মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন সামরিক আগ্রাসন শুধু দ্বিপাক্ষিক সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকিতে ইরানি জাতি ভীত নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরান কখনোই আগ্রাসনের সূচনা করবে না; তবে দেশটির ওপর হামলা হলে কঠোর ও অনুপাতে জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তেহরান কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষুণ্ন না করে এমন ন্যায্য আলোচনার জন্য তারা প্রস্তুত। এদিকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো সময় ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত নয়, বরং নেতৃত্বকেন্দ্রিক সামরিক অভিযান অনুমোদন দিতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য কেবল পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো নয়; বরং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সরকার পরিবর্তনের কৌশল বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা তাদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী ও যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে সর্ববৃহৎ নথি প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও অন্তর্ভুক্ত, যা দেশে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় তথ্য সংগ্রহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকাশিত নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম শতাধিকবার এসেছে। এ ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও উল্লেখিত থাকায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করা বিষয়টি ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়, এর কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই এবং এটি সরাসরি প্রত্যাখ্যানযোগ্য।” তবে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই নথিতে মোদির নাম থাকা বিষয়কে ‘জাতীয় লজ্জা’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং আরও ব্যাখ্যা দাবি করেছে। রাজ্যসভার সদস্য জয়রাম রমেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন, “মার্কিন সরকারের প্রকাশিত নথিতে মোদির নাম একাধিকবার এসেছে, যা সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দিতে বাধ্য করেছে।” এছাড়া কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। নথি প্রকাশের ফলে এপস্টেইন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক তদন্ত ও রাজনৈতিক জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইসরায়েলও এই পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়ে ইরানের শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিপরীতে তেহরান ঘোষণা করেছে, যেকোনো হামলা পুরোপুরি যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিত হিসেবে গণ্য হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ড্রপ সাইট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মিত্রকে জানিয়েছে, ট্রাম্প চলতি সপ্তাহান্তে ইরানে হামলার অনুমোদন দিতে পারেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, এই হামলা মূলত ইরানি সরকারের নেতৃত্ব এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ক্ষমতা ক্ষয় করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত। প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের ধারণা—শীর্ষ নেতৃত্বে সফল হামলা হলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবে এবং সরকার উৎখাত হবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আরব গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন হামলা যে কোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সদ্য উন্মুক্ত হওয়া তথাকথিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম উল্লেখ করে কিছু দাবি করা হলেও ভারত সরকার তা কঠোর ভাষায় নাকচ করেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকাশিত নথির অংশ হিসেবে একটি ই–মেইলের সূত্র ধরে দাবি করা হয়েছে—২০১৭ সালে ইসরায়েল সফরের প্রস্তুতি নিয়ে মোদি নাকি যুক্তরাষ্ট্রে যৌন অপরাধে দণ্ডিত ও বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। ওই ই–মেইলে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যেই এ সফর করা হয়েছিল। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগকে “ভিত্তিহীন, রুচিহীন ও একজন দণ্ডিত অপরাধীর কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য” হিসেবে আখ্যা দিয়ে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফরের ঘটনা ছাড়া বাকি সব দাবি অবিশ্বাস্য ও গুরুত্বহীন। এ বিষয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েল সফর করেন, যা ছিল ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি ইসরায়েল সফর। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নির্দেশে ২০২৫ সালের নভেম্বরে জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে এসব বিতর্কিত তথ্য সামনে এসেছে।
