জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যে দেশে ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পৌঁছাবে। পাশাপাশি অকটেনের সরবরাহ ধরা হয়েছে ৭১ হাজার মেট্রিক টন এবং পেট্রোল আসছে ৩৬ হাজার মেট্রিক টন।
তথ্যটি মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তান দাম ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে, শ্রীলঙ্কা রেশনিং ও কাজের সময় কমিয়েছে, এবং ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপালে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাংলাদেশে শিল্প ও জনজীবনের স্বার্থে এপ্রিল মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, “জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি আইন অনুযায়ী মাসিক সমন্বয় করা হয়। গত মাসে দাম বাড়ানো হয়নি। আগামী মাসের সমন্বয় পর্যবেক্ষণ করে মন্ত্রিসভায় আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাতকে সুরক্ষা দিচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর দুই দিনের রিমান্ড আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। লালবাগ থানায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ডিবি তাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত সংস্থার দাবি, পলাতক আসামিদের অবস্থান খুঁজে বের করা, গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যসংগ্রহের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। তবে আদালত এই আবেদন নামঞ্জুর করে। মামলার বাদী মো. আশরাফুল ফাহিম অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনের সময় পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে তার বাঁ চোখ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই আঘাতের কারণে তার বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির সময় প্রায় ৩১ জন আন্দোলনকারী নিহত হয়েছেন। তদন্তে জানা গেছে, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ও তৃতীয় আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যান্য আসামিরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
দেশে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় ভ্যাকসিন সংগ্রহে বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্য জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন কেনায় ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি। মন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে মহামারি মোকাবিলায় ভ্যাকসিন ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য মোট ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সিরিঞ্জ ক্রয়, পরিবহন ও শিপিং খাতেও উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়েছে। ভ্যাকসিন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে দেশ দ্রুত করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ৪৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৯০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি সংশোধিত এবং দুটি মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ (প্রথম সংশোধন)’ এবং ‘চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪ (তৃতীয় সংশোধন)’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্পের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং আধুনিকীকরণ (প্রথম সংশোধিত)’ এবং ‘গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়সীমা ও অর্থব্যয়ের যথাযথতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।