ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর পূর্বপাড়া এলাকায় সেফটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে জামেলা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে খাবার শেষে ঘুমাতে যান জামেলা বেগম। পরদিন সকালে তার মেয়ে আকলিমা ও নাতনি মাফিয়া বাড়িতে এসে তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি সেফটিক ট্যাংকের ঢাকনার ওপর কাপড়ের অংশ দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেন তারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্যাংকের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসুল সামদানী আজাদ জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নীলফামারীতে শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গণে কাসেম ফাউন্ডেশন (মরিয়ম চক্ষু হাসপাতাল, সৈয়দপুর) আয়োজিত এবং এমটিবি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু সেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্যাম্পে শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, লেন্সসহ ছানি অপারেশন, নালী ও মাংস বৃদ্ধি সংক্রান্ত চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা গ্রহণ করেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী— • ৪৭৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় • ১৮৮ জনের দৃষ্টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয় • ৯০ জনের লেন্সসহ ছানি অপারেশন • ১৫ জনের নালী অপারেশন • ৭ জনের মাংস বৃদ্ধি চিকিৎসা • ১৪১ জনকে বিনামূল্যে ওষুধ • ১৫৫ জনকে চশমা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মরিয়ম চক্ষু হাসপাতালের ডিজিএম মোঃ জাকির হোসেন, সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মুরাদ ইবনে হাফিজ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মাসুদ রানা, সিনিয়র অর্গানাইজার মিজানুর রহমান এবং নাসিব নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মোমিন। স্থানীয়রা এই মানবিক উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের ১০ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। সকাল থেকেই বন্দরে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য, পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত ও লোড-আনলোডে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ভারত থেকে অর্ধশতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেছে। ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিন বন্ধ ছিল বন্দরের সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম। ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা জানান, ঈদ উপলক্ষে দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। শনিবার থেকে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঘোজাডাঙা বন্দরের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। এদিকে, ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্র জানায়, ছুটির সময় পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক ছিল, তবে যাত্রীসংখ্যা ছিল কম। উল্লেখ্য, ভোমরা স্থলবন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবে পরিচিত। টানা ১০ দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকার বিপুল রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরায় জ্বালানি তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও পেট্রোল বা অকটেন না পেয়ে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছয়ঘরিয়া এলাকার লস্কর ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন তারা। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। বিক্ষুব্ধ বাইকাররা অভিযোগ করেন, ফিলিং স্টেশনে তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ গ্রাহকদের না দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। একপর্যায়ে তারা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং বাঁশ ফেলে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। এর আগে কপোতাক্ষ ফিলিং স্টেশন এলাকাতেও একই ধরনের অবরোধের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, দীর্ঘ সময় তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাইকাররা সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্টেশনে থাকা সামান্য তেল বাইকারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে শতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী অবস্থান করছিলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে সাতক্ষীরার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তেলের জন্য দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করলেও চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।