সিরাজগঞ্জ থেকে রাত ১০টার দিকে বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ নিজ বাসভবন ত্যাগ করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপো পরিদর্শনে যান। প্রায় ১২টার দিকে ডিপোর গেট খুলে তেল সরবরাহের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি।
মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ডিপো থেকে তেল বের হচ্ছে, কিন্তু শহরে তেলের অভাবের কারণে হাহাকার চলছে। প্রত্যেক ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তেল প্রতিটি পাম্পে সঠিকভাবে পৌঁছায়। তিনি উল্লেখ করেন, সিন্ডিকেট বা চোরাকারবারি বন্ধ রাখা, পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহের ২০ জেলার পাম্পে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য গভীর রাতে এই পরিদর্শন করেছেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, “আমার আশা, আগামীকাল থেকে প্রতিটি পাম্পে তেল যথাযথভাবে সরবরাহ হবে। কেউ যাতে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে কঠোর নজর রাখা হবে।”
এই পরিদর্শন ইরান–সংশ্লিষ্ট তেলের সংকটের প্রেক্ষিতে রেশনিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সিন্ডিকেট প্রতিরোধ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুর গ্রামে মুকুল (৪৫) নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। অপরদিকে আর্থিক অনটনে পড়ে সিরাজুল ইসলাম (২৯) নামে এক ডাম্প ট্রাক চালক আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার এ ঘটনা দুটি ঘটেছে শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে । এলাকাবাসী জানায়, শনিবার দুপুরে মানসিকভাবে অসুস্থ মুকুল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে শহরের উপকন্ঠে পোড়াহাট আবাসনের ঘরের বারান্দার তীরের সঙ্গে পুরাতন ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন সিরাজুল ইসলাম নামে ডাম্প ট্রাক চালক। তিনি শহরের কুন্দল পশ্চিমপাড়ায় তাঁর নিজ বাড়িতে আবাসন সংকটের কারণে গত প্রায় দুই বছর যাবৎ উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের পোড়াহাট আবাসন প্রকল্পের সরকারি বাড়িতে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছেন। সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় দুটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর পূর্বপাড়া এলাকায় সেফটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে জামেলা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে খাবার শেষে ঘুমাতে যান জামেলা বেগম। পরদিন সকালে তার মেয়ে আকলিমা ও নাতনি মাফিয়া বাড়িতে এসে তাকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি সেফটিক ট্যাংকের ঢাকনার ওপর কাপড়ের অংশ দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেন তারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্যাংকের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসুল সামদানী আজাদ জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সংঘটিত মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ গার্মেন্টস শ্রমিকের মরদেহ নিজ গ্রাম গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়ায় পৌঁছালে এলাকায় শোকের আবহ নেমে আসে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রাম ভারী হয়ে ওঠে। নিহতদের দাফনের জন্য কবর প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বাদ যোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে যাত্রীরা নেমে সড়কের পাশের রেললাইনে অবস্থান নেন। এ সময় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি অতিক্রমকালে অসতর্ক অবস্থায় রেললাইনে থাকা যাত্রীরা ট্রেনের নিচে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা ও পারস্পরিক আত্মীয় ছিলেন এবং জীবিকার তাগিদে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মো. শাহাদাত হোসেন জানান, তারা সবাই দরিদ্র পরিবারের সদস্য ছিলেন এবং কাজের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথেই প্রাণ হারান। ঘটনাটি একটি দুর্ঘটনাজনিত প্রাণহানি হিসেবে প্রাথমিকভাবে বিবেচিত হলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একই গ্রামের পাঁচজনের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।