ফেনীতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব জাতীয় সংসদে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সুনাগরিক ফোরাম, ফেনী।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত মানববন্ধনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া এবং পরিচালনা করেন প্রধান সমন্বয়কারী মোরশেদ হোসেন।

বক্তারা বলেন, ২৫ জানুয়ারি ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় ফেনীর জনগণ তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাজপথে আন্দোলন ও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ফেনী জর্জ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন মোর্শেদ, শিক্ষাবিদ শাহাদাত হোসেন বাদল, পিআরপি চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য শরীফুল ইসলাম অপু, সামাজিক সংগঠক ওসমান গনি রাসেল, সাংবাদিক নুরুজ্জামান সুমন, আব্দুল বারিক, শামিম ভূঁইয়া, এবি পার্টির নারী নেত্রী জাহানারা আক্তার মনি, আলোকিত বাংলার সম্পাদক এ এম মোরশেদ শিবলী, ট্রাভেল এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি এস আলম অপু ও পল্লী চিকিৎসক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুছ ছালামসহ আরও অনেকে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তলব ও তদন্ত চলছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিজের মালিকানাধীন একটি গাড়ি অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাসসকে ভাড়া দিয়েছিলেন, যা মাসে দেড় লাখ টাকায় চুক্তিভিত্তিক ছিল। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে, কারণ এমডি পদে থাকার সময় তাঁর নিজস্ব ব্যবহারার্থে সংস্থার গাড়িও ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দুই বছরের জন্য এমডি হিসেবে নিয়োগ পান মাহবুব মোর্শেদ। বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বাসসে কর্মীদের বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়ে তিনি অফিস ত্যাগ করেন। ১ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে। তদন্ত কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে গাড়িভাড়া ছাড়াও নিজের বেতন-ভাতা নির্ধারণ, পদ না থাকলেও নিয়োগ, কর্মীদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ পেয়েছে। নথিপত্রে দেখা যায়, মাহবুব মোর্শেদ নিজ উদ্যোগে মাসিক বেতন ও বিশেষ ভাতা নির্ধারণ করে মোট প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা গ্রহণ করতেন। এছাড়া বিভিন্ন বিলও তিনি আলাদাভাবে উত্তোলন করেছেন। বাসস সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর সময়ে নতুন পদ তৈরি না করেই ২২ জনকে স্থায়ী ও ৪১ জনকে খণ্ডকালীন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমন পদে দায়িত্ব দেওয়ায় সংস্থার ভাতা কাঠামো অমান্য হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এই প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাপনা পর্ষদ এবং সরকারী তদারকি ছিল অজ্ঞাত। এই ঘটনায় সরকারের অনুসন্ধান কমিটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে, তবে প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। অনুসন্ধানকারীরা মনে করছেন, এমডি পদে থাকা অবস্থায় ব্যক্তিগত স্বার্থ সংস্থার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় এটি গুরুতর প্রশাসনিক ও আইনগত ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজধানীর কদমতলীর আল বারাকা হাসপাতালের পাশে একটি গ্যাসলাইট কারখানায় শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। স্থানীয়রা প্রথমে কারখানার ভেতরে ধোঁয়া দেখতে পান, পরক্ষণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গ্যাসলাইট কারখানায় দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন, এখনও পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন পাশের ভবনগুলোতে ছড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রাম এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহত অন্তত ১০ জনের মধ্যে ৭ জনকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়দের তথ্যে জানা গেছে, হেমায়েত মাতুব্বর ও ফারুক মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ জমি মাপার সময় কথাকাটাকাটি থেকে হাতাহাতিতে রূপ নেয়, পরে প্রায় ২০০–৩০০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সালথা থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।