মার্কিন কংগ্রেসে শেষ মুহূর্তের সমঝোতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে ফের আংশিক সরকারি শাটডাউন কার্যকর হয়েছে। সিনেটে তহবিল–সংক্রান্ত বিল অনুমোদন পেলেও প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন না থাকায় নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে এই অচলাবস্থা শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী অধিকাংশ ফেডারেল সংস্থার জন্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হলেও অভিবাসন ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। মিনিয়াপলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসন এনফোর্সমেন্টে অতিরিক্ত অর্থায়নে আপত্তি তোলেন। ফলে ওই বিভাগকে আপাতত দুই সপ্তাহের জরুরি তহবিল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এটি এক বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শাটডাউন। হোয়াইট হাউস প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও পরিবহনসহ বিভিন্ন বিভাগকে শাটডাউন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। তবে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন শুরু হলে বিলটি দ্রুত পাস হবে বলে প্রশাসনের আশা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান তার সামরিক সক্ষমতার নতুন প্রদর্শন ঘটিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের মধ্যে দেশটি সমুদ্রের নিচে নির্মিত গোপন মিসাইল সুড়ঙ্গের ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ওই ভিডিওতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখার কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরিকে সুড়ঙ্গের ভেতরে অবস্থান করতে দেখা যায়। ভিডিওতে পানির নিচে সারিবদ্ধভাবে রাখা একাধিক ক্রুজ মিসাইল উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় প্রদর্শিত হয়। আইআরজিসির নৌ কমান্ডার জানান, ইরানের উপকূলীয় জলসীমা ও ওমান সাগরজুড়ে সমুদ্রতলের নিচে বিস্তৃত একটি মিসাইল অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এসব সুড়ঙ্গে সংরক্ষিত শত শত মিসাইল প্রয়োজনে উপসাগরীয় অঞ্চল ও আশপাশে অবস্থানরত মার্কিন নৌবহরের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে। তার দাবি অনুযায়ী, এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘কাদের-৩৮০ এল’ মডেলের মিসাইলগুলোতে উন্নত প্রযুক্তির ট্র্যাকিং সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে, যা আঘাতের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম। এর আগে ইরান সতর্ক করে জানায়, দেশটির ওপর কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিরাপদ থাকবে না—যা আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সম্পূর্ণ সরে আসতে হবে এবং তা নিশ্চিত করতে হলে নতুন করে চুক্তিতে আসার বিকল্প নেই। অন্যথায় বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। প্রসঙ্গত, গত বছরের জুনে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়েছিল। সেই সময় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
ভারতের মহারাষ্ট্রে একটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) নেতা অজিত পাওয়ার নিহত হয়েছেন। বুধবার ( ২৮ জানুয়ারি) সকালে বরামতি বিমানবন্দরের কাছে জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উড়োজাহাজের পাইলট এবং অজিত পাওয়ারের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাও রয়েছেন। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, মুম্বাই থেকে বরামতির উদ্দেশে রওনা দেওয়া উড়োজাহাজটি স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে বরামতি বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, অবতরণের সময় কারিগরি জটিলতার কারণে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে। এএনআই আরও জানায়, অজিত পাওয়ার বরামতিতে অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনের একটি জনসভায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে সেখানে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় বিবেচিত হচ্ছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে দেশটির আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সৌদি যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে এই অবস্থানের কথা জানান বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে। আলোচনায় যুবরাজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মতবিরোধ সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগকে সৌদি আরব সমর্থন করে। জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় থেকে যুদ্ধ এড়ানোর সব প্রচেষ্টায় তেহরানের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের অবস্থান নিয়ে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে তাদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহার করা যাবে না। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, একটি বিমানবাহী রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন দাবি করছে, সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানোই তাদের অগ্রাধিকার। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, যদিও ইরান সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতের ভারী বর্ষণের পর সংঘটিত ভূমিধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, এবং আরও ৮২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পশ্চিম বান্দুং এলাকার পাহাড়ি ঢালে মাটি ধসে পড়ার কারণে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং মানুষজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও মাটির অনিয়মিত স্তূপের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এবার উদ্ধার অভিযানে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া ও নিখোঁজদের সন্ধান চালানো হচ্ছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর এই প্রথম ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একই আলোচনার কাঠামোয় বৈঠকে বসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এ ত্রিপক্ষীয় আলোচনাকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হলেও, শান্তি চুক্তির মূল বিরোধগুলোতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সক্রিয় মধ্যস্থতা এবং চাপের মধ্যেই এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতায় ব্যর্থ হলে উভয় পক্ষই ‘অযৌক্তিক আচরণ’ করবে। তবে বৈঠকে ইউক্রেনের ভূখণ্ড, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন বন্ধের প্রশ্নে কোনো ঐকমত্য হয়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনাকে শান্তির পথে একটি ‘প্রাথমিক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও একে ইতিবাচক অগ্রগতি বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, শান্তি চুক্তির প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে সমঝোতা হলেও বাকি ১০ শতাংশ—বিশেষ করে দনবাস অঞ্চলের ভূখণ্ড প্রশ্ন—এখনও সবচেয়ে বড় বাধা। অন্যদিকে রাশিয়া স্পষ্ট করেছে, দনবাস অঞ্চল ছাড়ার প্রশ্নে তারা কোনো ছাড় দেবে না। