নির্বাসনে থাকা ইরানের প্রাক্তন ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি জানিয়েছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তেহরানের জন্য একটি রূপান্তর নীতি প্রস্তুত করছেন, যাতে দেশটিতে শাসন ব্যবস্থায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।
পাহলভি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যোগ্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে, যারা তার নেতৃত্বে সরকারের কার্যক্রম চালাবে। তিনি অঙ্গীকার করেছেন, ইসলামি শাসন ব্যবস্থা থেকে গণতন্ত্রে রূপান্তর নিশ্চিত করতে তিনি সরাসরি সহায়তা করবেন এবং শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে ইরানে রাজতন্ত্র পতনের পর থেকে পাহলভি নির্বাসনে আছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি নিজেকে বিরোধী নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘোষণার মধ্যে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ইরানের রাজনৈতিক সংকট ও চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস শনিবার জরুরি নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের তাত্ক্ষণিকভাবে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের শীর্ষ অগ্রাধিকার। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, জরুরি প্রয়োজনে মার্কিন নাগরিকরা স্থানীয় কনস্যুলেট বা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।
পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তান। দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত ওই অভিযানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অন্তত ১৪ সদস্য নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ এলাকায় অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ‘রাদ-উল-জুলম’ নামে পরিচালিত ওই অভিযানে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দাবি করেছে কাবুল। সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে আফগান প্রতিরক্ষা বাহিনী দেখিয়েছে যে প্রয়োজন হলে তারা সীমান্তের বাইরে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা রাখে। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে আফগান কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে হামলা অব্যাহত রেখেছে। কুনার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান জিয়াউররহমান স্পিংঘার জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় পাকিস্তানি সেনারা কুনারের বিভিন্ন এলাকায় ২৭১টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তেহরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মেরিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের ওকিনাওয়ার মার্কি ঘাঁটি থেকে ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ উভচর যুদ্ধজাহাজে করে প্রায় ২,৫০০ সদস্যের একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট ইতোমধ্যে রওনা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাহিনীই হতে পারে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সম্ভাব্য স্থলসেনা উপস্থিতি। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং সংঘাত সরাসরি স্থলযুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ আধুনিক অবতরণ সক্ষমতা সম্পন্ন একটি যুদ্ধজাহাজ, যা সমুদ্র থেকে দ্রুত স্থলভাগে সেনা মোতায়েনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে মেরিন সেনা পরিবহন ছাড়াও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম ও অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, খারগ দ্বীপে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরান–মার্কিন উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।