খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুর্গম চার গ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে প্রায় দুই হাজার মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের টানা ১৩ দিনের প্রচেষ্টায় ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৬শ ফুট উচ্চতার কালাপাহাড় রেঞ্জের প্রাকৃতিক উৎস থেকে পানি সরবরাহ করা হয়।
সেনা সূত্র জানায়, ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বিরোধী অভিযানে গিয়ে ওই এলাকার দীর্ঘদিনের পানি সংকটের বিষয়টি নজরে আসে। পরে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও গুইমারা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে ইন্দ্রসিংপাড়া, শুকনাছড়ি, পাংকুপাড়া ও হাতিছড়া গ্রামে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম জানান, কোনো ধরনের বিদ্যুৎ বা মোটর ছাড়াই প্রাকৃতিক উৎস থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ৩৭৬টি পরিবার উপকৃত হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীরা সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমীকে গ্রেফতার করেছে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। গ্রেফতারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রযোজ্য ধারায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, সফুরা বেগম রুমী লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। বিস্তারিত আসছে....
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বর্মন পরিবারের উত্তরসূরি সুব্রত প্রসাদ বর্মন (মিঠু) অভিযোগ করেছেন, তাদের পৈতৃক হাবেলী সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) বরিশাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, বর্মন পরিবারের পূর্বপুরুষ জমিদার বিজয় প্রসাদ বর্মন বেনিসিংহের হাবেলী এলাকায় বিস্তীর্ণ জমির মালিক ছিলেন। মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিন পুত্র—দেবপ্রসাদ (শান্তি), অনিল প্রসাদ (বরুন) ও সুনীল প্রসাদ (খোকন)—সম্পত্তি পান। ১৯৫৮ সালের ১১ অক্টোবর এসএ ৬৯৫ খতিয়ানের অধীনে কিছু জমি মৌলভী আব্দুস সোবাহানের কাছে হস্তান্তরিত হলেও, দলিলে মনসা মন্দির ও পারিবারিক সমাধিস্থল উপাসনার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে ক্রমিক হস্তান্তরের মাধ্যমে এই জমি স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে চলে যায়। তিনি সংরক্ষিত মনসা মন্দির ও সমাধিস্থলের অংশ ভেঙে নিয়েছেন। সুব্রত প্রসাদ বর্মন বলেন, “দুইশত বছরের পুরনো জাগ্রত মনসা মন্দির ও পূর্বপুরুষদের সমাধি আমাদের সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও এখন আমরা সেখানে যেতে পারি না, পূজা-অর্চনাও করতে পারছি না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসএ ৬৯৫ খতিয়ানের ১২৫৮ দাগের ৭ শতাংশ জমি বিক্রি হয়নি এবং তা বর্তমানে বিএস ৫৪২৯ নং খতিয়ানে তাদের নামে চূড়ান্ত হলেও বাস্তবে ভোগদখল করতে পারছেন না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বরিশালের প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানান, দখলমুক্ত করে পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে। সুব্রত প্রসাদ বর্মন অভিযোগ করেন, দখলকারীর সঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা। উল্লেখ্য, হাবেলীর ঐতিহ্যবাহী দোতলা প্রাচীরঘেরা বর্মন বাড়িটি ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে।
বরিশালের গৌরনদীতে লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে ডিজেল, মবিল ও গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে হালিম সিকদার নামে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনএসআই’র বরিশাল জেলা শাখার সদস্যরা সরিকল ইউনিয়নের চর সরিকল গ্রামে তার দোকান ও বাড়িতে অভিযান চালান। এসময় সেখান থেকে প্রায় ৩০০ লিটার ডিজেল, ২০০ লিটার মবিল ও গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি লাইসেন্স না নেওয়া পর্যন্ত ব্যবসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়। জব্দকৃত জ্বালানি তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির জন্য স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।