিদুষী বিভা সেনগুপ্তের পরিবেশনা, যা দর্শক-শ্রোতাদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে একাডেমির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় বিশেষ অর্কেস্ট্রা ‘গ্লোবাল অর্কেস্ট্রা: বাংলার যোগ’, যা অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে। পুরো আয়োজনটি পরিচালনা করেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট বেহালাশিল্পী তাপসকুমার পাল। আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগীত ও সংস্কৃতির চর্চা ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এই আয়োজন বিশ্ব সংস্কৃতি অঙ্গনে বাংলাদেশের সঙ্গে উপমহাদেশের সৃজনশীল ঐতিহ্যকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে।
মদিনার মসজিদে নববীতে ২০২৫ সালে কোরআন মুখস্থ করেছেন ৮ হাজার ৩৩৫ শিক্ষার্থী। মসজিদ কর্তৃপক্ষের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বছরে দেশ-বিদেশের ৭১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কোরআন ও সুন্নাহ শিক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন গড়ে ৩৩ জন হিফজ সম্পন্ন করেছেন। ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অনলাইন ও দূরশিক্ষণের মাধ্যমে পড়াশোনা করছেন। এছাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশে দৈনিক তিন হাজারের বেশি হালাকাহ পরিচালিত হয়, যেখানে এক হাজার ৫০০ শিক্ষক পাঠদান করছেন। ২০২৫ সালে কোরআন ও সুন্নাহ শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী গ্রন্থে ইজাজা পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী, এবং প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ ও ইসলামী গ্রন্থ মুখস্থ করেছেন। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য দৈনিক ছয় হাজারের বেশি বিনামূল্যে পরিবহন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্বের ১৭০টির বেশি দেশ থেকে অংশ নিয়েছেন। বছরে মোট দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থী নতুনভাবে ভর্তি হয়েছেন এবং দুই লাখের বেশি সনদপত্র ইস্যু করা হয়েছে। ৩০ লাখের বেশি খাবার সরবরাহসহ শিক্ষার ব্যয় হয়েছে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ঘণ্টা। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কোরআন ও হাদিস শিক্ষার প্রসার ভবিষ্যতেও সম্প্রসারিত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) শপথবাক্য পাঠ করান ডেপুটি সেক্রেটারি মাইকেল আর. ম্যাকফল। ক্রিস্টেনসেন বলেন, ঢাকায় ফিরে তিনি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দূতাবাসে নেতৃত্ব দিয়ে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা ও শক্তিশালী কূটনৈতিক কার্যক্রম চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাবেন এবং দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মাঝে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র তাদের সামনে পিছু হটবে না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ৮৬ বছর বয়সি খামেনি বলেন, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইরান কোনো দ্বিধা দেখাবে না। বিক্ষোভের ১৩তম দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ‘সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী’ ও ‘শান্তি বিঘ্নকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, সামরিক বা সরকারি স্থাপনায় যে কোনো হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে। হিউম্যান রাইটস সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ বিক্ষোভকারী ও ১৪ নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ওয়াশিংটন কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে, যদিও সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন করেছেন, যা ইরান সরকার দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। ট্রাম্পের যুক্তি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না এলে সেখানে রাশিয়া বা চীন প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মালিকানা প্রয়োজন—লিজ বা আংশিক নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়। রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত গ্রিনল্যান্ড কেনার অর্থনৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা না হলেও ভবিষ্যতে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে। এর আগেও ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী এর নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত। তবে প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক অবস্থান ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। শোক প্রকাশকারীদের মধ্যে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সিনেটর ডেব সারর্মা, নিউ সাউথ ওয়েলস লিবারেল পার্টির বিরোধীদলীয় নেতা ডেমেইয়েন টিউডহোপ এমপি, ছায়া মাল্টিকালচারাল মন্ত্রী মার্ক কুরি এমপি এবং হোলসওয়ার্দি আসনের এমপি টিনা আইয়ার্ড। শোকবার্তায় তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির একজন আপসহীন ও প্রভাবশালী নেত্রী। দীর্ঘদিন জনসেবা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অনস্বীকার্য। তারা তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ জানান, অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল পার্টি ও তাদের নেতারা গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার আন্দোলনে বিএনপির পাশে ছিলেন। ভবিষ্যতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
রাশিয়ার তেল আমদানি চালিয়ে যেসব দেশ পুতিনের যুদ্ধ অর্থায়নে সহায়তা করছে, তাদের শাস্তি দিতে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপের একটি প্রস্তাবিত বিলের অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিলটি শিগগিরই কংগ্রেসে পেশ হতে যাচ্ছে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মতে, ভারতের মতো দেশগুলো এই শুল্কের লক্ষ্য হবে। ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানিতে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যার ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্ক হার ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিলে মার্কিন প্রশাসনকে রাশিয়ার তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের অর্থায়ন বন্ধ করা। ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল এবং গ্রাহাম একযোগে এই বিল প্রণয়ন করেছেন।
