ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ফুটবল খেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতির জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে মুনসুরাবাদ এলাকার যুবকেরা ফুটবল খেলার জন্য মাইকিং করার সময় পাশ্ববর্তী খাপুরা গ্রামের যুবকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। সেই ঘটনার জের ধরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বিকেলে খাপুরা গ্রামের দুই যুবককে মারধরের অভিযোগ ওঠে, যার প্রতিশোধ নিতে খাপুরা গ্রামের লোকজন পাল্টা হামলা চালিয়ে মুনসুরাবাদ বাজার কমিটির সভাপতি জিন্নাত মোল্লাকে আঘাত করেন। এরপর দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র—ঢাল, সরকি, রামদা এবং ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভাঙ্গা থানার এসআই মামুন জানিয়েছেন, “পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে।”
রাজধানীর কদমতলীর আল বারাকা হাসপাতালের পাশে একটি গ্যাসলাইট কারখানায় শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। স্থানীয়রা প্রথমে কারখানার ভেতরে ধোঁয়া দেখতে পান, পরক্ষণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, গ্যাসলাইট কারখানায় দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন, এখনও পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন পাশের ভবনগুলোতে ছড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রাম এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহত অন্তত ১০ জনের মধ্যে ৭ জনকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়দের তথ্যে জানা গেছে, হেমায়েত মাতুব্বর ও ফারুক মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ জমি মাপার সময় কথাকাটাকাটি থেকে হাতাহাতিতে রূপ নেয়, পরে প্রায় ২০০–৩০০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সালথা থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীলফামারীতে হামের উপসর্গ নিয়ে একের পর এক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বর, কাশি ও শরীরে র্যাশ নিয়ে অসুস্থ ৬ শিশুকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন বিভাগে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আক্রান্তদের মধ্যে ডিমলা ও ডোমার থেকে একজন করে এবং সদর উপজেলা থেকে চারজন শিশু রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিনে এসব শিশু একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে। সংক্রমণের আশঙ্কায় তাদের আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ বলা যাচ্ছে না। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নীলফামারীর সিভিল সার্জন আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সতর্কতা ও টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।