নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় জুস খাইয়ে চালককে অজ্ঞান করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সৈয়দপুর পৌরসভার মুন্সিপাড়ার নিরব ইসলাম (৩৮), তার স্ত্রী রুপা আক্তার (৩৫) এবং রেশমা বেগম (২০)। বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সিঙ্গেরগাড়ী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, তারা যাত্রীবেশে ইজিবাইকে উঠে চালককে জুস ও অন্যান্য পানীয় খাইয়ে অজ্ঞান করে যানবাহন ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিল। এ সময় স্থানীয়রা চালককে অচেতন অবস্থায় দেখে সন্দেহ হলে তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ‘অজ্ঞান পার্টি’ চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফকিরহাট থেকে অপহৃত ১৮ মাস বয়সী শিশুকন্যা রাফছাকে পুলিশ ও র্যাব-৬-এর যৌথ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নয়ন শেখ (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটিকে বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে উদ্ধার করা হয়। অপহৃত রাফছা ফকিরহাট উপজেলার ছোট বাহিরদিয়া গ্রামের আ: রশিদ খানের মেয়ে। গ্রেফতার নয়ন শেখ খুলনার টুটপাড়া এলাকার আসলাম শেখের ছেলে। ফকিরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো: আলমগীর হোসেন জানান, নয়নের স্ত্রী শিশুটিকে কোলে নেওয়ার কথা বলে পরিবারের বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় শিশুটি ফেরত না আসায় উদ্বেগ দেখা দেয়। পরবর্তীতে নয়ন মোবাইল ফোনে শিশুটিকে ফেরত দিতে টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে ক্ষতি করার হুমকি দেয়। র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো: নাজমুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং নয়নকে গ্রেফতার করে ফকিরহাট মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার “মমতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সিজারের পর বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক বিক্রির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রশাসন ক্লিনিক পরিদর্শন করে এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। ভুক্তভোগী দম্পতি রাকিবুল হাসান ও হাবিবা সুলতানা জানান, শুক্রবার রাতেই প্রসূতি হাবিবা সুলতানা ক্লিনিকে ভর্তি হন। রবিবার রিলিজ নেওয়ার সময় ২২ হাজার টাকার বিল না দিতে পারায় চিকিৎসক তাদের ওপর বিকল্প অমানবিক চাপ প্রয়োগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নবজাতক বিক্রির পরিকল্পনা করতে থাকে, যেখানে বাচ্চার দাম থেকে কিছু টাকা ডাক্তার রাখবে এবং বাকি পরিবারের হাতে দেয়া হবে। স্থানীয়রা ক্লিনিকের নিয়মিত খারাপ আচরণ এবং রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি প্রশাসন ও সাংবাদিকদের নজরে আসলে দ্রুত অভিযান চালানো হয়। পরিদর্শনে মেডিকেল অফিসার ডা. সোহান চৌধুরী জানান, নবজাতক বিক্রির অভিযোগের পাশাপাশি আরও কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ক্লিনিকের দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবল ও দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার বিষয়গুলো শনাক্ত করা হয়েছে। ক্লিনিককে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনওর কাছে জমা দেওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জে কলেজ শিক্ষককে রিকশায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল ছিনতাইকারীদের হাতে লুটপাট, সোনালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে পূর্ব ইসদাইর এলাকার রাবেয়া হোসেন উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে এই আক্রমণ চালানো হয়। ভুক্তভোগী ফারজানা আফরোজ, নারায়ণগঞ্জ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক, জানান, ছেলে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে তিন মোটরসাইকেলবাহিত ছিনতাইকারী তাঁর রিকশার গতিকে আটক করে। এরপর দুইজন ধারালো চাপাতি মুখে ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয় এবং তাঁর কাছে থাকা একটি মোবাইল, একটি পার্স ও দেড় ভরি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়। ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ছিনতাইকারীদের শনাক্তে তৎপর রয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এটি নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মকর্তার ওপর ছিনতাই-হামলার ধারাবাহিক ঘটনার মধ্যে একটি।