মা দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ আয়োজনে শৈশব, পারিবারিক শাসন ও সাফল্যের পেছনের গল্প তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। সেখানে উঠে এসেছে তার বেড়ে ওঠা, মায়ের কঠোর শাসন এবং সেই শাসনের ইতিবাচক প্রভাব।
ফারিণ জানান, ছোটবেলায় মায়ের নিয়মানুবর্তিতা তার কাছে অতিরিক্ত কঠোর মনে হতো। ফোন ব্যবহার, পড়াশোনা, খাওয়া-দাওয়া—সবকিছুতেই নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হতো। তখন মনে হতো, বন্ধুবান্ধবদের তুলনায় তার জীবন অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন, সেই শৃঙ্খলাই তার ব্যক্তিত্ব ও পেশাগত সফলতার ভিত্তি তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, পড়াশোনা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় মায়ের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলে যাতায়াত থেকে শুরু করে গানের ক্লাস, আবৃত্তি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম—সবখানেই মা ছিলেন তার প্রধান সহচর ও অনুপ্রেরণা। তার মতে, আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার মায়ের।
ফারিণের মা সৈয়দা শারমীন জানান, ছোটবেলা থেকেই মেয়ের মধ্যে শৃঙ্খলা, মনোযোগ ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি তাকে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রাখেন, যাতে তার ভেতরের প্রতিভা বিকশিত হতে পারে।
আলোচনায় উঠে আসে, শৈশব থেকেই কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে বেড়ে ওঠা ফারিণ ধীরে ধীরে একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক উভয় ক্ষেত্রেই সফলতা অর্জন করেন। বই পড়ার অভ্যাস, সময়ানুবর্তিতা এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপন—এসবই তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, যা তিনি মায়ের শিক্ষার ফসল হিসেবে উল্লেখ করেন।
পারিবারিক সম্পর্কের আরেকটি দিক তুলে ধরে ফারিণ বলেন, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মায়ের প্রতি তার আস্থা ও বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে। কঠোর শাসনের পরিবর্তে এখন সম্পর্কটি পরিণত হয়েছে পারস্পরিক বিশ্বাস ও বন্ধুত্বে, যেখানে শৈশবের শৃঙ্খলা আজকের জীবনের শক্ত ভিত হিসেবে কাজ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। তিনি জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন এবং এমন ভুয়া তথ্য তাকে বিব্রত করেছে। বর্তমানে ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত এই শিল্পী ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছেন। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শেষে হঠাৎ সামাজিকমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা অল্প সময়েই দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। মঙ্গলবার (৫ মে) গণমাধ্যমকে তিনি জানান, আকস্মিকভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য ফোন ও বার্তা পেয়ে তিনি বিস্মিত হন। বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও পাকিস্তান থেকে অনেকে তার খোঁজখবর নেন। রুনা লায়লা বলেন, এ ধরনের ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক। তিনি এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং ভক্তদের উদ্বেগ ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। তবে এসব গুজব জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
পশ্চিমবঙ্গের অভিনয় ও বাচিকশিল্পের অন্যতম পরিচিত মুখ বিপ্লব দাশগুপ্ত (৭৫) বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মারা গেছেন। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছে পারিবারিক সূত্র। পারিবারিক বিবরণ অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুর পর তার মরদেহ দক্ষিণ কলকাতার গল্ফক্লাব রোডের বাসা থেকে টালিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে নেওয়া হয়, যেখানে চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সহকর্মীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে সক্রিয় ছিলেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। ২০০৪ সালে ‘শ্যাডোজ অব টাইম’ সিনেমার মাধ্যমে তার অভিনয়যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ‘ফেলুদা’, ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘গুমনামি’সহ একাধিক আলোচিত চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেন। পাশাপাশি ‘কুয়াশা যখন’, ‘রাগে অনুরাগে’, ‘নেতাজি’সহ বহু জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তার উপস্থিতি দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়। ২০১৯ সালে ‘দেবতার গ্রাস’ চলচ্চিত্রে তিনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও নাসিরুদ্দিন শাহের মতো কিংবদন্তি অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতা পেশা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে আবৃত্তি, ভয়েস ওভার ও বিজ্ঞাপন জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন শিল্পী ও সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
শোবিজ অঙ্গন থেকে রাজনীতির মঞ্চে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক, যিনি এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার পর্বে উপস্থিত হন তিনি। সাক্ষাৎকার শেষে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে চমক জানান, দেশের উন্নয়ন বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখতে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হতে আগ্রহী। তিনি বলেন, একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা থেকেই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ‘নতুন যাত্রা’ শুরুর ঘোষণা দিয়ে বিস্তারিত পরে জানানোর ইঙ্গিত দেন এই অভিনেত্রী, যা তার রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশের সম্ভাবনাকেই আরও জোরালো করেছে।