সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে জামালপুর পৌর শহরের বাইপাস এলাকায় জমকালো আলোকসজ্জার মধ্যেই চলছে ১০ দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলা। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের আয়োজনে শুরু হওয়া এ মেলায় প্রায় ৯০টি স্টল নিয়ে বিভিন্ন জেলার উদ্যোক্তারা অংশ নিয়েছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টায় সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় নাগরদোলা, নৌকা রাইডসহ বিভিন্ন বিনোদন চালু রয়েছে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলায় দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে।
স্থানীয়দের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও মেলায় আলোকসজ্জা ও কার্যক্রম বন্ধ না হওয়ায় তারা পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন। তবে সচেতন মহল বলছে, এভাবে নির্দেশনা অমান্য করা ঠিক নয় এবং সবাইকে নিয়ম মেনে চলা উচিত।
এ বিষয়ে বিসিকের সহকারী পরিচালক সম্রাট আকবর জানান, মেলার অনুমতি জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইফতেখার ইউনুস বলেন, এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন তার জানা নেই। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ফুটবল খেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতির জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে মুনসুরাবাদ এলাকার যুবকেরা ফুটবল খেলার জন্য মাইকিং করার সময় পাশ্ববর্তী খাপুরা গ্রামের যুবকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। সেই ঘটনার জের ধরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেলে খাপুরা গ্রামের দুই যুবককে মারধরের অভিযোগ ওঠে, যার প্রতিশোধ নিতে খাপুরা গ্রামের লোকজন পাল্টা হামলা চালিয়ে মুনসুরাবাদ বাজার কমিটির সভাপতি জিন্নাত মোল্লাকে আঘাত করেন। এরপর দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র—ঢাল, সরকি, রামদা এবং ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভাঙ্গা থানার এসআই মামুন জানিয়েছেন, “পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে।”
রাজশাহীর নওহাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাঁচ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের ঢাকায় ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে, কারণ তারা ভুয়া চাহিদাপত্র তৈরি করে ফিলিং স্টেশন থেকে ৩০০ লিটার পেট্রোল ও অকটেন উত্তোলনের চেষ্টা করেছিল। প্রত্যাহার হওয়া পাঁচজন হলেন—লিডার রবিউল আলম, গাড়িচালক আজিজুর রহমান এবং ফায়ার ফাইটার জাকির হোসেন, ইয়াসির আরাফাত ও আব্বাস আলী। স্টেশন ইনচার্জ ওয়ারহাউস ইন্সপেক্টর নিরঞ্জন সরকার জানান, তিনি ছুটিতে থাকাকালীন এ ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে অভিযুক্তরা স্টেশন ত্যাগ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত লিডার রবিউল আলম অফিসের নামে ভুয়া চাহিদাপত্র তৈরি করে একটি সরকারি গাড়িতে ড্রাম ও ব্যারেল নিয়ে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশনে প্রথমে ২০০ লিটার পেট্রোল এবং পরে ১০০ লিটার অকটেন উত্তোলনের চেষ্টা করেন। পুলিশের সন্দেহের কারণে পরে জ্বালানি ফেরত নেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে চেয়েছিলেন। এটি সরকারি সম্পদের অপব্যবহার হিসেবে ধরা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রমাণিত হলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন বলেছেন, নগরীকে একটি বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। শ্যামা সুন্দরী খাল, কেডি ক্যানেল, ইছামতি, কুকরুল বিল ও চিকলী বিলসহ নগরীর খালগুলো পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করতে পারলে নগরবাসী এবং প্রকৃতিও সুফল পাবে। তিনি দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত খাল সংস্কারে সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর টাউনহলে অনুষ্ঠিত তিস্তা নদী ও খাল সংরক্ষণ বিষয়ক গ্রীন ভয়েস বিভাগীয় পরিবেশ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রংপুর সিটি দেশের দরিদ্রতম সিটি হওয়ায় উন্নয়নে বরাদ্দ সীমিত, তবুও নগরবাসীর অধিকার সুরক্ষায় তিনি প্রশাসক হিসেবে নয়, সেবক হিসেবে কাজ করতে চান। প্রশাসক আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের যুবকরা পরিবেশ রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তাদের সচেতনতা ভবিষ্যতের বাসযোগ্য নগরী নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। গ্রীন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবির বলেন, শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণের ইতিহাস রয়েছে। আজকের শিক্ষার্থীরাই পরিবেশবান্ধব দেশ গড়ার মূল শক্তি। পরিবেশ রক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন, খরা, বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে রংপুর বিভাগের পরিবেশ সংকট ও জীবিকায় ঝুঁকি তুলে ধরা হয়। দেশীয় বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনারও আহ্বান জানানো হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে “যুবরাই লড়বে সবুজ পৃথিবী গড়বে” শ্লোগান সামনে রেখে দুইদিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন হয়। এতে রংপুর বিভাগের গ্রীন ভয়েসের ৪০টি ইউনিটের ৫০০’র বেশি প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংগঠন, সুধীজন ও গণমাধ্যমসহ প্রায় ৬০০ জন অংশগ্রহণ করেছেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো তরুণ সমাজকে পরিবেশ রক্ষায় সচেতন করা এবং ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা তৈরি করা।