ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর দুই দিনের রিমান্ড আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
লালবাগ থানায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ডিবি তাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত সংস্থার দাবি, পলাতক আসামিদের অবস্থান খুঁজে বের করা, গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যসংগ্রহের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। তবে আদালত এই আবেদন নামঞ্জুর করে।
মামলার বাদী মো. আশরাফুল ফাহিম অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনের সময় পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে তার বাঁ চোখ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই আঘাতের কারণে তার বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির সময় প্রায় ৩১ জন আন্দোলনকারী নিহত হয়েছেন। তদন্তে জানা গেছে, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ও তৃতীয় আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যান্য আসামিরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সাবেক সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচিত কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে হত্যার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২৩ মার্চ বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন। এর আগে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলায় তার কয়েক দফা রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল। তদন্তে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. রায়হানুর রহমান তাকে আদালতে হাজির করেন এবং হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী মামলার সঙ্গে জড়িত এবং ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।” মাসুদ উদ্দিন আদালতে বলেন, “মামলায় আমার সামান্যতম সম্পৃক্ততা নেই।” আদালত তার বক্তব্যের পর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। হত্যা মামলায় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর আওয়ামী লীগের ৫শ’–৭শ নেতাকর্মী দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়া আন্দোলনকারী দেলোয়ার হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই মারা যান। এই রিমান্ডের মাধ্যমে তদন্তকারীরা হত্যার ঘটনার পলাতক আসামিদের অবস্থান ও প্রমাণ সংগ্রহে তৎপর হবেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দেশজুড়ে হামের টিকার সঠিক সংরক্ষণ না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রান্তিক এলাকার অনেক টিকাকেন্দ্রে নির্ধারিত ২–৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রাখা হচ্ছে না, যা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ করছে। মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য খাতের ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কিছু কোম্পানিকে সুবিধা প্রদানের প্রবণতা রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতকে ১০০ শতাংশ দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও সফলতা নির্ভর করছে প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও ওষুধ কোম্পানির সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর। স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়ন ও জনসুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই তিন খাতকে নৈতিকতার এক সূত্রে আবদ্ধ করা জরুরি, উল্লেখ করেন মন্ত্রী। উল্লেখযোগ্য, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২ এপ্রিল ও সারা দেশে ৩ মে থেকে শতভাগ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
দীর্ঘ সময় পর শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা পুনর্বিন্যাসে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রায় ১৭ বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা উৎসব ভাতা চলতি বছরে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত এই ভাতা বৃদ্ধি দ্রুত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে আসন্ন ঈদুল আজহার পূর্বেই তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। অন্যদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পে-স্কেল কাঠামো পুনর্বিবেচনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, উৎসব ভাতা বৃদ্ধি ও বেতন কাঠামোর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদার হবে এবং পেশাগত স্থিতিশীলতা ও আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।