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, ভূমি-সংক্রান্ত দাবি মেনে নেওয়া না হলে যুদ্ধক্ষেত্রেই লক্ষ্য অর্জন করবে মস্কো। একই সঙ্গে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ ও দেশটিতে ন্যাটো বাহিনীর উপস্থিতির বিরোধিতাও পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আশ্বাস দিলেও এর বাস্তব কাঠামো ও আইনি ভিত্তি এখনও প্রকাশ পায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ও আগের সিদ্ধান্তগুলোর কারণে এই নিশ্চয়তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে। এদিকে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামোতে রুশ হামলা তীব্রতর হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ আখ্যা দিয়ে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ যুদ্ধের অবসানে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও, ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা ইস্যুতে অনড় অবস্থানের কারণে ইউক্রেন সংকটের সমাধান এখনও অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ৫৬তম বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ফাঁকে নতুন গঠিত ‘শান্তি পর্ষদ’-এর আনুষ্ঠানিক সনদে স্বাক্ষর করেছেন। এই অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে বাহরাইন ও মরক্কোর শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প স্বাক্ষরের সময় বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, এবং আমি এখানে এসে এটি বাস্তবায়ন করতে পেরে আনন্দিত।” সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে শান্তি পর্ষদকে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিটও নিশ্চিত করেছেন, এখন এটি আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে কার্যকর। শান্তি পর্ষদ মূলত গাজা পুনর্গঠনকে লক্ষ্য করে গঠিত হলেও ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে কাজ করবে। এতে যোগ দিতে প্রতিটি দেশকে ১০০ কোটি ডলার অবদান রাখতে হবে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, তুরস্ক, বেলারুশ, ইসরায়েল ও পাকিস্তানসহ প্রাথমিকভাবে ৩৫টি দেশ যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে জাতিসংঘের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের মধ্যে কেউ এখনও এতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হননি। ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য সরাসরি যোগ দেবে না বলে জানিয়েছে, রাশিয়া প্রস্তাব যাচাই করছে এবং চীন এখনও মন্তব্য করেনি। ট্রাম্পের মতে, শান্তি পর্ষদকে তিনি ‘অকেজো’ জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দেখছেন। এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্তরে সংঘাত নিরসনের নতুন কাঠামো এবং মানবিক পুনর্গঠন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার পুনর্গঠন ও যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্বনেতাদের নিয়ে ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন। হাঙ্গেরি ও ভিয়েতনাম ইতিমধ্যে সদস্যপদ গ্রহণ করেছে, এবং ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশ আমন্ত্রণ পেয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, স্থায়ী সদস্যদের জন্য ১০০ কোটি ডলার অনুদান বাধ্যতামূলক, তবে তিন বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যদের আর্থিক দায়বদ্ধতা নেই। সংগৃহীত অর্থ গাজা পুনর্গঠনে ব্যবহার হবে। শান্তি পর্ষদ গাজার নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা তদারক করবে, যার মধ্যে রয়েছে নতুন ফিলিস্তিনি কমিটি গঠন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও দেখা যেতে পারে। হোয়াইট হাউসের নির্বাহী কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল অন্তর্ভুক্ত। কাতার, মিসর ও তুরস্কের প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ইসরায়েল আপত্তি জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা তাদের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে তুরস্কের ভূমিকা হামাসকে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে জল্পনা বাড়লেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, সীমিত বা আকস্মিক বিমান হামলায় দেশটির শাসনব্যবস্থার পতন ঘটার বাস্তব সম্ভাবনা নেই। কারণ, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং শক্তিশালী নেটওয়ার্কভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পারস্পরিকভাবে সংহত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড, গোয়েন্দা সংস্থা, ধর্মীয় নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক বলয়ের সমন্বিত কাঠামো বড় ধরনের বাহ্যিক চাপও সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। ফলে নেতৃত্ব বা নির্দিষ্ট স্থাপনায় হামলা শাসন পরিবর্তনের বদলে অভ্যন্তরীণ সংহতি আরও জোরদার করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক ইঙ্গিতের দ্বৈততা স্পষ্ট হলেও এটিকে সুসংহত কৌশল নয়, বরং রাজনৈতিক চাপ ও সিদ্ধান্তহীনতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা। আঞ্চলিক বাস্তবতায়ও যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প সীমিত—ইসরায়েল কঠোর অবস্থান চাইলেও সৌদি আরব, কাতার ও ওমান উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত লক্ষ্য শাসন উৎখাত নয়, বরং ইরানের আচরণে পরিবর্তন আনা—বিশেষত পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও আঞ্চলিক প্রভাব সীমিত করা। এ ক্ষেত্রে সামরিক হামলার চেয়ে লক্ষ্যভিত্তিক অর্থনৈতিক চাপ, কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্যে ফাটল তৈরিই তুলনামূলক কার্যকর পথ হতে পারে। আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বাহ্যিক বলপ্রয়োগ সাধারণত রাষ্ট্রীয় সংহতি দুর্বল না করে বরং শক্তিশালী করে তোলে। ইরানে টেকসই পরিবর্তন আসতে পারে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমেই।
