র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সর্বোচ্চ নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। শনিবার (২৮ মার্চ) সংস্থাটির ১২তম মহাপরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, যা প্রযোজ্য প্রশাসনিক বিধি ও প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কার্যকর হয়েছে।
বিসিএস ১৫তম ব্যাচের এই জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় তিনি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি), সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) এবং রাঙ্গামাটি, শরীয়তপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদর দপ্তর ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাঁর অভিজ্ঞতা সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় কসোভো, লাইবেরিয়া, সুদান ও দক্ষিণ সুদানে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পেশাগত দক্ষতা ও সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম-সেবা)’ পদকে ভূষিত হয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আহসান হাবীব যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, যা তার প্রশাসনিক ও কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
দেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার ঠেকাতে সরকার কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সোমবারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অবৈধ তেল মজুতদার ও পাচারকারীদের সনাক্ত করতে সহায়তা করার জন্য যে কোনো নাগরিককে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্যে ওঠানামা হচ্ছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি না করে গোপনে মজুত করছেন এবং পরে তা উচ্চমূল্যে বাজারে ছেড়েন। ইতিমধ্যে মাঠ প্রশাসন বেশ কিছু চক্রকে শাস্তির আওতায় এনেছে, কিন্তু পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় সরকার আর্থিক পুরস্কারের মাধ্যমে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তথ্য দিতে পারবে এবং তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। পুরস্কারের অর্থ প্রদান করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক। এই পদক্ষেপে সরকারের লক্ষ্য হলো তেলের বাজারে স্বচ্ছতা আনা এবং সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ করা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক লুটপাট ও দুর্নীতি হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কোনো তহবিল অবশিষ্ট নেই। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে গজ, ব্যান্ডেজ ও সিরিঞ্জ কেনার মতো মৌলিক সরঞ্জামের জন্যও পর্যাপ্ত অর্থ নেই। রোববার (২৯ মার্চ) গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি বলেন, চলমান হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পগুলোও দুর্বল পরিকল্পনার কারণে কার্যকর হয়নি। ২৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোতে প্রবেশপথে এমন ব্যর্থ নির্মাণ হয়েছে, যেখানে রোগী প্রবেশ করলেও ময়লার গন্ধে ভোগান্তি সৃষ্টিকারী অবস্থা। মন্ত্রী আরও বলেন, “প্রকল্পগুলোর তড়িঘড়ি ও দুর্বল বাস্তবায়নের ফলে স্বাস্থ্যখাতের তহবিল নিঃশেষ হয়ে গেছে। এখন সীমিত সম্পদের মধ্যেও পর্যায়ক্রমে জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বাজেটের পর ধাপে ধাপে সকল উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সম্ভব হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের বিরতি শেষে রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে পুনরায় শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন, যেখানে প্রথমবারের মতো সভাপতিত্ব করেন নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অধিবেশন শুরুর মধ্য দিয়ে তার সংসদীয় দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। বিরতিকালে গঠিত বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় দুটি বৈঠক সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে ১১৩টি অধ্যাদেশ বহাল বা বাতিলের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, তবে অবশিষ্ট ২০টি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। কমিটি আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং ১১ এপ্রিলের মধ্যে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, সংসদীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সদস্যদের আবাসন বরাদ্দ ১০ এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটি তদন্তে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলতি অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।