আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শুরু হচ্ছে। শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এ মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১–এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এ কার্যক্রম শুরু হবে। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, শুনানির শুরুতে মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের কাঠামো তুলে ধরে ওপেনিং স্টেটমেন্ট দেওয়া হবে। এরপর প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। এই মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার সাক্ষ্য গ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি নির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য এই দিন ধার্য করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে গাজীপুর ও বরগুনা এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যা ও গুমের ঘটনায় তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র আমলে নেওয়া হয় এবং ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দৃশ্যমান অগ্রগতিতে প্রবেশ করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ফরিদপুর শহরে চুরির শিকার হয়েছেন ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও আইনজীবী মো. নাজমুল হাসান। শহরের টেপাখোলা এলাকার নিজ বাসার গ্যারেজ থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি চুরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে মোটরসাইকেলটি গ্যারেজে রেখে আদালতে যান নাজমুল হাসান। দুপুরের দিকে ফিরে এসে তিনি সেটি আর পাননি। পরে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, কালো মাস্ক পরা এক যুবক মাত্র ৩৬ সেকেন্ডের মধ্যে গ্যারেজে ঢুকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে বেরিয়ে যান। ঘটনার পর সন্ধ্যায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের কাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ধত্রি রানী (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রীর মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাকোয়া ইউনিয়নের আরাজি সাকোয়া এলাকায় তার বাড়ির পাশে পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। ধত্রি রানী সাকোয়া ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী এবং ক্ষীতিশ চন্দ্র বর্মনের মেয়ে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি করলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শরীয়তপুরে অস্ত্র ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্যের কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী। জেলার পালং মডেল থানার পৌরসভাধীন স্বর্ণঘোষ এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক এবং সন্দেহজনক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে এক নারীসহ দুইজনকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর সদর স্টেডিয়ামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন ৫ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিয়া মোহাম্মদ মেহেদী হাসান। সেনা সূত্র জানায়, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে সদর উপজেলার স্বর্ণঘোষ এলাকায় মন্টু তালুকদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মূল অভিযুক্ত মন্টু তালুকদার পলাতক থাকলেও তাঁর স্ত্রী ইসমত জাহান ওরফে ইলোরা হাওলাদারকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে একটি শটগান, দুটি .২২ বোর রাইফেল, একটি একনালা বন্দুক, বিভিন্ন ধরনের ম্যাগাজিন ও বিপুল গোলাবারুদ, একটি বিদেশি ড্যাগার, বিদেশি মদ ও মাদক গ্রহণের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনী জানায়, মন্টু তালুকদার একাধিক মামলার পলাতক আসামি। একই সময়ে জেলার নড়িয়া ও ডামুড্যা উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আরও অস্ত্র উদ্ধার এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।