সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত পেট্রোল ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধেই। শুক্রবার বিনসাড়া বাজারে অভিযান চালিয়ে মেসার্স মোল্লা এন্টারপ্রাইজ থেকে ৩৯৫ লিটার পেট্রোল জব্দ ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জব্দকৃত পেট্রোলের একটি অংশ খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশনে বিক্রি করা হলেও অবশিষ্ট অংশ অন্যত্র নেওয়া হয়েছে, যার স্বচ্ছ হিসাব প্রদান করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশনের একটি সূত্র দাবি করেছে, দুই ড্রাম পেট্রোলের মধ্যে এক ড্রাম সেখানেই খুচরা বিক্রি করা হয় এবং অপর ড্রাম অন্য স্টেশনে নেওয়ার কথা বলা হয়।
অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক অভিযোগ করেন, জরিমানার রসিদ দেওয়া হলেও জব্দকৃত পেট্রোলের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি প্রদান করা হয়নি এবং পরবর্তীতে খালি ড্রাম ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিধি অনুযায়ী জব্দকৃত পেট্রোল খালকুলা সমবায় ফিলিং স্টেশন থেকে জনপ্রতি এক লিটার করে বিক্রি করা হয়েছে।
ঘটনাটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে ৪ হাজার ৮শ’ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোহাম্মদ খালেকুল (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। জেলা শহরের ওয়াপদা এলাকায় পঞ্চগড়গামী একটি যাত্রীবাহি বাস থেকে তাকে আটক করা হয়। খালেকুল ঠাঁকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড় পলাশবাড়ি নয়া দলুয়া এলাকার মোহাম্মদ আসলামের ছেলে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নীলফামারী জেলা কার্যালয় জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রিয়ম বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার স্কুল ব্যাগে রাখা ৪৮০০ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। নীলফামারী ‘খ’ সার্কেলের উপ-পরিদর্শক সাকিব সরকার জানান, এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় মামলা (নং-২১) দায়ের করা হয়েছে।
বরিশাল নগরীতে ভূয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক দালালকে রোগীদের প্রতারণার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সদর রোড থেকে আটক করা মাসুম হাওলাদার নামের ওই দালালকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে সাজা দেন। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে বিভিন্ন প্রবেশদ্বার—নথুল্লাবাদ, লঞ্চঘাট ও রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড—থেকে অসুস্থ মানুষদের ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে ধরে এনে ভূয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের হাতে তুলে দেওয়ার একটি চক্র সক্রিয় ছিল। এতে রিক্সা ও অটো চালকরা দালালদের সঙ্গে অংশীদার হয়ে মোটা কমিশন অর্জন করত। এ চক্রের মাধ্যমে গ্রামীণ রোগীদের কাছ থেকে ভূয়া টেস্টের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো। বৃহস্পতিবার সদর রোডস্থ বিবির পুকুরপারে সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিকের দালাল মাসুম হাওলাদারকে স্থানীয়রা আটক করে। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানার এসআই রুহুল আমীন তাকে থানায় নিয়ে যান। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সামারী ট্রায়ালের মাধ্যমে মামলার বিচার শেষে মাসুম হাওলাদারকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় আরও এক ব্যক্তিকে স্বাক্ষী হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে, যিনি নিজেও অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাইবার সুরক্ষা আইনে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে বড়ভিটা বাজার সংলগ্ন একটি ক্লাবঘরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো সাজু খান (৩৫), আসাদুজ্জামান (৪০), তানভীর আহমেদ মিজান (৩০), তানজিদ হোসেন (২৪), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) ও আলাল ইসলাম (৩৫)। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এসআই কাজী রিপন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা ডিজিটাল ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ভিসা, নকল পাসপোর্ট, ভুয়া চাকরির নিয়োগপত্র ও ব্যাংক লোনের প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ, রকেট ও নগদ অ্যাকাউন্টে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। পাশাপাশি তারা অনলাইন ক্যাসিনোতে জড়িত ছিল এবং মাদক সেবন করছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা এসব কার্যক্রমে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুছ জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।