ইরানের কারাজে গ্রেফতার ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানিকে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করা হবে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এ ফাঁসির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, এরফানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তার কারাজ শহরের ফারদিস আবাসিক এলাকায়। রোববার (১১ জানুয়ারি) পরিবারের কাছে জানানো হয়, আদালত মাত্র দুই দিনের মধ্যে তার বিচার শেষ করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, এরফানের পরিবারের সদস্যরা শেষবারের জন্য মাত্র ১০ মিনিটের দেখা করতে পারছেন। ইরানের কর্তৃপক্ষ এ মামলার নথি তার বোন, যিনি একজন নিবন্ধিত আইনজীবী, দেখার সুযোগও দেননি। সংস্থার মুখপাত্র আওয়ার শেখি বলেন, “এ ঘটনা ইরানের সরকারের তৎপরতা প্রদর্শন করে, যা দেশের নাগরিকদের ওপর ভয়ভীতি ও দমন চালাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।” ২০২২ সালের পর ইরানে চলা বৃহত্তম সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনে অন্তত ২,৫৭১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও ১২ শিশু রয়েছেন। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যাচ্ছেনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ফাঁসির সম্ভাবনা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সিবিএস নিউজকে তিনি বলেন, “যদি ইরান সরকার ফাঁসি কার্যকর করে, আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।” তবে এ পদক্ষেপের বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাননি। এই ঘটনা ইরানের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চ্যালেঞ্জের সঙ্গে দেশটির কঠোর দমননীতি উদ্ভাসিত করছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় বহুগুণ বেশি হতে পারে—এমন গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ দমনে ১২ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ আংশিকভাবে সচল হলে দেশটির অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে এ ধরনের ভয়াবহ তথ্য সামনে আসে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা প্রকাশিত পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক বেশি। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার পার্লামেন্টে জানান, তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নে অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য মিলেছে, তবে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এদিকে তেহরানের উপকণ্ঠের একটি মর্গের ভিডিও যাচাই করে সিবিএস নিউজ জানায়, সেখানে শত শত মরদেহ স্তূপ করে রাখা হয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশে গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ইরান সরকার এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ও নিয়মিত তথ্য প্রকাশ না করলেও রয়টার্স এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার হতে পারে। তবে ওই কর্মকর্তা সহিংসতার জন্য বিদেশি মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ দাবি করেছে, দমন-পীড়নের মাত্রা নজিরবিহীন। সংস্থাটির প্রধান মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম অভিযোগ করেন, আহতদের তথ্য গোপন করতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি জানান, সহিংসতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিকল্প নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। নির্বাসিত ইরানি ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিলম্ব হলে প্রাণহানি আরও বাড়বে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিক সুরক্ষার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পোস্টে দাবি করা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি ওই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক ও যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সেনাবাহিনীও তাকে সমর্থন দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে ঘিরে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক বৈধতা, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রশ্নে লাতিন আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