ইরানের অর্থনৈতিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী আন্দোলন দেশজুড়ে তীব্র সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের তথ্যমতে, টানা ১১ দিনের সংঘাতে অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন এবং সহস্রাধিক মানুষ আটক হয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতেও বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানায়, ইরানের ৩১টি প্রদেশের অন্তত ১১১টি শহর ও নগরে আন্দোলন বিস্তৃত হয়েছে। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২০০ জন গ্রেপ্তার এবং অন্তত চারজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করলে বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লোরদেগান শহরে সশস্ত্র হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। তেহরান, মাশহাদ, বন্দর আব্বাস ও কাজভিনসহ গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে সরকারবিরোধী ও ধর্মীয় নেতৃত্ববিরোধী স্লোগান শোনা যাচ্ছে। আন্দোলনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের নজিরবিহীন পতন, প্রায় ৪০ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকেরা। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের ঘোষিত আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিও জনঅসন্তোষ কমাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন হলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া আন্দোলনের পর এটিই বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ও সংগঠিত জনআন্দোলন, যা দেশটির রাজনৈতিক ও আইনি কাঠামোর জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা চালানো হলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধেও চরম পদক্ষেপ নিতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম বলেন, জনগণের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন–পীড়ন চালানো হলে ওয়াশিংটন কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে দ্বিধা করবে না। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে। অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির জেরে ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভ দমনে দেশটির বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দাঙ্গাবাজদের পার্থক্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের মন্তব্যকে ইরান তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় দেশটির সামরিক নেতৃত্বও কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে এবং দীর্ঘদিনের বৈরিতা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (ABJA) বুধবার (৭ জানুয়ারি) সিডনির ল্যাকেম্বার ধানসিঁড়ি ফাংশন সেন্টারে ‘গণতন্ত্রায়ণে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ও স্বাধীনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত বরেণ্য সাংবাদিক ও লেখক সোহরাব হাসান। সভা মোহাম্মাদ আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ ও কার্যনির্বাহী সদস্য আকিদুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন ড. ওয়ালিউল ইসলাম, ড. হুমায়ুর চৌধুরি রানা, জাকির আলম লেলিন, মোবারক হোসেন প্রমুখ। বক্তারা রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক চাপ সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি উল্লেখ করে নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সভা শেষে ABJA’র পক্ষ থেকে সোহরাব হাসানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ প্রদেশে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) শারজাহর একটি হলে বিএনপির আল সাজ্জা ইউনিটের উদ্যোগে দিনব্যাপী কোরআন খতম, মিলাদ ও স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল সাজ্জা ইউনিট বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন। সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদুল আলমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউএই বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম এনাম হোসেন এবং প্রধান বক্তা ছিলেন শারজাহ বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী মুহাম্মাদ করিমুল হক। বক্তারা বলেন, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতা। তাঁর মৃত্যুতে দেশ এক অভিভাবককে হারিয়েছে। গণতন্ত্রের সংকটকালে তাঁর নেতৃত্ব ও সাহসী ভূমিকা জাতির জন্য দিকনির্দেশক হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল করিম। এতে আল সাজ্জা ইউনিট ও শারজাহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন আর্থিক শর্ত যুক্ত করেছে মার্কিন সরকার। হালনাগাদ ‘ভিসা বন্ড’ নীতির আওতায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এখন থেকে মার্কিন ভিসা পেতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, সাম্প্রতিক পর্যালোচনার পর ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, বিশেষ করে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি১/বি২) আবেদনের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজন বিবেচনায় ভিসা বন্ড আরোপ করতে পারবেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারী সব শর্ত পূরণ করলেও সাক্ষাৎকার ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার জামানত নির্ধারণ করা হতে পারে। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জমা দিতে হবে এবং লিখিত নির্দেশনা ছাড়া কোনো অর্থ পরিশোধ না করার জন্য আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা বন্ড একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ, যার উদ্দেশ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান বা ‘ওভারস্টে’ প্রবণতা কমানো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে বা ভ্রমণ সম্পন্ন না হলে জামানতের অর্থ ফেরতযোগ্য থাকবে। তবে ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অতিরিক্ত অবস্থান বা ভিসা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের চেষ্টা করা হলে ওই অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নীতির ফলে বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও প্রক্রিয়াগতভাবে কঠিন হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে পর্যটন ও স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক সফরের ক্ষেত্রে।