বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে রহমত শেখ নামে এক যুবককে ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার দুই হাতের কব্জি ও একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত রহমত শেখ (২৮) একই গ্রামের মতিয়ার রহমান শেখের ছেলে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) সকালে বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়নের সন্মানকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) সকালে রহমত শেখ একই গ্রামের বাসিন্দা ইসরাফিল ও ইয়াছিনের বাড়িতে গিয়ে তর্কে জড়ান। সেখান থেকে বের হওয়ার পর ইসরাফিল ও ইয়াছিনসহ আরও কয়েকজন মিলে রহমতকে ধরে একটি কলাবাগানে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার দুই হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও একটি পা দুইটি শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় রহমতকে প্রথমে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান হয়। আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য রহমতকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, পূর্ব শত্রুতা জের ধরে মঘিয়ার সম্মান কাঠি গ্রামে থেকে রহমত নামে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয় অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত রহমতের দুই হাতের কব্জি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং দুইটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আহত রহমত এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের নাম বলেছে, তার দেয়া নাম অনুযায়ী এলাকায় অভিযান চলছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় গোলাম মোস্তফা (৩৫) নামে এক ব্যক্তির গোপনাঙ্গ কাটার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী সারমিন আক্তার সাথীর (২৯) বিরুদ্ধে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। পরে আহত স্বামী মোস্তফাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ সাথীকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে পঞ্চগড় সদর থানায় রয়েছেন। আহত স্বামী মোস্তফা ওই গ্রামের সুজাউল হকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ও দিনমজুর। পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে মোস্তফা ও সাথীর বিয়ে হয়। বিবাহিত জীবনে এক মেয়ে সন্তান ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। রবিবার ভোর রাতে পরিবারের সদস্যরা সেহরি খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। স্বামী মোস্তফাও সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এরই মাঝে ভোর ৬টার দিকে মোস্তফা বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি শুরু করে। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তবে ঘটনার কারণ কি তা পরিবারটি জানাতে পারে নি। এদিকে, প্রায় ৬ মাস আগে আটক সাথী পারিবারিক দ্বন্দ্বে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা চালিয়েছিল বলে পরিবারটির দাবি। তবে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনার পরেও বৈবাহিক সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল বলে জানা গেছে। মোস্তফার বাবা সুজাউল হক বলেন, ভোরে ছেলে আমাদের ডাকাডাকি করলে আমরা আমাদের ঘরের দরজা খুলি। এর পর সে তার গোপনাঙ্গ হাতে নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় লুঙ্গি তুলে আমাদের দেখায়। একই সাথে বৌমাকে কেটে দিয়েছে বলে আমাদের বলে। আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় হাসপাতালে নিলে তাকে রংপুরে পাঠায় চিকিৎসক। আমার ছেলের সাথে এমন ঘটনায় আমি বিচার চাই। মোস্তফার ছোট ভাই মুন্না হাসান বলেন, আমরা জেনেছি গতকাল শনিবার আমার ভাতিজির মাধ্যমে (আটক সাথীর মেয়ে) দোকান থেকে ব্লেড কিনে আনে। সেই ব্লেড দিয়ে আমার ভাইকে শেষ করে দিয়েছে। ঘটনার পর আমরা ব্লেটটি রক্তাক্ত বিছানার নিচে পেয়েছি। আমরা এর সুষ্ঠু ও কঠিন বিচার দাবি করছি। পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, এঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে কোন কথা বলছেন না। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী চেকপোস্টে মোবাইল ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্য মো. শাহআলম (৩৩)কে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে আহত করেছে। ঘটনাস্থল থেকে ফেলে যাওয়া একটি ব্যাগে পাঁচটি ককটেল ও একটি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. সাহিদুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চারজন যুবক দুটি ব্যাগ নিয়ে চেকপোস্টের সামনে যাচ্ছিল। ব্যাগ তল্লাশির চেষ্টা করলে একজন দুষ্কৃতী কোমর থেকে ছুরি বের করে শাহআলমের কপালের বাম পাশে আঘাত করেন। দুর্বৃত্তরা পালানোর সময় ব্যাগ থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। উদ্ধারকৃত বোমা ও ককটেল বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহত পুলিশকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, তার মাথার সিটি স্ক্যান ও চিকিৎসা চলছে। পুলিশ ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি শুরু করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিশেষ অভিযানে কোস্ট গার্ড অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যালা নদী সংলগ্ন মূর্তির খাল ও তৈয়বের খাল এলাকায় ডাকাত দলের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এরপর মোংলা বেইস ও নলিয়ান আউটপোস্ট যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ৪টি একনলা বন্দুক, ১টি ওয়ান শুটার গান, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১০ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়। এ সময় আটক করা হয়েছে বাদশা শেখ (২৫), বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসায় জানা গেছে, বাদশা শেখ দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে ডাকাতি, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহে সহযোগিতা করছিল। নির্বাচনী দায়িত্বে কোস্ট গার্ডের মোতায়েন থাকায় কিছু চক্র সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলেও পাঁচটি