রমজান মাসের সমাপ্তি নির্দেশক শাওয়াল মাসের চাঁদের উপস্থিতি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিস্থ খতম অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরি থেকে এ সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় উন্নত ক্যামেরার মাধ্যমে চাঁদের ছবি ধারণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ওই সময় সূর্য থেকে চাঁদের কৌণিক দূরত্ব ছিল ৯.২ ডিগ্রি এবং চাঁদের বয়স ছিল মাইনাস ১৫ ঘণ্টা ২৩ মিনিট, যা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচিত হয়।
এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন এবং চিত্র ধারণের দায়িত্ব পালন করেন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আওদা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক তথ্য ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তবে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভরশীল।
উল্লেখ্য, এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ঘিরে নতুন বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে গোপন সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যা দেশটিকে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পর ইরানবিরোধী অভিযানে জড়িত প্রথম আরব রাষ্ট্র হিসেবে সামনে এনেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারও লক্ষ্যবস্তু ছিল। হামলার সময়কাল নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও জানা গেছে, সেটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়ের আশপাশে সংঘটিত হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, হামলার পর ইরান ‘অজ্ঞাত শত্রুর’ আক্রমণের অভিযোগ তুলে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে পুরো সামরিক অভিযানে আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি আবুধাবি। একইভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনও। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অন্য দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহ দেখালেও আমিরাতের অবস্থান ওয়াশিংটনের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে কেন্দ্র করে পাল্টা হুঁশিয়ারি জারি করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সামরিক অভিযান জোরদারের ঘোষণা দিয়ে নয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে সেখানে বিমান ও গোলাবর্ষণ অভিযান চালানো হবে। ইসরায়েলি বাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিখাই আদরাই জানান, আল-রিহান, জারজৌহ, কাফর রুম্মানে, আল-নেমিরিয়েহসহ দক্ষিণ লেবাননের একাধিক অঞ্চলকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরায়েলের ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলমান সংঘাতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার হতাহত হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তজুড়ে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একসময় বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। বিজেপির উত্থান ও সাম্প্রতিক নির্বাচনী ধাক্কার পর তিনি ফের বিরোধী শক্তিগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, এখন সেই বাম ও অতিবাম শক্তিকেই পাশে চাওয়ার মধ্য দিয়ে মমতার রাজনৈতিক যাত্রা এক প্রতীকী পূর্ণবৃত্তে পৌঁছেছে। ১৯৮৪ সালে যাদবপুরে প্রবীণ বাম নেতা সোমনাথ চ্যাটার্জি–কে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন মমতা। পরে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি বামফ্রন্টবিরোধী জনমত গড়ে তোলেন এবং ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তবে টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলেও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দিয়ে দলকে আগের মতো টেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে তিনটি বিষয়ের ওপর—দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, উত্তরসূরি প্রশ্নে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আবারও রাজপথের আন্দোলনের পুরোনো রাজনৈতিক শক্তি ফিরিয়ে আনা। তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, এ রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া শক্তির ফিরে আসা বিরল। সেই বাস্তবতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরেকটি রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস গড়তে পারেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনীতির।