নীলফামারীতে তেল চুরির অভিযোগে তিন শ্রমিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ৮টার দিকে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নিয়াজ ভূঁইয়া জানান, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি তেলের লড়ি সন্দেহজনক মনে হলে তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় একটি জেরিকেন থেকে ১৩ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয় এবং লড়ির ড্রাইভার ও হেল্পারসহ তিন শ্রমিককে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের প্রত্যেককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তেল চুরি ও পাচার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত পেট্রোল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধেই। শুক্রবার বিনসাড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজ থেকে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জব্দকৃত পেট্রোলের একটি অংশ খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে বিক্রি করা হলেও অবশিষ্ট অংশ অন্যত্র নেওয়া হয়েছে, যার স্বচ্ছ হিসাব প্রদান করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের একটি সূত্র দাবি করেছে, দুই ড্রাম পেট্রোলের মধ্যে এক ড্রাম সেখানেই খুচরা বিক্রি করা হয় এবং অপর ড্রাম অন্য স্টেশনে নেওয়ার কথা বলা হয়। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক অভিযোগ করেন, জরিমানার রসিদ দেওয়া হলেও জব্দকৃত পেট্রোলের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি প্রদান করা হয়নি এবং পরবর্তীতে খালি ড্রাম ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিধি অনুযায়ী জব্দকৃত পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে জনপ্রতি এক লিটার করে বিক্রি করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জমিজমা বিরোধে ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের পাশের চতুল রেললাইন সংলগ্ন এলাকা থেকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মিন্টু মোল্লা (৫৭) স্থানীয় চতুল গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত বড় ভাই গোলাম কবির (৭১) জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি ও পেশায় চিকিৎসক। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলমান পৈতৃক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গোলাম কবির মিন্টুকে বাগান কাজ থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করেন। বাগ্বিতণ্ডা শেষে তিনি নিজের লাইসেন্সকৃত শটগান দিয়ে মিন্টুর গলা ও বুকে ছয়টি গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গোলাম কবিরকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পুলিশকে খবর দেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, হত্যার ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের লাশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অপরাধ সংক্রান্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, গোলাম কবিরের বিরুদ্ধে পূর্বেও মারামারি, অস্ত্র ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিভিন্ন মামলায় বিচারাধীন রয়েছে। তিনি বর্তমানে ফরিদপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত এবং নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘গোলাম কবির নার্সিং ইনস্টিটিউট’-এর চেয়ারম্যান।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের তালুকনগর গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে দুই ব্যক্তির ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে তালুকনগর বাজার এলাকায় এ হামলা হয়। আহতরা হলেন মো. জালাল মিয়া (৩৭) ও পিন্টু (৩৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইলিয়াসের ছেলে ইমরান (৩৫), জাহিদ (২৮) এবং তাদের সহযোগী রাজিব (২৫) ও আলামিন (২৫) দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। আহত পিন্টুর দাবি, হামলাকারীরা চাপাতি, দা ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে জালাল গুরুতর আহত হন এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ২২ মার্চ তোফায়েল আহমেদ সূর্য (৫২) নামের আরেক ব্যক্তির ওপরও একই কায়দায় হামলার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত ইমরান এলাকায় প্রভাবশালী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং তার সহযোগীরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি মো. কমর উদ্দিন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।