রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিভিন্ন অসাংবিধানিক উদ্যোগ ও ষড়যন্ত্রের মুখে তিনি দৃঢ় ছিলেন, যার ফলে কোনো চক্রান্তই সফল হয়নি।
সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে তাকে অপসারণের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিএনপি এবং তাদের জোটসঙ্গীরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় শতভাগ সমর্থন জানিয়েছিল। তিনি বলেন, “বিএনপি ও তাদের জোটের একাংশ আমার পাশে ছিলেন, তাই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে।”
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, ওই সময় তিন বাহিনীর প্রধানরা তাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং বঙ্গভবনের সামনে মব সৃষ্টির পরও তারা দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশ সফর ও সরকারি অনুষ্ঠানে তাকে অংশগ্রহণে বাধা দিয়েছিল এবং রাষ্ট্রপতির সরকারি ছবি ও বাণী গণমাধ্যমে প্রচার বন্ধ করেছিল।
সাহাবুদ্দিনের বক্তব্যে প্রতিস্পষ্ট হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা এবং সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, তবে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ও রাজনৈতিক সহযোগিতার কারণে এসব ষড়যন্ত্র কোনো সুফল পায়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের জন্য নতুন কমিশন গঠন করা হবে। কমিশন গঠন হলে তদন্ত শেষে তার সুপারিশ অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া চালানো হবে। তিনি বলেন, এটি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী জানান, চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে লটারির মাধ্যমে ওসি-এসপি নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে; অনেককে সেই জেলা বা পদে দেয়া হয়েছে যেখানে তারা কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের কিছু মামলায় সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর কারণে সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হয়েছেন। এসব ঘটনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করবে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–এর চিফ প্রসিকিউটর পদে মো. আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। সলিসিটর মো. মঞ্জুরুল হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে উল্লেখ করা হয়, ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার স্বার্থে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করবেন। একইসঙ্গে পূর্বে জারি করা তাজুল ইসলামের নিয়োগাদেশ বাতিল করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত একাধিক মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়। বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২–এ বিচারকার্য চলমান রয়েছে; কয়েকটি মামলায় রায় ঘোষিত হয়েছে এবং আরও কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
দেশের ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে একুশে ফেব্রুয়ারির আলোচনা সভায় এই ঘোষণা দেন। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে এই কার্ডের মাধ্যমে নগদ অর্থ সরবরাহ করা হবে এবং প্রতিটি কার্ডের মালিক হবেন পরিবারের নারী সদস্য। স্বপন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুসারে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার ওপর সরকারের কার্যক্রমেরও কথা উল্লেখ করেন, উল্লেখ করে যে আগামী ৩০–৪০ বছরে দেশের বড় অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মন্ত্রী বরিশালের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন, যার মধ্যে ভোলার গ্যাস সরবরাহ, বনগাঁ থেকে পায়রা পর্যন্ত ফোরলেন সড়ক নির্মাণসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত উদ্যোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনজুরুল আলম, পুলিশ সুপার মো. ফারজানা ইসলাম ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা।