দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সামরিক অভিযান জোরদারের ঘোষণা দিয়ে নয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে সেখানে বিমান ও গোলাবর্ষণ অভিযান চালানো হবে।
ইসরায়েলি বাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিখাই আদরাই জানান, আল-রিহান, জারজৌহ, কাফর রুম্মানে, আল-নেমিরিয়েহসহ দক্ষিণ লেবাননের একাধিক অঞ্চলকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরায়েলের ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলমান সংঘাতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার হতাহত হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তজুড়ে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে নতুন রাজনৈতিক বিন্যাসে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত শোভনদেব এবার বালিগঞ্জ আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে টানা দশমবারের মতো বিধানসভায় নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। এবারের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ আসনে পরাজিত হয়ে বিধানসভায় প্রবেশাধিকার হারান, ফলে নেতৃত্বের কাঠামোয় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে শোভনদেবকে বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বে আনা হয়। রাজনৈতিক জীবনে কংগ্রেস থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যুক্ত থাকা শোভনদেব শ্রমিক রাজনীতি, ট্রেড ইউনিয়ন ও সংগঠন বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। একসময় ভবানীপুর আসনে জয়ী হলেও দলীয় আহ্বানে তিনি আসন ছেড়ে দেন এবং পরে উপনির্বাচনে খড়দহ থেকে পুনরায় বিধানসভায় ফিরে আসেন।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও গভীর হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের দেওয়া পাল্টা শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রস্তাবটিকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, মাসউদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।” এর ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে কার্যত আত্মসমর্পণের শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। জবাবে তেহরান যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি তোলে। এদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নতুন করে বেড়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলা ও সামরিক সতর্কতা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছেন মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি–র সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। কাতারের রাষ্ট্রীয় বিবৃতির বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, শেখ মোহাম্মদ হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের উপায় হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ জলপথে চলাচল বন্ধ বা সীমিত করা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ হুমকির মুখে পড়বে। ফোনালাপে দুই নেতা আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা করেন। কাতারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, খাদ্যপণ্য পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।