আস্তানাও ধ্বংস করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামত ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নরসিংদীর ঘোড়াশাল পলাশ সার কারখানা (GPFPLC) পিএলসি-তে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পূর্বে স্থানীয় কাউন্সিলর কবির হোসেনের নেতৃত্বে এ চক্র সক্রিয় ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে গেলেও নতুন একটি চক্র কারখানায় নিয়মিত চুরি চালিয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারখানার কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মী চক্রটির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত থানায় ৫টি চুরির মামলা ও ৩টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৮-১০ জনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। আটককৃত চোর কারখানার পশ্চিম পাশে শীতলক্ষা নদী সংলগ্ন অংশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিসিটিভি না থাকায় তামার তার, ইয়ার কালেক্টর ও প্ল্যান্টে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কারখানার ৩০২ নম্বর সাব-স্টেশনে চুরির সময় প্যানেল বোর্ডের বৈদ্যুতিক কেবল কেটে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিতে গেলে নিরাপত্তাকর্মী শাহ মোহাম্মদ আরিফকে প্যানেল বোর্ডের ওপর ফেলে আগুনে দগ্ধ করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ ভর্তি করা হয়েছে। আহত নিরাপত্তা কর্মী শাহ মোহাম্মদ আরিফ। এ বিষয়ে কারখানার জিএম ফকরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তাকে নিষেধ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিষয়ে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন সাপেক্ষে অনুমতি পেলে তা সম্ভব হবে। ফখরুল ইসলাম, জিএম,ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি ঘটনাগুলো তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে জানা গেছে।
তারাবি নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে হাতুড়িপেটা করে মোস্তফা কামাল নামে এক কৃষককে হত্যা করা হয়েছে। নিহত মোস্তফা কামাল (৪৫) মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার ধর্মগঞ্জ গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে মেহেন্দিগঞ্জের কাজিরহাট থানার ওসি মো. নবীউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তফা কামালের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্ত্রী আঁখি বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে নিহত মোস্তফা কামালের সাথে প্রতিপক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ও নাসির হাওলাদারদের বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটার দিকে তারাবি নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী বাজারের মসজিদের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন মোস্তফা কামাল। এসময় মাঠে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষরা তার ওপর অতর্কিত হামলা করে। একপর্যায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা এবং হাতসহ তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে দেয়। মুমূর্ষু অবস্থায় রাতেই মোস্তফা কামালকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা রাত একটার দিকে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কাজিরহাট থানার ওসি মো. নবীউল হাসান জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৪ জনকে নামধারী এবং সাতজন অজ্ঞাতসহ মোট ২১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী আঁখি বেগম। ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নান্নু রাঢ়ী, কাশেম রাঢ়ী, জসিম খান, মিন্টু হাওলাদার ও সিয়াম হাওলাদারকে ঘটনার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে র্যাব ৭ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে অস্ত্র ও গুলিসহ একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতের নাম ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম (২৮)। র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ইমতিয়াজ নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং একসময় বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী ছিলেন। তিনি চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। গ্রেফতারের সময় ইমতিয়াজের সঙ্গে থাকা সহযোগী আবুল কালাম আজাদকেও আটক করা হয়। র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে লিংক রোড এলাকায় অস্ত্র কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করার সময় অভিযান চালানো হয়। ধৃতের কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয় এবং পরে তার বাড়ি তল্লাশি করে আরও একটি পিস্তল ও ৫৬ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। র্যাব জানায়, ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র সংরক্ষণ ও নাশকতা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রামের স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলার আসামি। আগে তিনি চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী ছিলেন এবং বিদেশে পলাতক ছিলেন। ধৃতের পরিবারের দাবি, তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং সাজ্জাদ আলীর পক্ষ থেকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে র্যাব এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অভিযান চলাকালীন সময়ে অস্ত্র ও অপরাধমূলক কার্যকলাপে ধৃতকে আটক করা হয়েছে। র্যাব কর্মকর্তারা আরও জানান, নগরের বিভিন্ন এলাকায় ইমতিয়াজ চাঁদাবাজি করতেন এবং একসময় কিশোর গ্যাং ‘রিচ কিডস’ পরিচালনা করতেন। তার সহযোগী আবুল কালাম আসামির ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে চাঁদাবাজি পরিচালনা করত। মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান এবং র্যাব এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক সাকিব সরকার জানান, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সৈয়দপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের ওয়াপদা মোড়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী ‘নাবিল পরিবহন’-এর একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১৯০৬) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশীকালে বাসের ই-১ নম্বর সিটে থাকা যাত্রী মো. মোশারফ হোসেন ওরফে মফিজুল (২৯)-এর দেহ ও তার হাতে থাকা একটি সিনথেটিক ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। ব্যাগের ভেতর ৩০টি নীল রঙের জিপারযুক্ত প্যাকেটে মোট ৬ হাজার পিস কমলা রঙের মিথাইল অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং একটি যাত্রী টিকিট জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত মোশারফ হোসেন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার বলঞ্চা (পার্ট) গ্রামের বাসিন্দা, মো. মোস্তফা কামালের ছেলে।