যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট সোমবার জানিয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী, পর্যটক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের বরাতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসা প্রক্রিয়া পূর্ণাঙ্গভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা এবং নিশ্চিত করা যে, যুক্তরাষ্ট্রে আগত বিদেশিরা সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধার অবৈধ ব্যবহার করতে না পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কিছু দেশের নাগরিকদের মধ্যে সরকারি সুবিধার ব্যবহার তুলনামূলক বেশি এবং বাংলাদেশের অবস্থান সেই তালিকায় রয়েছে। এই কারণে, ভিসা ইস্যু ও যাচাই প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সতর্কতা ও নীতিগত পর্যালোচনা জরুরি বিবেচিত হয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশ শুধু অভিবাসী ভিসা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়; এর আওতায় পর্যটক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাও অন্তর্ভুক্ত। লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে এমন নীতি কার্যকর করা, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। তবে কতদিনের জন্য স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে এবং কখন ভিসা কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
মস্কো থেকে আসা এক নতুন কূটনৈতিক বার্তায় ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে শর্তসাপেক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, চলমান সংঘাত হয়তো শেষ পর্যায়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি–এর সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকের সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকতে পারে। শনিবার (০৯ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন দাবি করেন, যুদ্ধে রাশিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিতভাবে শক্তিশালী এবং তারা বিজয়ের পথেই রয়েছে। একই দিনে মস্কোর রেড স্কয়ারে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধরত রুশ সেনাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পুতিন এ সংঘাতকে “ন্যায্য প্রতিরক্ষা যুদ্ধ” হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশ ও ন্যাটোর সামরিক সহায়তা ইউক্রেনকে একটি প্রক্সি যুদ্ধে পরিণত করেছে। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি এখন সমাপ্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এদিকে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করেছে এবং এক হাজার বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে, যা নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্যে পুতিন পশ্চিমা বিশ্বায়নবাদী নীতিকে দায়ী করেন এবং ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণকে বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সম্ভাব্য কোনো উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কেবল পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরই অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং সেটি হতে পারে তৃতীয় কোনো নিরপেক্ষ দেশে।
মালির মধ্যাঞ্চলে জিহাদি সহিংসতার নতুন ঢেউয়ে অন্তত ৭০ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, গত শুক্রবার একাধিক স্থানে সমন্বিত হামলা চালায় সশস্ত্র গোষ্ঠী। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট সংগঠন JNIM। এর আগে একই সপ্তাহে আলাদা হামলায় আরও অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিল বলে জানা গেছে, ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। একজন স্থানীয় কর্মকর্তা নিহতের সংখ্যা ৭০-এর বেশি বলে নিশ্চিত করলেও আরেকটি সূত্রে তা ৮০-এর কাছাকাছি হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এক যুবনেতা নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কার্যকর সুরক্ষা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে হতাশা প্রকাশ করেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যেসব গ্রাম সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে স্থানীয় সমঝোতা চুক্তিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, সেগুলোই মূলত লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয় থালাপতি। রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়াম–এ অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ৫১ বছর বয়সী বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পায়। তবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় কয়েকদিন ধরে জোট গঠনের আলোচনা চালাতে হয়। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, সিপিআই (এম) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের সমর্থন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেন তিনি। এর ফলে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে। দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে বিজয়কে। তারপরও তার জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হবে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছর পর তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে–এর বাইরে অন্য কোনো দলের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলো, যা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।