রাজধানীর কদমতলীর আল বারাকা হাসপাতালের পাশে একটি গ্যাসলাইট কারখানায় শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
স্থানীয়রা প্রথমে কারখানার ভেতরে ধোঁয়া দেখতে পান, পরক্ষণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গ্যাসলাইট কারখানায় দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট কাজ করছে।
কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন, এখনও পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন পাশের ভবনগুলোতে ছড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় দিনব্যাপী সফরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টিটিসি এবং ভূমি অফিস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি দেশের নির্ধারিত মানদণ্ডের মধ্যে পড়ে না। তিনি জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত জায়গা ও জনবল—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না এবং চিকিৎসকরা কাজ করতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত পুনরায় চালু করার আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই কাজ দ্রুত শুরু করতে পারলে রোগীদের সেবার মান অনেক উন্নত হবে।” শামা ওবায়েদ বলেন, বরাদ্দ থাকলেও তা সঠিকভাবে কাজে লাগেনি এবং অনিয়ম বা দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “সকল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিক ও কার্যকর করে তুলতে সরকার কাজ করছে।” এছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এখনো জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে কিছু সমন্বয় হতে পারে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বর্তমান সরকারের নীতির প্রশংসা করে বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।” সফরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে জামালপুর পৌর শহরের বাইপাস এলাকায় জমকালো আলোকসজ্জার মধ্যেই চলছে ১০ দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলা। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের আয়োজনে শুরু হওয়া এ মেলায় প্রায় ৯০টি স্টল নিয়ে বিভিন্ন জেলার উদ্যোক্তারা অংশ নিয়েছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টায় সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় নাগরদোলা, নৌকা রাইডসহ বিভিন্ন বিনোদন চালু রয়েছে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলায় দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। স্থানীয়দের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও মেলায় আলোকসজ্জা ও কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন। তবে সচেতন মহল বলছে, এভাবে নির্দেশনা অমান্য করা ঠিক নয় এবং সবাইকে নিয়ম মেনে চলা উচিত। এ বিষয়ে বিসিকের সহকারী পরিচালক সম্রাট আকবর জানান, মেলার অনুমতি জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইফতেখার ইউনুস বলেন, এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন তার জানা নেই। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শেরপুরের নালিতাবাড়ীর হাজী সাইজ উদ্দিন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে বাইকাররা চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অবহেলা ও প্রশাসনের দুর্বল তদারকির কারণে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন নিজ দায়িত্ব পালন না করে নিজেই তেল নিতে ব্যস্ত ছিলেন। এতে তেল সরবরাহ কার্যক্রমে কোনো শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও প্রবেশ ও বাহিরের পথে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ফলে দুই পাশ থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মোটরসাইকেল প্রবেশ করায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে তেল সংগ্রহের পরও অনেক বাইকারকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে এবং তেল নিতে আসা বাইকাররা বড় সমস্যা নিয়ে দাড়িয়ে থাকেন।