জ্বালানি তেলের অপচয় রোধে সাইকেলে করে অফিসে যাতায়াত শুরু করেছেন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ইকু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মো. সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক।
জানা গেছে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে তেল সাশ্রয়ের উদ্যোগ হিসেবে তিনি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে বাইসাইকেলে চলাচল করছেন। সম্প্রতি সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া থেকে কুন্দল এলাকায় অবস্থিত তাঁর মালিকানাধীন ইকু পেপার মিলে সাইকেলে যেতে দেখা যায়।
সৈয়দপুরসহ নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকায় তাঁর একাধিক শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিয়মিত এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য আগে গাড়ি ব্যবহার করলেও বর্তমানে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিকল্প হিসেবে সাইকেল বেছে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশ্ববাজারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন এবং অন্যদেরও সাইকেল ব্যবহারের আহ্বান জানান।
বাগেরহাটে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের আয়োজনে রবিবার (২৯ মার্চ) বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারটি বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সকাল ১১টা ৩০এ শুরু হয়। প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত কমানোর গুরুত্বের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া টেকসই বন ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী। বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন এবং সাবেক সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তারা বাঘ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি, সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার এবং অবৈধ শিকার প্রতিরোধের আহ্বান জানান। সেমিনারে বন বিভাগের কর্মকর্তা, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজার এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগে পাম্প মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে কানাইপুর ইউনিয়নের হোসেন ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া। জানা যায়, পাম্পটিতে প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৬ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন এবং ১৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল মজুদ থাকলেও ভোক্তাদের কাছে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছিল। ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় পাম্প মালিককে জরিমানা করা হয় এবং দ্রুত জ্বালানি বিক্রি কার্যক্রম চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পঞ্চগড়ে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত থেকে শুরু হওয়া শিলাবৃষ্টি ও তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার অনেকাংশে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গাছপালা উপড়ে পড়ায় রাত থেকে বহু এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, চন্দনবাড়ী, সাকোয়া, পাচপীর ইউনিয়নসহ দেবীগঞ্জের বেশ কিছু এলাকায় ঝড়ের তীব্রতায় বসতবাড়ি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। মরিচ, ভুট্টা, তরমুজ, শাকসবজি, লিচু ও আমের মুকুলের ক্ষতি হয়েছে। বোদার ভাসাইনগর এলাকার খসরু জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে তাদের ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে এবং ফলজ ও বনজ গাছের ক্ষতি লক্ষাধিক টাকার। শালশিরির এক দরিদ্র কৃষক বলেন, কয়েকদিন পর তোলা যাওয়া মরিচ ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দ্রুত সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় এই ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।