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পর এ আদেশ দেন। বিষয়টি আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন নিশ্চিত করেছেন। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ও তাঁর স্ত্রী পারস্পরিক যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁদের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে এবং অবৈধ উৎসের অর্থ গোপন ও স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি রংপুরে আত্মীয়ের বাসা থেকে নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে একটি হত্যা মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। উল্লেখ্য, নুরুজ্জামান আহমেদ লালমনিরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং পূর্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা-র ধামশ্বর ইউনিয়নের সাইলাবাড়ী গ্রামে মাদক সেবনের দায়ে নজরুল ইসলাম (৩৯) নামের এক ব্যক্তিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসানুল আলম। অভিযুক্তের পিতা আবুল বাসারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নজরুল ইসলাম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে অসদাচরণ ও ভাঙচুর করছেন। এ সময় তার কাছ থেকে কলকি, সিরিঞ্জ ও খালি ওষুধের বোতলসহ নেশার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬ ও ৫ ধারায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী শাহানা পারভীনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি রুজু করেন। সম্পদ গোপনের অভিযোগ মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শাহানা পারভীন ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে প্রায় ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রায় ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া তার বৈধ আয় ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা হলেও পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকা। ফলে ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫০ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। স্বামীর বিরুদ্ধে ও সহায়তার অভিযোগ মামলায় অভিযোগ করা হয়, এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম সরকারি চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে স্ত্রীর নামে সম্পদ গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(2) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ অস্বীকার করে এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালাম মামলাকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, “আমাদের বৈধ ট্যাক্স দেওয়া আছে। এগুলো আমার স্ত্রীর পারিবারিক সম্পত্তি। হয়রানি করতেই এ মামলা করা হয়েছে। উল্লেখ, রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা শাখায় থাকা কালে অবৈধ আয়ে নগরীর বহরমপুরে বহুতল বাড়ি করেন। গোয়েন্দা শাখায় পরিদর্শক মীর্জা আব্দুস সালাম ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি, আটক ব্যানিজ্যসহ মাসিক মাসোহারা উত্তোলনের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ হয়।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কচাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মাইদুল ইসলাম ঘুষ দিতে গিয়ে রংপুরে আটক হয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোকসানা বেগম তাকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করেন। উপ-পরিচালক জানান, মাইদুল ইসলাম গত সপ্তাহেও তার দফতরে এসেছিলেন শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে। সোমবার তিনি আবার এসেছিলেন এবং ব্যাগে থাকা আট লাখ টাকা দিতে চাইলে ও এমপিওভুক্তির জন্য অনুরোধ করেন। উপ-পরিচালক এই অনুরোধ গ্রহণ না করার পর পুলিশকে অবগত করেন। আটক মাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমি জানতাম না ম্যাডাম ঘুষ নেন না। আট লাখ টাকা দেওয়ার চেষ্টা আমার অন্যায় ছিল।” রংপুর মহানগর পুলিশ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান বলেন, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় নমুনা ব্যালটসহ আটক উপজেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক সুকুমার দাস বাবু (৪৮) কে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের গেটের সামনে থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেন। পরে সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালতের বিচারক রানা পারভেজ এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত সুকুমার দাস বাবু উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ বাজার খ্রিস্টানপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বিমল দাসের ছেলে। তিনি ‘অভিযান নিউজ টিভি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিক বলেও পরিচয় দেন বলে জানা গেছে। