সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের ১০ দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। সকাল থেকেই বন্দরে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য, পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত ও লোড-আনলোডে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।
দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ভারত থেকে অর্ধশতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেছে। ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিন বন্ধ ছিল বন্দরের সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম।
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা জানান, ঈদ উপলক্ষে দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। শনিবার থেকে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঘোজাডাঙা বন্দরের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোদমে চলছে।
এদিকে, ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্র জানায়, ছুটির সময় পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক ছিল, তবে যাত্রীসংখ্যা ছিল কম।
উল্লেখ্য, ভোমরা স্থলবন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবে পরিচিত। টানা ১০ দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকার বিপুল রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ থেকে রাত ১০টার দিকে বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ নিজ বাসভবন ত্যাগ করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপো পরিদর্শনে যান। প্রায় ১২টার দিকে ডিপোর গেট খুলে তেল সরবরাহের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ডিপো থেকে তেল বের হচ্ছে, কিন্তু শহরে তেলের অভাবের কারণে হাহাকার চলছে। প্রত্যেক ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তেল প্রতিটি পাম্পে সঠিকভাবে পৌঁছায়। তিনি উল্লেখ করেন, সিন্ডিকেট বা চোরাকারবারি বন্ধ রাখা, পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহের ২০ জেলার পাম্পে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য গভীর রাতে এই পরিদর্শন করেছেন। মন্ত্রী আরও বলেন, “আমার আশা, আগামীকাল থেকে প্রতিটি পাম্পে তেল যথাযথভাবে সরবরাহ হবে। কেউ যাতে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে কঠোর নজর রাখা হবে।” এই পরিদর্শন ইরান–সংশ্লিষ্ট তেলের সংকটের প্রেক্ষিতে রেশনিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সিন্ডিকেট প্রতিরোধ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।
বরিশালে ইন্দো বাংলা ফার্মাসিটিক্যালস এর চার শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে ফ্যাক্টরির মূল গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে এই বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এ সময় চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা জানান, কোন কারণ ছাড়া বিনা নোটিশে চারজন শ্রমিককে মৌখিকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে চাকরি চ্যুতদের চাকরিতে পুনর্বহাল এবং ২০২৫ সালের গেজেট অনুযায়ী বেতন স্কেল চালু করা না হলে, এই আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। তবে ইন্দো বাংলা কর্তৃপক্ষ জানান, কোন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়নি। ম্যানেজমেন্টের সাথে একটু তর্ক বিতর্ক হওয়ায় তাদের চারজনকে পাঁচ দিনের ছুটিতে রাখা হয়েছে। আগামীকালের মধ্যে শ্রমিকদের সাথে বসে এই সমস্যার সমাধান করা হবে বলেও জানান তারা।
নীলফামারীর ডোমার ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) গভীর রাতে শুরু হওয়া এ শিলাবৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টির আঘাতে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠের ভুট্টা, মরিচ, আলু ও ধানক্ষেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ঝড়ো বাতাসসহ শিলাবৃষ্টির তীব্রতায় বহু বসতবাড়ির টিনের চাল ফুটো হয়ে যায়। ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা বিপাকে পড়েন এবং রাতের অন্ধকারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কয়েকটি পূজা মণ্ডপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, গত ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে এত তীব্র শিলাবৃষ্টি তারা দেখেননি। এদিকে এখনো পর্যন্ত সরকারি কোনো দপ্তর থেকে ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর রহমান জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।