আর্জেন্টিনা সফরকে ঘিরে নতুন করে দলবদল জল্পনার কেন্দ্রে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বোকা জুনিয়র্স।
সম্প্রতি বুয়েনস আইরেস সফরের সময় আন্তর্জাতিক ম্যাচ উপলক্ষে সান্তোস দলের সঙ্গে আর্জেন্টিনা পৌঁছান নেইমার। ওই সফরে তিনি বোকা জুনিয়র্সের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কাসা আমারিলা পরিদর্শন করেন এবং ক্লাব প্রেসিডেন্ট হুয়ান রোমান রিকেলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তাকে একটি ব্যক্তিগত নামাঙ্কিত জার্সিও উপহার দেওয়া হয়, যা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রান্সফার গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।
তবে ক্লাব সূত্রে জানানো হয়েছে, এটি ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক সফর এবং দলবদল নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। কর্তৃপক্ষ গুঞ্জনকে গুরুত্ব না দিলেও ভক্তদের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কৌতূহল বেড়েছে।
বর্তমানে সান্তোসে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও ক্লাবটির আর্থিক ও কৌশলগত অনিশ্চয়তা এবং নেইমারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন এই জল্পনাকে আরও উসকে দিচ্ছে। যদিও তার বর্তমান চুক্তি ২০২৬ সাল পর্যন্ত কার্যকর, তবুও ফুটবল মহলে তার পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে আলোচনা চলছেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে নেইমার নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধানে রয়েছেন। সে ক্ষেত্রে দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক লিগে তার সম্ভাব্য গমন—দুই দিকেই জল্পনা সক্রিয় রয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রান্সফার বিষয়ে নিশ্চিত না করলেও, বোকা জুনিয়র্সকে ঘিরে নেইমারের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা ব্যভিচার ও মানহানির মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১০ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। বুধবার (৬ মে) ঢাকার সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক এ আদেশ দেন। শুনানিতে বাদীপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানায়, অন্যদিকে আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস প্রার্থনা করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানার বিয়েকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ওঠে যে, পূর্ববর্তী বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থায় তারা নতুন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন, যা আইন ও ধর্মীয় বিধানের পরিপন্থি। এর আগে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয় এবং ২০২২ সালে আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু করে। আদালত একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেক আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এখন মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে বাংলাদেশের বিরত থাকার সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর নীতিগত ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার মন্তব্যে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। তিনি বলেন, একটি বিশ্বকাপ আসর থেকে সরে দাঁড়ানো কেবল ক্রীড়াঙ্গনের ক্ষতিই নয়, বরং দেশের ক্রীড়া-অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কূটনীতি এবং জনমনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, “জাতীয় দলের বিশ্বকাপে অনুপস্থিতি একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, যা সমর্থক ও খেলোয়াড়—উভয় পক্ষের জন্যই হতাশাজনক।” উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তটি তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিগত অবস্থানের অংশ হিসেবে গৃহীত হয়, যেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিবেচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ও অংশগ্রহণমূলক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, বৈশ্বিক আসরে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকা শুধু তাৎক্ষণিক নয়, ভবিষ্যৎ ক্রীড়া সম্পর্ক, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং ক্রিকেট প্রশাসনের ওপরও বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে এক বিকল্প প্রস্তাব, যেখানে ইরান-এর সম্ভাব্য অনুপস্থিতির প্রেক্ষিতে ইতালিকে অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হলেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইতালির ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘনিষ্ঠ বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো-এর কাছে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি রাজনৈতিক নয়; বরং জরুরি বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচ্য, যদি কোনো কারণে ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে অপারগ হয়। তবে ইতালির সরকারি ও ক্রীড়া মহল এ প্রস্তাবকে নীতিগতভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের একমাত্র বৈধ পথ হলো মাঠে অর্জিত যোগ্যতা, কোনো প্রকার প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। একইসঙ্গে ইতালির অলিম্পিক কমিটি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও প্রস্তাবটিকে ‘অপমানজনক’ ও ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিক কোনো বাধা আরোপ করা হয়নি, যদিও নিরাপত্তাজনিত কিছু বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে রোমে অবস্থিত ইরান দূতাবাসও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক ন্যায্য প্রতিযোগিতার নীতির পরিপন্থী। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইন ও যোগ্যতাভিত্তিক অংশগ্রহণের নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং বৈশ্বিক ক্রীড়া কূটনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।