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সুকুমার দাস বাবু আরও দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে এক বান্ডিল নমুনা ব্যালট নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেন এবং ভোটারদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করেন। আদালতের রায় শেষে তাকে আটোয়ারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়র রহমান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দ্রুত জেলহাজতে পাঠানো হবে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলীপুর এলাকায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ককটেল ও মাদকসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগতো রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলীপুর এলাকার একটি বাঁশবাগানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির নাম আবু মুসা (৩২)। তিনি সদর উপজেলার রসূলপুর গ্রামের মো. রেজাউল ইসলামের ছেলে। সাতক্ষীরা সদর সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, তল্লাশির সময় আবু মুসার কাছ থেকে ৫টি ককটেল, ৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৯৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৫৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক বিরাজ আলী (৪৭) দুর্বৃত্তদের চাপাতি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গোরস্তান এলাকায় গরুর ঘাস কাটার পর বাড়ি ফেরার পথে হেলমেট পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল থেকে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারী পালিয়ে যায়। বিরাজ আলীকে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বড় ভাই আব্দুল মজিদ জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে স্থানীয় বা রাজনৈতিক কোনো বিরোধ ছিল না। চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন ফারুকী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও অস্ত্রসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিকেনগর ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মজিবর মাদবরের নিজ বাসভবনে এই অভিযান পরিচালিত হয়। যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানে একটি পিস্তলের কভার ও সিলিং, অস্ত্র পরিষ্কারের সরঞ্জাম, হকিস্টিক, ২৮টি দেশীয় চাকু, বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা আলামতগুলো প্রাথমিকভাবে অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণ ও সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জামালপুরের মেলান্দহে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত হয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কামদেববাড়ী (শেখবাড়ী) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত মো. নুর নবী (৩৬) ওই এলাকার মৃত সুরুজ শেখের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সকালে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছোট ভাই আলম (৩০) ধারালো ছুরি দিয়ে নুর নবীর পেটে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মেলান্দহ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ফরিদপুর শহরে চুরির শিকার হয়েছেন ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও আইনজীবী মো. নাজমুল হাসান। শহরের টেপাখোলা এলাকার নিজ বাসার গ্যারেজ থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে মোটরসাইকেলটি গ্যারেজে রেখে আদালতে যান নাজমুল হাসান। দুপুরের দিকে ফিরে এসে তিনি সেটি আর পাননি। পরে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, কালো মাস্ক পরা এক যুবক মাত্র ৩৬ সেকেন্ডের মধ্যে গ্যারেজে ঢুকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে বেরিয়ে যান। ঘটনার পর সন্ধ্যায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সারোয়ার প্যাদা (৫৫) এবং তার ভাই বাচ্চু প্যাদা (৪৫) আটক হয়েছেন। অভিযানের সময় তাদের বাসা থেকে ছয়টি ককটেল (হাতবোমা) এবং চারটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশনের ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের নেতৃত্বে ৬ পদাতিক ব্রিগেড এই অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়া অভিযানে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ককটেল ও অস্ত্রগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাশকতামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সব সময় সতর্ক অবস্থানে থেকে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অভিযান নির্বাচনের পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শুরু হচ্ছে। শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এ মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১–এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এ কার্যক্রম শুরু হবে। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, শুনানির শুরুতে মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের কাঠামো তুলে ধরে ওপেনিং স্টেটমেন্ট দেওয়া হবে। এরপর প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। এই মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার সাক্ষ্য গ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি নির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য এই দিন ধার্য করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে গাজীপুর ও বরগুনা এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যা ও গুমের ঘটনায় তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র আমলে নেওয়া হয় এবং ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দৃশ্যমান অগ্রগতিতে প্রবেশ করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ১নং ওয়ার্ড বালিয়াকান্দী এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিযানে দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে দেশীয় পাইপগান, বন্দুক, দুইটি দেশীয় অস্ত্র এবং ১২ রাউন্ড লাইভ গুলি জব্দ করা হয়। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সাকলে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে নৌ-বাহিনী জানান, গ্রেফতারকৃতরা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই অস্ত্র ব্যবহার করতে চাইছিল। অভিযানের সময় আটক হন জামাল উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোঃ সেলিম কাজী ও মোঃ হাসান। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলা ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নৌবাহিনী জানায়, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ৮ জেলার ১৬ সংসদীয় আসনে ২৫টি কন্টিনজেন্টে প্রায় ৫ হাজার নৌসদস্য দায়িত্ব পালন করছে।