সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ প্রদেশে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) শারজাহর একটি হলে বিএনপির আল সাজ্জা ইউনিটের উদ্যোগে দিনব্যাপী কোরআন খতম, মিলাদ ও স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল সাজ্জা ইউনিট বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন। সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফরিদুল আলমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউএই বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম এনাম হোসেন এবং প্রধান বক্তা ছিলেন শারজাহ বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী মুহাম্মাদ করিমুল হক।
বক্তারা বলেন, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতা। তাঁর মৃত্যুতে দেশ এক অভিভাবককে হারিয়েছে। গণতন্ত্রের সংকটকালে তাঁর নেতৃত্ব ও সাহসী ভূমিকা জাতির জন্য দিকনির্দেশক হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল করিম। এতে আল সাজ্জা ইউনিট ও শারজাহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক সামরিক অভিযানে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। উক্ত হামলার প্রেক্ষিতে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে রকেট হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। গোষ্ঠীটি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে উল্লেখ করে, লেবাননের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে প্রতিরোধমূলক আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি আক্রমণ বন্ধ না করে, তবে আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে কঠোর ও প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও, তা বাস্তবায়ন নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইসরায়েল, ইরান ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি নিশ্চিত করলেও লেবানন এই সমঝোতার আওতায় রয়েছে কি না, তা নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য বিরাজ করছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, মাত্র ১০ মিনিটে লেবাননের প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে, যা তারা সামরিক প্রয়োজনীয়তার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। অপরদিকে, ইরান এ ধরনের পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ অভিযানে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বড় আঘাত’ হানার দাবি করে বলেন, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধেও পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেন, তেহরানের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির একাধিক ধারা ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে লঙ্ঘিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চলমান আলোচনা ও সমঝোতা অব্যাহত রাখাকে তিনি ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেন। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে, যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বুধবার (৭ এপ্রিল) ঘোষণা করেছেন, তার দেশের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সব প্রান্তে অবিলম্বে কার্যকর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার দু’দেশের প্রতিনিধিদলকে বৈঠকের জন্য স্বাগত জানানো হবে, যেখানে চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। শাহবাজ আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছে, তার দেশ এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত নয় এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য ইরানকে এমন অবস্থানে নিয়ে আসা যাতে তারা পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র বা সন্ত্রাসী হুমকি তৈরি করতে না পারে। যদিও ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যকে সমর্থন জানাচ্ছে, তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে লেবাননের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কোনও ছাড় নেই। এই অবস্থার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ কঠিন হয়ে উঠেছে, যেখানে ইসলামাবাদে আসন্ন আলোচনাই সম্ভাব্য সমাধানের মূল কেন্দ্রে রয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘোষিত ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের কৌশলগত অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করেছে হোয়াইট হাউজ। বুধবার (৮ এপ্রিল) একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে, যা পরবর্তীতে কূটনৈতিক আলোচনার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সামরিক অগ্রগতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে শক্তিশালী দরকষাকষির সুযোগ তৈরি করে এবং তা সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ সুগম করেছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে মার্কিন স্বার্থ সংরক্ষণ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প প্রশাসনের সক্ষমতাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে হলে ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ‘সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে’ নিশ্চিত করতে হবে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা গড়ে ওঠে। তাঁর দপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট শর্ত মেনে ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে সম্মত হওয়ায় যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার পথে রয়েছে।