কলকাতায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত মেলা ও তৃতীয় ‘প্রজ্ঞা আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। রোববার (৪ জানুয়ারি) তাপসকুমার পাল একাডেমি অব মিউজিক অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নগরীর উত্তমমঞ্চে দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়। পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—এই দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানে দেশ ও বিদেশের পাঁচজন বিশিষ্ট শিল্পী ও সংস্কৃতিসাধককে তাঁদের আজীবন সাধনা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘আন্তর্জাতিক প্রজ্ঞা পুরস্কার–২০২৫’ প্রদান করা হয়। এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন—শ্রীলঙ্কার কলম্বো ভিজ্যুয়াল অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস বিভাগের প্রখ্যাত বেহালাবাদক অধ্যাপক (ড.) রুউইন রঙিত ডায়াস, প্রবীণ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী বিদুষী বিভা সেনগুপ্ত, মণিপুরী নৃত্যের কিংবদন্তি গুরু অধ্যাপক কলাবতী দেবী, খ্যাতিমান পাখোয়াজগুরু অধ্যাপক পণ্ডিত চঞ্চল ভট্টাচার্য এবং এসরাজ ও হারমোনিয়াম বাদক অধ্যাপক পণ্ডিত দেবপ্রসাদ দে। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় একাডেমির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ভায়োলিন অর্কেস্ট্রায় রবীন্দ্রসংগীত ‘আলো আমার আলো’ এবং গৌড়ীয় নৃত্যে গুরুবন্দনার মাধ্যমে। পরবর্তীতে অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রদীপ প্রজ্বালন, সংবর্ধনা ও আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। রবীন্দ্রসংগীত, মণিপুরী নৃত্য ও শাস্ত্রীয় বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনায় এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ সৃষ্টি হয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল ৯৩ বছর বয়সী বিদুষী বিভা সেনগুপ্তের পরিবেশনা, যা দর্শক-শ্রোতাদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে একাডেমির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় বিশেষ অর্কেস্ট্রা ‘গ্লোবাল অর্কেস্ট্রা: বাংলার যোগ’, যা অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে। পুরো আয়োজনটি পরিচালনা করেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট বেহালাশিল্পী তাপসকুমার পাল। আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগীত ও সংস্কৃতির চর্চা ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এই আয়োজন বিশ্ব সংস্কৃতি অঙ্গনে বাংলাদেশের সঙ্গে উপমহাদেশের সৃজনশীল ঐতিহ্যকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে।
মদিনার মসজিদে নববীতে ২০২৫ সালে কোরআন মুখস্থ করেছেন ৮ হাজার ৩৩৫ শিক্ষার্থী। মসজিদ কর্তৃপক্ষের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বছরে দেশ-বিদেশের ৭১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কোরআন ও সুন্নাহ শিক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন গড়ে ৩৩ জন হিফজ সম্পন্ন করেছেন। ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অনলাইন ও দূরশিক্ষণের মাধ্যমে পড়াশোনা করছেন। এছাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশে দৈনিক তিন হাজারের বেশি হালাকাহ পরিচালিত হয়, যেখানে এক হাজার ৫০০ শিক্ষক পাঠদান করছেন। ২০২৫ সালে কোরআন ও সুন্নাহ শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী গ্রন্থে ইজাজা পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী, এবং প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ ও ইসলামী গ্রন্থ মুখস্থ করেছেন। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য দৈনিক ছয় হাজারের বেশি বিনামূল্যে পরিবহন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্বের ১৭০টির বেশি দেশ থেকে অংশ নিয়েছেন। বছরে মোট দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থী নতুনভাবে ভর্তি হয়েছেন এবং দুই লাখের বেশি সনদপত্র ইস্যু করা হয়েছে। ৩০ লাখের বেশি খাবার সরবরাহসহ শিক্ষার ব্যয় হয়েছে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ঘণ্টা। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কোরআন ও হাদিস শিক্ষার প্রসার ভবিষ্যতেও সম্প্রসারিত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) শপথবাক্য পাঠ করান ডেপুটি সেক্রেটারি মাইকেল আর. ম্যাকফল। ক্রিস্টেনসেন বলেন, ঢাকায় ফিরে তিনি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি দূতাবাসে নেতৃত্ব দিয়ে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা ও শক্তিশালী কূটনৈতিক কার্যক্রম চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাবেন এবং দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মাঝে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র তাদের সামনে পিছু হটবে না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ৮৬ বছর বয়সি খামেনি বলেন, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইরান কোনো দ্বিধা দেখাবে না। বিক্ষোভের ১৩তম দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ‘সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী’ ও ‘শান্তি বিঘ্নকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, সামরিক বা সরকারি স্থাপনায় যে কোনো হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে। হিউম্যান রাইটস সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ বিক্ষোভকারী ও ১৪ নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা প্রায় বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ওয়াশিংটন কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে, যদিও সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন করেছেন, যা ইরান সরকার দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। ট্রাম্পের যুক্তি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না এলে সেখানে রাশিয়া বা চীন প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মালিকানা প্রয়োজন—লিজ বা আংশিক নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়। রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত গ্রিনল্যান্ড কেনার অর্থনৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা না হলেও ভবিষ্যতে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে। এর আগেও ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী এর নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত। তবে প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক অবস্থান ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।