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রধান বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ নতুন রাষ্ট্রনীতির রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলাকে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কৌশলগত মিত্র এবং জ্বালানি সম্পদের কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। মাচাদো দাবি করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিনের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটিয়েছে এবং এটি আইনের শাসন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যৎ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় আঞ্চলিক অপরাধচক্র দমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে, একই সঙ্গে বাজার উন্মুক্তকরণ ও বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে। তিনি আরও বলেন, বিদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখো ভেনেজুয়েলাবাসীকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের পূর্ণ ম্যান্ডেট অর্জনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। বর্তমানে আত্মগোপনে থাকা মাচাদো অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের সমালোচনা করলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক শাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বাসভবনে হামলা হয়েছে। রোববার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (০৫ জানুয়ারি) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওহাইওতে ভ্যান্সের বাসভবনে হামলা হয়েছে। এতে তার বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার পর এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বিষয়ে তদন্ত চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ঘটনার সময় ভ্যান্স পরিবার ওহাইওতে ছিলেন না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ছবি থেকে দেখা গেছে, হামলায় বাসভবনের জানালার ক্ষতি হয়েছে। সিএনএন জানিয়েছে, রোববার মধ্যরাতের পরপরই এ ঘটনা ঘটেছি। গুগেলমি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস সিনসিনাটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং অভিযোগ আনা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ঘটনার পর লাতিন আমেরিকা ঘিরে নতুন করে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প কলম্বিয়া ও কিউবার সরকারকে উদ্দেশ্য করে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সরাসরি আক্রমণ করে অভিযোগ করেন, দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার হচ্ছে এবং বর্তমান সরকার বেশিদিন টিকবে না। কলম্বিয়ায় ভেনেজুয়েলার মতো সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি ‘শুনতে খারাপ নয়’। কিউবা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটি অর্থনৈতিকভাবে পতনের পথে এবং সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই বর্তমান সরকার ভেঙে পড়তে পারে। তার দাবি, ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় কিউবার জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহায়তার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগে ফেডারেল আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এসব ঘটনার পর ট্রাম্পের বক্তব্য লাতিন আমেরিকায় নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ওয়াশিংটন–কারাকাস উত্তেজনার মধ্যে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক পদক্ষেপ ও ভিডিও প্রকাশ। হোয়াইট হাউসের সরকারি ‘র্যাপিড রেসপন্স’ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে এমনভাবে দেখানো হয়েছে, যা ‘পার্প ওয়াক’—অর্থাৎ অপরাধীকে জনসমক্ষে হাঁটিয়ে নেওয়ার দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। ভিডিওতে কালো হুডি পরা মাদুরোকে একটি করিডোর দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়, যেখানে নীল কার্পেটে যুক্তরাষ্ট্রের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ডিইএর নিউইয়র্ক শাখার নাম লেখা ছিল। ভিডিওটির শিরোনামে লেখা হয়, ‘পার্প ওয়াক সম্পন্ন হয়েছে’। এ সময় মাদুরোকে সেখানে উপস্থিত একজনকে ‘শুভ নববর্ষ’ জানাতেও দেখা যায়। সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে। এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের খবর সামনে এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার গভীর রাতে মার্কিন হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্য উভয়ই রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভেনেজুয়েলান কর্মকর্তার প্রাথমিক মূল্যায়নের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারাকাস বিমানবন্দরের পশ্চিমে কাতিয়া লা মার এলাকায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে যুদ্ধবিমান হামলা চালানো হয়। এতে ৮০ বছর বয়সী রোজা গঞ্জালেজসহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। হামলায় উইলম্যান গঞ্জালেস নামে এক ব্যক্তি আহত হন এবং তাঁর বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরেক প্রতিবেশী ৭০ বছর বয়সী জর্জ জানান, এই হামলায় তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। বিবিসি জানিয়েছে, মাদুরোকে আটক করার উদ্দেশ্যে চালানো অভিযানে কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ, আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। যাচাই করা ভিডিও অনুযায়ী, অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে লা কারলোতা বিমানঘাঁটি, ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক স্থাপনা, পোর্ত লা গুয়েরা বন্দর, হিগুয়েরোতে বিমানবন্দর এবং মিরান্ডা অঙ্গরাজ্যের এল ভলকান টেলিকম টাওয়ার। এই ঘটনাগুলো ভেনেজুয়েলা সংকটকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর মাইক লি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখন মার্কিন সেনাদের হেফাজতে আছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি অভিযোগে বিচার হতে পারে। লি বলেন, মার্কো রুবিও তাকে জানিয়েছেন যে মাদুরোকে ভেনেজুয়েলায় আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি এই কর্মকাণ্ডকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের ‘প্রকৃত বা আসন্ন আক্রমণ থেকে রক্ষা করার’ ক্ষমতার আওতায় পড়তে পারে বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, মাদুরো ও তার স্ত্রীকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।